চাকসু নির্বাচন: চলছে শেষ সময়ের ভোট গ্রহণ
অক্টোবর ১৫, ২০২৫
জোট যাদের নিয়ে হোক, ট্রাক প্রতীকেই নির্বাচন করব: নুরুল হক নুর
অক্টোবর ১৬, ২০২৫
চাকসু নির্বাচন: চলছে শেষ সময়ের ভোট গ্রহণ
অক্টোবর ১৫, ২০২৫
জোট যাদের নিয়ে হোক, ট্রাক প্রতীকেই নির্বাচন করব: নুরুল হক নুর
অক্টোবর ১৬, ২০২৫

আমরা সব ভুলে যাচ্ছি, সবাইকে নিয়ে সামনে এগোতে চাই: শিবির সভাপতি

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ এক যুগ পর অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে শিবির–সমর্থিত ‘সম্প্রীতি শিক্ষার্থী জোট’–এর একচেটিয়া জয়ের পর বৃহস্পতিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, আজকের এই বিজয় জুলাই যোদ্ধাদের বিজয়, জুলাই শহীদদের বিজয়। আমরা সবাই জিতে গেছি—শিক্ষার্থীরাও জিতে গেছেন। শিক্ষার্থীরা আমাদের প্রতি যে আস্থা রেখেছেন, সেই আস্থার প্রতিদান না দেওয়া পর্যন্ত আমরা থামছি না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন শিক্ষার্থীদের জন্য। যেদিন আমাদের কমিটমেন্ট পূরণ করতে পারব, সেদিন আমাদের বিজয় পূর্ণতা পাবে।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিব এবং সংগঠনের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা। ফজরের নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে তারা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ঐক্য ও শৃঙ্খলার আহ্বান জানান।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, যারা নির্বাচনে আমাদের বিরোধিতা করেছেন, বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটিয়েছেন, বিভেদ সৃষ্টি করেছেন— আমরা সব ভুলে যাচ্ছি। কারো প্রতি আমাদের অনুযোগ নেই। সবাইকে নিয়ে সামনে এগোতে চাই।

তিনি বলেন, এই নির্বাচন কেবল কিছু পদের জয় নয়, বরং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের গণ আস্থার প্রতিফলন। ‘চবি শিক্ষার্থীরা দেখিয়ে দিয়েছে, তারা শান্তি, শৃঙ্খলা আর সম্প্রীতির পক্ষে। এখন আমাদের দায়িত্ব সেই আস্থার মর্যাদা রাখা,’-যোগ করেন তিনি।

দোয়া শেষে নবনির্বাচিত নেতারা মসজিদের বাইরে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান করেন। অনেকে আলিঙ্গন করে পরস্পরকে অভিনন্দন জানান। কেউ কেউ কাঁদছিলেনও। ফজরের আলো ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসের পরিবেশে মিশে যায় বিজয়ের স্লোগান ‘জুলাই শহীদের রক্ত বৃথা যায়নি, চবি জেগেছে আবার।’

দীর্ঘ এক যুগ পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ‘সম্প্রীতি শিক্ষার্থী জোট’ ২৬টির মধ্যে ২৪টি পদে বিজয়ী হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শিবির–সমর্থিত প্যানেলের এই একচেটিয়া জয় শুধু সংগঠনের নয়—চবি রাজনীতিতে একটি নতুন ভারসাম্যের সূচনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *