ইসরায়েলের সব কূটনীতিক বহিষ্কার ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করলো কলম্বিয়া
অক্টোবর ২, ২০২৫
গাজায় ‘খাদ্য ও চিকিৎসা’ সরবরাহ নিশ্চিত’ করতে হবে, ইসরায়েলকে: জাতিসংঘ
অক্টোবর ২, ২০২৫
ইসরায়েলের সব কূটনীতিক বহিষ্কার ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করলো কলম্বিয়া
অক্টোবর ২, ২০২৫
গাজায় ‘খাদ্য ও চিকিৎসা’ সরবরাহ নিশ্চিত’ করতে হবে, ইসরায়েলকে: জাতিসংঘ
অক্টোবর ২, ২০২৫

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার একটি বাদে সব নৌযান আটক করেছে ইসরায়েল

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার একটি বাদে বাকি সব জাহাজ আটক করেছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে। সব যাত্রী নিরাপদে ও সুস্থ আছেন। তাদেরকে নিরাপদে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে ইউরোপে ফেরত পাঠানো হবে। আরো বলা হয়েছে, আরেকটি জাহাজ রয়েছে। যদি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করে বা অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করে, তবে সেটিকেও আটক করা হবে। খবর আল জাজিরা।

এর আগে গাজা থেকে ১২৯ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরে গতকাল বুধবার রাতে ফ্লোটিলার জাহাজগুলোকে বাধা দিতে শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। সে সময় ত্রাণবাহী অন্তত আটটি জাহাজ থামিয়ে দেয়া হয়। পরে ধীরে ধীরে ফ্লোটিলার বাকি জাহাজগুলোকেও বাধা দেয় তারা।

সেই সঙ্গে নৌযানগুলোতে থাকা অধিকারকর্মীদের আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের মধ্যে সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও রয়েছেন। পরে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হামাস-সুমুদ ফ্লোটিলার কয়েকটি নৌযান নিরাপদে থামিয়ে দেয়া হয়েছে। গ্রেটা ও তার বন্ধুরা নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সমুদ্রপথে গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ। ‌এ নৌবহরে রয়েছে ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌযান। এ বহরে প্রায় ৪৪টি দেশের ৫০০ মানুষ রয়েছেন। এদের যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামের নাগরিকসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধি, আইনজীবী, অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক রয়েছেন।

এ বিষয়ে ইসরায়েলের জাতিসংঘ দূত ড্যানি ড্যানন জানিয়েছেন, আটক হওয়া কর্মীরা ইয়াম কিপ্পুর ইহুদি উৎসব শেষ হওয়ার পর (বৃহস্পতিবারের পরে) নির্বাসিত হবেন। ইয়াম কিপ্পুর ছুটির কারণে ইসরায়েলে আদালত এবং কারাগারগুলো প্রায় অচল। যার ফলে আটক কর্মীদের আইনি প্রক্রিয়ায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, কিছু ফ্লোটিলা আয়োজকের সঙ্গে হামাসের যোগসূত্র রয়েছে। যদিও এ দাবির পক্ষে তারা কোনো প্রমাণ দেয়নি এবং কর্মীরা তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকেই ইসরায়েল গাজায় কম-বেশি অবরোধ আরোপ করে আসছে। ইসরায়েল ২০০৯ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে। তাদের দাবি, অস্ত্র চোরাচালান রোধ করার জন্য এ অবরোধ প্রয়োজনীয়।

তবে অবরোধের সমালোচকরা একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘সম্মিলিত শাস্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ফ্লোটিলার আয়োজকরাও ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবৈধ হস্তক্ষেপ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের মতে, তারা শুধুমাত্র প্রতীকী পরিমাণ মানবিক সাহায্য নিয়ে গাজায় একটি সমুদ্র করিডোর স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল।

২০০৭ সাল থেকে গাজা কার্যত একটি খোলা কারাগারের মতো, যেখানে অবরোধের কারণে লাখো মানুষ আটকে আছেন। এই ফ্লোটিলা অভিযান কেবল মানবিক সাহায্যের প্রশ্ন নয়, বরং গাজার ওপর দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ককে আবারো সামনে নিয়ে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *