পাল্টাপাল্টি হামলায় বহু হতাহতের দাবি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের
অক্টোবর ১৩, ২০২৫
এআই বন্ধ করার সুইচ নেই, সচেতন ব্যবহারই নিরাপদ পথ
অক্টোবর ১৩, ২০২৫
পাল্টাপাল্টি হামলায় বহু হতাহতের দাবি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের
অক্টোবর ১৩, ২০২৫
এআই বন্ধ করার সুইচ নেই, সচেতন ব্যবহারই নিরাপদ পথ
অক্টোবর ১৩, ২০২৫

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ফিরেছেন ফিলিস্তিনিরা, খুঁজছেন প্রিয়জনকে

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার স্থগিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজার উত্তরে বহু বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি বিধ্বস্ত শহরে ফিরছেন।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার স্থগিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজার উত্তরে বহু বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি বিধ্বস্ত শহরে ফিরছেন। গত দুই বছরে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় অন্তত ৬৭ হাজার ৮০৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৬ জন আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই সাধারণ নাগরিক, যাদের মধ্যে অনেকেই নারী ও শিশু।

 

দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা ১১৭ জনসহ মোট ১২৪ জনের মরদেহ গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে পৌঁছেছে। একই সময় ৩৩ জন আহত হয়েছেন। এখনো প্রায় সাড়ে নয় হাজারের মতো নিখোঁজ রয়েছেন।

 

মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ ও সড়কে আরো অনেক ব্যক্তি আটকা পড়ে আছেন, যাদের কাছে অ্যাম্বুলেন্স ও সিভিল ডিফেন্স টিম এখনো পৌঁছতে পারেনি।

গাজার হামাস পরিচালিত সিভিল ডিফেন্সের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, শান্তিচুক্তির পর থেকে প্রায় তিন লাখের বেশি মানুষ শহরে ফিরে এসেছেন। তবে তাদের থাকার জন্য পর্যাপ্ত তাঁবু বা বাড়ি নেই। স্থানীয় ত্রাণ সংস্থা জানিয়েছে, গাজার ১৫ লাখ মানুষের জন্য প্রায় তিন লাখ অস্থায়ী তাঁবু প্রয়োজন। ইসরায়েলি বাহিনী কিছু অংশ থেকে প্রত্যাহার করার পর বহু পরিবার ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িতে ফিরে আসছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজার নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য হামাস প্রায় সাত হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করেছে। এছাড়া পাঁচজন নতুন গভর্নর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গাজার সাবরা অঞ্চলে দুঘমুশ গোত্রের হাতে হামাসের দুজন সদস্য নিহত হন। এতে হামাস ওই এলাকা ঘেরাও করে এবং প্রায় ৩০ জনকে আটক করে।

আসন্ন সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের নেসেটে ভাষণ দেবেন। এরপর তিনি মিসরের শার্ম এল শেখে বিশ্ব নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন, যেখানে গাজা যুদ্ধের অবসান ও শান্তি আলোচনা হবে।

এদিকে সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ফুটেজে দেখা গেছে, মিসরের রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজায় ঢুকেছে কয়েক ডজন ট্রাক মানবিক সাহায্য। ট্রাকে রয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জাম, তাঁবু, কম্বল, খাবার ও জ্বালানি। কেরেম শালোম সীমান্তে ইসরায়েলি সেনাদের পরীক্ষা শেষে এগুলো গাজায় প্রবেশ করবে। সিওজিএটি জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৬০০ ট্রাক সহায়তা গাজায় পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।

শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে আজকের মধ্যে ৪৮ জন ইসরায়েলি বন্দি মুক্তি পাবেন। এর বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। যার মধ্যে ২৭০ জন দণ্ডপ্রাপ্ত ও বাকি ১ হাজার ৭০০ জন বিনা বিচারে আটক ছিলেন। এদের মধ্যে রয়েছে ২২ জন কিশোর। এছাড়া গাজার ৩৬০ জন যোদ্ধার মরদেহও ফেরত দেবে ইসরায়েল।

ইসরায়েল প্রথম ধাপে ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি দেবে বলে জানানো হয়েছে। তবে হামাসের দাবি, এ তালিকায় কিছু বিশিষ্ট নেতাকে (যেমন মারওয়ান বারঘুতি ও আহমদ সাদাত) অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এদের মুক্তির জন্য হামাস চাপ প্রয়োগ করছে বলে জানায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনায় বিষয়টি ঝুলে আছে এবং চুক্তির বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতে পারে বলেও বিবিসির প্রতিবেদনে ইঙ্গিত রয়েছে।

মার্কিন সেনাবাহিনী ২০০ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স চুক্তি পর্যবেক্ষণে মোতায়েন করবে, তবে তারা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রবেশ করবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *