প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্রের আইআরআই
অক্টোবর ২২, ২০২৫
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা কার্যকরে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে
অক্টোবর ২২, ২০২৫
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্রের আইআরআই
অক্টোবর ২২, ২০২৫
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা কার্যকরে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে
অক্টোবর ২২, ২০২৫

স্পিন বোলিংয়ে রেকর্ডের দিনে সুপার ওভারে ১ রানে হারল বাংলাদেশ

লো-স্কোরিং ম্যাচে রোমাঞ্চকর লড়াই দেখল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের দর্শক। গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ১০০ ওভারের লড়াই শেষেও আলাদা করা যায়নি দুই দলকে।

লো-স্কোরিং ম্যাচে রোমাঞ্চকর লড়াই দেখল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের দর্শক। গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ১০০ ওভারের লড়াই শেষেও আলাদা করা যায়নি দুই দলকে। বাংলাদেশের ২১৩ রানের জবাবে ৫০ ওভার শেষে ক্যারিবীয়রাও তুলল সমান ২১৩ রান! ফলে ‘টাই’ হয়ে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে, যাতে ১ রানে জয় পায় সফরকারীরা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে যেকোনো ফরম্যাটে এ প্রথম কোনো ম্যাচ ‘টাই’ হওয়ার ঘটনা ঘটল। এর আগে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৮১৩ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ, যার মধ্যে ওয়ানডে ছিল ৪৫৩টি, টি-টোয়েন্টি ১৫৪টি। যদিও গতকালই প্রথম শেরেবাংলায় ‘টাই’ ও ‘সুপার ওভার’-এর সাক্ষী হলেন মিরাজ, শান্ত, মুস্তাফিজরা।

স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতলেও এদিন বাংলাদেশও ইতিহাসের সাক্ষী হয়। এ ম্যাচেই স্পিন বোলিংয়ে হয়েছে নতুন রেকর্ড। এ ম্যাচে ১০০ ওভারের মধ্যে ৯২ ওভারই করেছেন স্পিনাররা, যা নতুন রেকর্ড। আর সুপার ওভারে আকিল হোসেনের আরেক ওভার ধরলে স্পিনাররা করেন মোট ৯৩ ওভার। আকিল হোসেন, রোস্টন চেজ, খারি পিয়েরে, গুদাকেশ মোতি ও আলিক আথানেজ—এদের মধ্যে কেউই পেস বোলার নন, সবাই স্পিনার। এ পাঁচজন মিলেই গতকাল বাংলাদেশের বিপক্ষে পুরো ৫০ ওভার বোলিং করেছেন এবং এর মধ্য দিয়ে ইতিহাস হলো ওয়ানডে ক্রিকেটে। ৫৪ বছরের ওয়ানডে ইতিহাসে এ প্রথম স্পিনাররা পুরো ৫০ ওভার বোলিং করেছেন। ওয়ানডেতে এক ইনিংসে স্পিনারদের সবচেয়ে বেশি বোলিং করার আগের রেকর্ডটি ছিল শ্রীলংকার। সিংহলিজদের মোট তিনবার ইনিংসে ৪৪ ওভার স্পিনারদের দিয়ে বোলিং করানোর রেকর্ড রয়েছে। সেই রেকর্ড ভেঙে গতকাল নতুন রেকর্ড গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ওয়ানডেতে এর আগে পেসারদের হাতে বল না দিয়ে সবচেয়ে বেশি ওভার বোলিং করার রেকর্ড ছিল ওমানের। এ বছরই যুক্তরাষ্ট্রকে ৩৫.৩ ওভারে অলআউট করেছিল ওমান। সবক’টি ওভারই করেছিলেন ওমানি স্পিনাররা। ক্যারিবীয়রা এর আগে ওয়ানডেতে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩৪ ওভার বোলিং করিয়েছিল স্পিনারদের দিয়ে। সেটি ২০০১ সালের ঘটনা, গ্রেনাডায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

এর আগে ওয়ানডেতে এক ম্যাচে স্পিনাররা সর্বোচ্চ ৭৮.২ ওভার বোলিং করেন, যা নতুনভাবে লেখা হলো ৯২ ওভার! দেরাদুনে ২০১৯ সালে আফগানিস্তান-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে আইরিশ স্পিনাররা ৩৯ ওভার ও আফগান স্পিনাররা ৩৯.২ ওভার বোলিং করেছিলেন। গতকাল মিরপুরে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ মিলে করল ৯২ ওভার।

শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তার আগে ছিল রিশাদ হোসেনের বীরত্ব। প্রথম ম্যাচে রেকর্ড ৬ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে জেতানো এ তারকা গতকাল প্রথমে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন, পরে বোলিংয়েও সেরা তিনি।

দলের বিপর্যয়ে রিশাদ যখন উইকেটে আসেন, তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৬৩ রান। বল বাকি মোটে ২৪টি। ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন উইকেটে বাংলাদেশের রান দুইশ ছাড়াবে কিনা, এ নিয়ে ছিল রাজ্যের সংশয়। কিন্তু সব শঙ্কা এক হল্কায় উড়িয়ে ১৪ বলে ৩৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে তিনি দলের সংগ্রহ দুশ ছাড়িয়ে নিলেন। ৩ ছক্কা ও ৩ চারে ৩৯ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি; স্ট্রাইক রেট ২৭৮.৫৭! এদিন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেছেন সৌম্য সরকার। ৮৯ বলে ৪৫ রান করেন এ বামহাতি ব্যাটার।

এরপর বল হাতে ৪২ রানে তিন উইকেট নেন রিশাদ। সঙ্গে দুটি করে উইকেট নেন নাসুম আহমেদ ও তানভীর ইসলাম। যদিও এক প্রান্তে বুক চিতিয়ে লড়ে যান ক্যারিবীয় দলনায়ক শাই হোপ। ৬৭ বলে ৫৩ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ভর করেই ম্যাচটি টাই করতে সমর্থ হয় ক্যারিবীয়রা। পরে সুপার ওভারে তাদের অভিজ্ঞতার কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ। তাদের ১০ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৯ রান করতে সমর্থ হয়।

আগামীকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বেলা দেড়টায় শুরু হবে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ।

পরাজয় শেষে সুপার ওভার নিয়ে বাংলাদেশ দলনায়ক মিরাজ বলেছেন, ‘এটা আমাদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। এটাই আমাদের প্রথম সুপার ওভার। সুপার ওভারে ১০ (হবে ১১) রান লাগত, একটি বাউন্ডারি মারলেই সমীকরণ সহজ হয়ে যেত। তবে আমরা তা নিতে পারিনি।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২১৩/৭ (সৌম্য ৪৫, রিশাদ ৩৯*, মিরাজ ৩২; মোতি ৩/৬৫, আথানেজ ২/১৪, আকিল ২/৪১)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৫০ ওভারে ২১৩/৯ (শাই হোপ ৫৩*, কিসি কার্টি ৩৫; রিশাদ ৩/৪২, নাসুম ২/৩৮, তানভীর ২/৪২)। ফল: ম্যাচ টাই (ওয়েস্ট ইন্ডিজ সুপার ওভারে জয়ী)। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: শাই হোপ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)। সিরিজ: ১-১-এ সমতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *