এলপিজিকে সাশ্রয়ী করতে হলে সরকারি নীতি সমর্থনের পাশাপাশি গড়ে তুলতে হবে অবকাঠামোও
অক্টোবর ১২, ২০২৫
এলপিজির দাম কমাতেই হবে —মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
অক্টোবর ১২, ২০২৫
এলপিজিকে সাশ্রয়ী করতে হলে সরকারি নীতি সমর্থনের পাশাপাশি গড়ে তুলতে হবে অবকাঠামোও
অক্টোবর ১২, ২০২৫
এলপিজির দাম কমাতেই হবে —মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
অক্টোবর ১২, ২০২৫

সেনা সদর দপ্তরের ব্রিফিং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানা থাকা ১৫ কর্মকর্তা সেনা হেফাজতে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া ২৫ কর্মকর্তার মধ্যে এখনো সেনাবাহিনীতে কর্মরত আছেন ১৫ জন। অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (এলপিআর) আছেন একজন।

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া ২৫ কর্মকর্তার মধ্যে এখনো সেনাবাহিনীতে কর্মরত আছেন ১৫ জন। অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (এলপিআর) আছেন একজন। এ ১৬ জনের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ছাড়া বাকি সবাই বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন। কেবল কবীর আহাম্মদ বাহিনীর নির্দেশে সাড়া দেননি।

ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস এ-তে গতকাল বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান এ তথ্য জানান। অবশ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখনো হাতে পায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, ‘গত ৮ অক্টোবর আইসিটিতে প্রথম দুটি চার্জশিট জমা পড়ে। এরপর তৃতীয় আরেকটা চার্জশিট জমা পড়ে। এ সংবাদ আসা শুরু করে ওইদিন বেলা ১১টা থেকে ১টার মধ্যে। আমরা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি চার্জশিট জমা পড়েছে এবং ট্রাইব্যুনালে সেটি গৃহীত হয়েছে। চার্জশিটগুলোর মধ্যে একটা ছিল গুমসংক্রান্ত, যারা তখন (আওয়ামী লীগ আমল) ডিজিএফআইয়ে কর্মরত ছিলেন তাদের একটা বড় অংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ। আরেকটা ছিল র‍্যাবের টিএফআই (টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন) নিয়ে। আর আরেকটা মামলা ছিল ৪-৫ আগস্টের রামপুরার ঘটনা নিয়ে। আদালতে চার্জশিট গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়ে গেল। পরে এ পরোয়ানা আইজিপির (পুলিশপ্রধান) কাছে চলে যায় নিয়ম অনুযায়ী এবং ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। তবে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো চার্জশিট কিংবা গ্রেফতারি পরোয়ানা পাইনি।’

তিন মামলায় আসামি হওয়া ২৫ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে নয়জন অবসরে রয়েছেন বলে জানান মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একজন এলপিআরে, বাকি ১৫ জন সেনাবাহিনীতে কর্মরত। মামলা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর কর্মরত ১৫ জন এবং এলপিআরে থাকা একজনকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেনা সদরে জয়েন করতে নির্দেশ দেয়া হয়। সে অনুযায়ী ১৫ জন সেনা কর্মকর্তা নির্দেশিত স্থানে যোগ দেন। তবে মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এতে সাড়া দেননি। পরে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, তিনি গত ৯ অক্টোবর আইনজীবীর কাছে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হলেও পরবর্তী সময়ে আর ফিরে আসেননি। তিনি সেনা সদরে জয়েনও করেননি। তবে কর্মরত বাকি ১৫ জনকে সেনা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’

গুম-খুনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে সেনাবাহিনীর অবস্থান তুলে ধরে মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও চায় গুম-খুনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সঠিক বিচার হোক। সেনাবাহিনী চায় ইনসাফ। ন্যায়বিচার বা ইনসাফের প্রশ্নে সেনাবাহিনী আপসহীন। তবে অফিশিয়ালি এখনো চার্জশিটের কপি সেনাবাহিনীর হাতে আসেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। পরে ৮ অক্টোবর রাতেই ওইসব কর্মকর্তাকে সেনা সদর দপ্তরে যোগদানের নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে চার্জশিটের কপি পেলে আমরা কার কী অপরাধ তা খতিয়ে দেখব। পাশাপাশি সেনা কর্মকর্তাদের বিচারপ্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে আমরা তাদের কাছ থেকে মতামত বা বক্তব্য চাইব।’

হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের পুলিশের কাছে তুলে দেয়া হবে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখানে তিনটি প্রক্রিয়া অনুসরণের সুযোগ রয়েছে মামলায় আসামি হওয়া সেনা কর্মকর্তাদের। তারা চাইলে সরাসরি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। আবার পুলিশের কাছেও গ্রেফতার হতে পারেন। পাশাপাশি চাইলে তারা সেনা হেফাজতেও আসতে পারেন। এক্ষেত্রে এরই মধ্যে ১৫ জন সেনা হেফাজতে এসেছেন। অবসরে যাওয়া সেনা কর্মকর্তাদেরও আমরা বলেছি, চাইলে তারাও হেফাজতে আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাদের হেফাজতে নিয়ে আইনানুগ পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটার (আইসিটি) মতো না হলেও এ রকম কিংবা অনেক সেনসিটিভ কেসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৫৪ বছর পার করে এসেছে। যাদের নামে অভিযোগ ওঠে প্রথমে তাদের আমরা হেফাজতে নিয়ে নিই। তখন বিভিন্ন কোর্ট মার্শাল হয়, কোর্ট মার্শালের রায় অনুযায়ী তখন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *