এলপিজির দাম কমাতেই হবে —মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
অক্টোবর ১২, ২০২৫
৫০টিরও বেশি ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
অক্টোবর ১২, ২০২৫প্রতিনিয়ত আমাদের গ্যাস সরবরাহ কমে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে গ্যাস নিঃশেষ হয়ে গেলে কোন উৎস থেকে চাহিদা মেটাব তার পরিকল্পনা আমাদের এখনই করতে হবে। কেননা জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে; বাড়াতে হবে।
প্রতিনিয়ত আমাদের গ্যাস সরবরাহ কমে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে গ্যাস নিঃশেষ হয়ে গেলে কোন উৎস থেকে চাহিদা মেটাব তার পরিকল্পনা আমাদের এখনই করতে হবে। কেননা জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে; বাড়াতে হবে। অবকাঠামোগত দিক থেকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে তুলনামূলক সহজতর প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণের কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে জোর দিতে হবে। আর সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এখনই। এটি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেই সঙ্গে দেশের উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হবে।
আমরা ১৮ কোটি মানুষের কাছে জ্বালানি পৌঁছে দিতে পারিনি। জ্বালানি সরবরাহ যেকোনো মূল্যে বাড়াতে হবে এবং তা সুলভ মূল্যে পৌঁছে দিতে হবে মানুষের দোরগোড়ায়। আমাদের প্রাথমিক জ্বালানির ৬৫ শতাংশ আমদানি করা হয়।
রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা সব অনিষ্টের মূল হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন জ্বালানি উপদেষ্টা। আসলে বিষয়টি ঠিক এ রকম না। এ সেক্টরে বিদ্যমান সমস্যাগুলো কীভাবে সংশোধন করা যায় তা নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা যতই উন্নয়ন পরিকল্পনা চাই না কেন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে সেটি ব্যর্থ হবে। কেননা যতই উন্নয়নের দিকে এগোবে জ্বালানির দাবি ততই বাড়বে।
আমাদের দেশের কয়লা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় সর্বোৎকৃষ্ট। সেই কয়লা কিন্তু আমরা বিগত ৩০ বছর ব্যবহার করিনি। পরিবেশবাদীরা হয়তো আমার সমালোচনা করবেন। কিন্তু আমি তাদের পাল্টা জবাব দেব—কয়লা আমদানি করে আমরা একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প চালাচ্ছি, সেই কয়লা কিন্তু যে দেশ থেকে আসছে তারাই ব্যবহার করছে না। সালফারের উচ্চমাত্রার কারণে সেটি ব্যবহারের অযোগ্য বলে তারা ঘোষণা করেছে। আমি এখনো বিশ্বাস করি, দেশের এ হাই কোয়ালিটির কয়লা আমরা ব্যবহার করতে পারি। বর্তমান সময়ের উচ্চমানের টেকনোলজি ব্যবহারের ফলে দূষণ অনেক কম হবে। এতে আমাদের জ্বালানি চাহিদার বড় একটি অংশও মেটানো যাবে।
একটি দেশের জ্বালানির চাহিদা কোন কোন জায়গা থেকে পূরণ করা হবে তা ‘এনার্জি মিক্স’-এর মাধ্যমে বোঝানো হয়। এনার্জি মিক্সে আমরা পারমাণবিক নিয়েও কাজ করেছি। আশা করছি সেটি গ্রিডে কিছুদিনের মধ্যে যুক্ত হবে। এখন থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে বঙ্গোপসাগরে কিছু ড্রিলিং করেছিলাম। সেখান থেকে উল্লেখযোগ্য হারে গ্যাস উত্তলন করেছিলাম। দুঃখের বিষয় হলো সে সময় এ বিষয়টিতে আমরা জোর দিইনি। ফলে বঙ্গোপসাগরের গ্যাস ব্যবহার করতে পারিনি। এক্ষেত্রে সমস্যা হলো বিগত চার দশকে বিশ্বের জ্বালানি সিনারিও পরিবর্তন হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আর আগ্রহী নয়। এটি আমাদের জন্য একটি মিসড অপরচুনিটি হয়ে গেছে। তবে আমি মনে করি, আমাদের দেশের জ্বালানি অবস্থার পরিবর্তনের জন্য বিশ্বে এখনো বড় বড় কোম্পানি রয়েছে যারা ড্রিলিং করে, তাদের সঙ্গে ত্বরিত যোগাযোগ করা।
এলএনজি স্টোর করার জন্য একধরনের উচ্চমানের টেকনোলজিসম্পন্ন ট্যাংক প্রয়োজন হয়। এটি করতে বিনিয়োগ ও সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা এনএলজির দিকে না গিয়ে যদি এলপিজির দিকে সত্যিই যাই তাহলে আমাদের বিনিয়োগ লাগবে। এক্ষেত্রে যারা বাজেট করছেন তাদের আমি বলব, আপনারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন। তা না হলে বাংলাদেশ একটি এলএনজি স্টার্ভড কান্ট্রিতে পরিণত হবে।


