সরানো হচ্ছে উড্ডয়নের অপেক্ষায় থাকা বিমানগুলো
অক্টোবর ১৮, ২০২৫
অনিয়ম-দুর্নীতিতে সায় ছিল কি শরিয়াহ বোর্ডের?
অক্টোবর ১৯, ২০২৫
সরানো হচ্ছে উড্ডয়নের অপেক্ষায় থাকা বিমানগুলো
অক্টোবর ১৮, ২০২৫
অনিয়ম-দুর্নীতিতে সায় ছিল কি শরিয়াহ বোর্ডের?
অক্টোবর ১৯, ২০২৫

অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা

কার্গো ভিলেজের আমদানি পণ্য কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তারা।

কার্গো ভিলেজের আমদানি পণ্য কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, অগ্নিকাণ্ডে শত শত টন আমদানি পণ্যের ক্ষতি হতে পারে। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর তদন্ত সাপেক্ষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য জানা যাবে। অগ্নিকাণ্ডের সময় কার্গো ভিলেজে ২ হাজার কোটি টাকার পণ্য ছিল বলে ধারণা করছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা।

আমদানি ও রফতানি পণ্য শুল্কায়ন করার আগ পর্যন্ত কার্গো ভিলেজে রাখা হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমদানি ও রফতানির জন্য আলাদা কমপ্লেক্স রয়েছে। এর মধ্যে গতকাল আমদানি পণ্য কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

বিমানবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তারা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত কম ওজনের মেশিনারিজ, দ্রুত পচনশীল বিভিন্ন ধরনের পণ্য, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী, গ্যাজেট, ইলেকট্রনিকস ও যন্ত্রাংশ, তৈরি পোশাক ও কাপড়, বাণিজ্যিক কুরিয়ার ও ডকুমেন্টসসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে রাখা হয়। কার্গো ভিলেজে সংরক্ষিত এসব পণ্যের আর্থিক মূল্য কোটি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত আমদানি করা ওষুধ, ইলেকট্রনিক পণ্য ও অন্যান্য সামগ্রীর কারণে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন, এমনটাই আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকাশপথে পরিবহন করা পণ্যের বীমা করা থাকে। তবে এ ধরনের বীমা দাবি নিষ্পত্তি করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ কম।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কার্গো ভিলেজ লম্বায় আনুমানিক ৩০০ মিটার। বিমানবন্দরের উত্তর-পূর্ব কোনায় এর অবস্থান। আমদানি কমপ্লেক্সে মোট চারটি গেট। এর মধ্যে ১ নম্বর গেট (গেট এ) দিয়ে বাণিজ্যিক যাবতীয় পণ্য আসে। দুই নম্বর গেট (গেট বি) দিয়ে আসে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাঁচা পণ্য (কেমিক্যাল)। তিন নম্বর গেট (গেট সি) দিয়ে মেশিনারিজ, অ্যাকসেসরিজসহ বিভিন্ন পণ্য আসে। আর কুরিয়ার গেট দিয়ে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের স্যাম্পল আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আসে। ৮ নম্বর গেট শুধু মরদেহ, ভিআইপি অসুস্থ ব্যক্তি আসা-যাওয়া বা জরুরি সময় এভিয়েশনের অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করা হয়। আমদানি পণ্য খালাস করার জন্য ১ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকতে পারেন। তাদের ২ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকতে দেয়া হয় না। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের ধারণা, অগ্নিকাণ্ডের সময় কার্গো ভিলেজে ২ হাজার কোটি টাকার পণ্য ছিল।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ চিহ্নিতকরণ, ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ, অগ্নিকাণ্ডের দায়দায়িত্ব চিহ্নিত করা ও ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে সুপারিশমালা তৈরির জন্য সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকা চেম্বার উদ্বেগ প্রকাশ করছে। মাত্র কয়েকদিন আগে যুক্তরাজ্য সরকারের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট (ডিএফটি, ইউকে) পরিচালিত মূল্যায়নে কার্গো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শতভাগ নম্বর পাওয়ার পর এ দুর্ঘটনা বিমানবন্দরের ভাবমূর্তির জন্য এক বড় ধাক্কা। যদিও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কার্গো নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি প্রমাণ করে, তবে এ অগ্নিকাণ্ড সেই সাফল্যের ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে। বৈশ্বিক বাণিজ্যে এবং এভিয়েশন খাতে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়াতে অবকাঠামো ও নিরাপত্তা প্রটোকলের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যের ওপর প্রভাব এড়াতে ও দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে দেশের অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কাজে লাগানোসহ দেশের আভ্যন্তরীণ বিকল্প বন্দরপথে কার্গোসহ অন্যান্য সেবার ওপর ডিসিসিআই জোর দিচ্ছে।’

বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব টাকায় পরিমাপ করা যাবে না বলে মত দিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে এহসান শামীম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘সাধারণত জরুরি রফতানি কার্যক্রমের জন্য বিমানের ব্যবহার হয়। অনেক কারখানার রফতানি পণ্যের নমুনা বা স্যাম্পল বিমানপথে আসে। আমার নিজের কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের অনুষঙ্গ বা অ্যাকসেসরিজের নমুনা কার্গো ভিলেজে ছিল। এখন সময় অনুযায়ী সেই অ্যাকসেসরিজ ব্যবহার করে ফিনিশড গুডস বা চূড়ান্ত পণ্যের নমুনা পাঠাতে না পারলে ক্রয়াদেশ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এ রকম আরো অনেকের ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। এজন্যই বলেছি যে এ ক্ষয়ক্ষতি টাকার হিসাবে মূল্যায়ন করা যাবে না এ মুহূর্তে। আমরা দ্রুততার সঙ্গে বিকেএমইএ সদস্যদের কার কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা মূল্যায়নের কাজ শুরু করব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *