ট্রাম্পের কাছে ক্ষমা চাইলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি
নভেম্বর ১, ২০২৫
এসএমই খাতকে জাতীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ
নভেম্বর ১, ২০২৫
ট্রাম্পের কাছে ক্ষমা চাইলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি
নভেম্বর ১, ২০২৫
এসএমই খাতকে জাতীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ
নভেম্বর ১, ২০২৫

গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ‘হিমাগারে’ পাঠিয়েছে সরকার

 

কমিশনের প্রধান শিরীন পারভিন হক বলেন, আমরা নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে কমিশন থেকে বিভিন্ন সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তু সেগুলো নিয়ে সরকার তেমন কোনো কাজ করেনি। উল্টো বিভিন্ন মহল থেকে গালি শুনতে হয়েছে। একটি মহল থেকে বলা হয়েছে, সংস্কার প্রস্তাব ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলতে। আবার কেউ কেউ বলেছে, কমিশনকেই ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলতে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, এটি অনেকেই চায় না।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল বৈষম্য দূরীকরণের জন্য। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনসহ বেশ কয়েকটি সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল সরকার। কিছু কিছু কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে ঐক্যমত্য কমিশন কাজ করলেও নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশকে সরকার ‘হিমাগারে’ পাঠিয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে শনিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ভূমি, কৃষিসহ সকল প্রাকৃতিক সম্পদ ও সম্পত্তিতে নারীর অধিকার: সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন নারী অধিকার কর্মীরা। অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও স্ট্যান্ড ফর হার ল্যান্ড যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

 

এ সময় নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভিন হক বলেন, নারীরা বরাবরই বৈষম্যের শিকার। তারা কৃষি থেকে শুরু করে সব খাতেই কাজ করেন, কিন্তু মজুরি পান পুরুষের তুলনায় কম। আমরা নারীর প্রতি এসব বৈষম্য দূরীকরণে কমিশন থেকে বিভিন্ন সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তু সেগুলো নিয়ে সরকার তেমন কোনো কাজ করেনি। উল্টো বিভিন্ন মহল থেকে গালি শুনতে হয়েছে। একটি মহল থেকে বলা হয়েছে, সংস্কার প্রস্তাব ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলতে। আবার কেউ কেউ বলেছে, কমিশনকেই ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলতে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, এটি অনেকেই চায় না।

স্ট্যান্ড ফর হার ল্যান্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি লিড খুশী কবিরের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এএলআরডির উপ নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পারিবারিক সম্পত্তির বণ্টন ধর্মভিত্তিক পারিবারিক আইন ও আদিবাসী বা অন্য জাতিসত্তার ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও নিজস্ব প্রথাগত আইনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। অধিকাংশ মুসলিম পরিবারের ক্ষেত্রে পুরুষ সদস্যদের (স্বামী, পিতা বা শ্বশুর) নামে জমি নিবন্ধিত থাকে। ফলে, নারীরা সেই জমির ওপর স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এতে করে সরকারি প্রকল্প, সহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে পড়েন। কেউ কেউ পারিবারিক সূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার কথা বললেও বাস্তবে দখল বুঝে পান না। জমিগুলো তাদের ভাইয়েরা চাষাবাদ ও ভোগদখল করেন। অর্থাৎ মৌখিকভাবে ভাগ মেনে নিলেও নারীরা জমির নিয়ন্ত্রণ বা লিখিত দস্তাবেজ তেমন পান না।

গোলটেবিল আলোচনায় সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান, নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য ফেরদৌসী সুলতানা, বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনী ত্রিপুরা, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা । এতে নারী অধিকারকর্মী, উন্নয়নকর্মী, মানবাধিকার কর্মী এবং তৃণমূল থেকে নারী প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *