
আখাউড়ায় ট্রেন থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ
অক্টোবর ৩, ২০২৫
ফাহমিদা নবীর কণ্ঠে নতুন তিন গান
অক্টোবর ৪, ২০২৫গাজার উদ্দেশে মানবিক সহায়তাবাহী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকানোর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। ইউরোপ থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত গতকাল হাজারো মানুষ ইসরায়েলি নৌবাহিনীর অবরোধের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন।
গাজার উদ্দেশে মানবিক সহায়তাবাহী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকানোর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। ইউরোপ থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত গতকাল হাজারো মানুষ ইসরায়েলি নৌবাহিনীর অবরোধের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন। তারা দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার দাবি তোলেন। ফ্লোটিলা আটকানোর ঘটনাকে ইসরায়েলের ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ বলেও অভিহিত করেন বিক্ষোভকারীরা। এদিকে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সবগুলো নৌযান আটকে দেয়ার পর গাজা অভিমুখে নতুন করে আরো ১১টি নৌযান যাত্রা করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) জানিয়েছে, এসব নৌযানে প্রায় ১০০ জন অধিকারকর্মী আছেন।
প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি অবরোধ ও ধারাবাহিক হামলায় দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে থাকা গাজায় ওষুধ ও খাদ্যসহ সহায়তা
নিয়ে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সবগুলো নৌযান আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক করে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। বহরে ছিলেন জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা, বার্সেলোনার সাবেক মেয়র আডা কোলাও, ইউরোপীয় সংসদ এবং বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যরা। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগকে ‘প্ররোচনামূলক’ আখ্যা দিয়ে আটক কর্মীদের নিরাপত্তার কথা বললেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একে মানবিক সহায়তা রোধের সুস্পষ্ট পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
ঘটনার পর পরই ইউরোপের প্রধান শহরগুলোয় বিক্ষোভ শুরু হয়। স্পেনের বার্সেলোনায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ‘গাজা, তুমি একা নও’, ‘ইসরায়েল বর্জন করো’ এবং ‘ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা চাই’ স্লোগান দিয়ে শহরজুড়ে মিছিল করে। মাদ্রিদ ও ভ্যালেন্সিয়াতেও কয়েক হাজার মানুষ সমাবেশে অংশ নেয়। ফ্রান্সের প্যারিসে রিপাবলিক স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দেয়, মার্সেইতে সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী কোম্পানি ইউরোলিংকস অবরোধের চেষ্টায় শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে সংসদ ভবনের সামনে শত শত মানুষ সমবেত হয়ে গাজার প্রতি সংহতি জানায়, যেখানে প্রতিবাদকারীরা আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে ফিলিস্তিনের লড়াইয়ের তুলনা টানেন।
ইতালিজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট বিক্ষোভে রূপ নেয়। রোমে হাজার হাজার মানুষ সড়কে নেমে ইসরায়েলি নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান তোলে। মিলানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ শহরের কেন্দ্র জুড়ে মিছিল করে। নেপলস, তুরিন, বোলোনিয়া ও পালেরমোতেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বোলোনিয়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে টিয়ার গ্যাস ব্যবহৃত হয়। পর্তুগালের লিসবন, পোর্তোতে শত শত মানুষ ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করে আটক কর্মীদের মুক্তির দাবি তোলে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ রেলপথ অবরোধ করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনের সামনে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হয়ে ‘অবরোধ ভাঙো’ স্লোগানে আকাশ মুখরিত করে। জার্মানির বার্লিনে শত শত মানুষ আলেকজান্ডারপ্লাৎসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। নেদারল্যান্ডসের হেগে, গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে এবং সাইপ্রাসের নিকোসিয়ায়ও ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য মহাদেশেও। তুরস্কের ইস্তানবুলে হাজারো মানুষ ইসরায়েলি দূতাবাস অভিমুখে পদযাত্রা করে, তিউনিসিয়ার তিউনিস শহরে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল বের হয়। লাতিন আমেরিকার ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়া ও আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। মেক্সিকো সিটি এবং চিলির সান্তিয়াগোতেও মানুষ রাস্তায় নামে। এশিয়ার কুয়ালালামপুর, করাচি ও ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় সংহতির মানববন্ধন হয়। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্নে আটক কর্মীদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কেও হাজারো মানুষ জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে সমবেত হয়ে ইসরায়েলের পদক্ষেপের নিন্দা জানায়।
ইসরায়েল বলছে, বহরটিকে সতর্ক করা হয়েছিল যে তারা সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং বিকল্প পথে সহায়তা পাঠানোর প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ফ্লোটিলার আয়োজকরা বলেছেন, তাদের মিশন ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং গাজার ওপর দীর্ঘদিনের অবরোধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক। এক বিক্ষোভকারীর ভাষায়, ‘এটি শুধু একটি বহর আটকানোর ঘটনা নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে আরেকটি আঘাত।’
এদিকে গাজা অভিমুখে আরো ১১ জাহাজের বহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন। এক বিবৃতিতে এফএফসি জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর ‘কনসায়েন্স’ নামের জাহাজ আরো আটটি নৌকা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। তাদের সঙ্গে ইতালি ও ফ্রান্সের পতাকাবাহী নৌবহর ‘থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা’ যোগ দিয়েছে। এ বহরে রয়েছে দুটি নৌকা। একসঙ্গে এ দুটি দল ১১টি জাহাজের বহর নিয়ে গাজা অভিমুখে ছুটে চলছে। সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে ক্রিট দ্বীপের উপকূলে এসব জাহাজের প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী ও ক্রু অবস্থান করছেন। ফ্রিডম ফ্লোটিলা ফাউন্ডেশন, গ্লোবাল মুভমেন্ট টু গাজা, মাগরেব সুমুদ ফ্লোটিলা ও সুমুদ নুসানতারা—২০০৮ সালে এ চার সংগঠন মিলে গঠিত হয় এফএফসি। তার পর থেকে গত ১৭ বছরে বেশ কয়েকবার গাজায় ত্রাণ পাঠিয়েছে জোট সংগঠনটি। বাংলাদেশ থেকে অংশ নেয়া দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এ বহরে থাকা ‘কনসায়েন্স’ নামের জাহাজটিতে আছেন।


