গাজায় ভয়াবহ ক্ষুধা সংকট চলছে: ডব্লিউএইচও
অক্টোবর ২৪, ২০২৫
আসন্ন নির্বাচনে ব্যর্থ হলে ইউনূস সরকারকে ক্ষমা করবে না জনগণ : ফয়জুল করীম
অক্টোবর ২৪, ২০২৫
গাজায় ভয়াবহ ক্ষুধা সংকট চলছে: ডব্লিউএইচও
অক্টোবর ২৪, ২০২৫
আসন্ন নির্বাচনে ব্যর্থ হলে ইউনূস সরকারকে ক্ষমা করবে না জনগণ : ফয়জুল করীম
অক্টোবর ২৪, ২০২৫

ব্যাট-বলের কর্তৃত্বে বড় জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের ২-১-এ হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের ২-১-এ হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করল মেহেদী হাসান মিরাজের দল। বাংলাদেশের করা ২৯৬ রানের জবাবে সফরকারীরা ৩০.১ ওভারে ১১৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। প্রথম ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও বাংলাদেশের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয় শাই হোপের দল। নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন তিনটি করে এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ও তানভীর ইসলাম দুটি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন।

আগে ব্যাটিং করে তিনশ ছুঁইছুঁই সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ওপেনিং জুটিতেই ১৭৬ রান তুলে দেন সৌম্য সরকার (৮৬ বলে ৯১) ও সাইফ হাসান (৭২ বলে ৮০)। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ধীরগতির পিচটা গোটা সিরিজেই ছিল বিপজ্জনক। গতকাল সেই পিচেই কিনা সাবলীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের কাজটা সহজ করে দেন দুজন। তাদের আউটের পর ২৩৭ রানে পড়েছে ১৮ উইকেট! এটাই প্রমাণ করে, কঠিন উইকেটে কতটা ভালো ব্যাটিং করেন সাইফ ও সৌম্য। এ পথে তারা রেকর্ডও গড়েছেন।

ওয়ানডেতে ওপেনিং জুটিতে এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে ২৯২ রান তুলে রেকর্ড গড়েছিলেন লিটন দাস ও তামিম ইকবাল। আর সব উইকেট মিলিয়ে এটা বাংলাদেশের নবম সর্বোচ্চ রানের জুটি। তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটিতেও আছে সৌম্যর নাম। ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে ২২০ রান তুলেছিলেন সৌম্য ও ইমরুল কায়েস, যেটা দেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি।

২০২৩ সালের মার্চের পর এই প্রথম ওয়ানডেতে ওপেনিং জুটিতে শতরান পেল বাংলাদেশ। সিলেটে সেই ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১০২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছিলেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস।

সৌম্য ও সাইফের দাপটে ২১.২ ওভারেই দেড়শ রান পেয়ে যায় বাংলাদেশ। যদিও পরে এ গতি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের মিডল ও লোয়ার অর্ডার। প্রথম ১২৮ বলে বাংলাদেশ বিনা উইকেটে ১৫০ রান করলেও পরের ১৭২ বলে এসেছে মাত্র ১৪৬ রান। এ সময় ৮ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। প্রথম ২৫ ওভারে স্কোর ছিল ১৭৬-০, পরের ২৫ ওভারে ১২০-৮। তাই বলাই যায়, প্রথম ২৫ ওভারে নির্ভীক বাংলাদেশ পরের ২৫ ওভারে বিপর্যস্ত। এর পরও স্পিনারদের কল্যাণে বড় জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছে মিরাজের দল।

বাংলাদেশ জিতেছে ১৭৯ রানে, ওয়ানডেতে যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়। সবচেয়ে বড় জয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০২৩ সালে আইরিশদের ১৮৩ রানে হারানোর কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগের বড় জয় ছিল ১৬০ রানের, ২০১২ সালে খুলনায়। এ জয়ে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে টানা সিরিজ হারের ধারাবাহিকতা থেকে বের হলো বাংলাদেশ। টানা চারটি সিরিজ হারার পর প্রথম সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের মার্চে ঘরের মাঠে শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।

ওয়ানডেতে এ নিয়ে ৫০ বারের মোকাবেলায় জয় প্রায় সমানে সমান। ক্যারিবীয়রা জিতেছে ২৪টি, বাংলাদেশের জয় ২২টি। সিরিজ জয়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। টাইগাররা জিতেছে সাতটি সিরিজ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছয়টি।

সিরিজ হারের পর ক্যারিবীয় দলনায়ক শাই হোপ প্রশংসায় ভাসান বাংলাদেশের দুই ওপেনারকে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের দুই ওপেনারকে অবশ্যই কৃতিত্ব দিতে হবে, বিশেষ করে শুরুর দিকের ব্যাটিংয়ের জন্য। এ সিরিজে ব্যাটারদের জন্য কাজটা কঠিন ছিল, কিন্তু তারা যেভাবে শুরু থেকে খেলেছে তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।’

এবার দুই দলের টি-টোয়েন্টি লড়াই। ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামে শুরু হবে ২০ ওভারের তিন ম্যাচের সিরিজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *