
সিলেটে পাথর লুট: জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কাম্য
আগস্ট ১৮, ২০২৫
বালু লুটের মহোৎসব: বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ কাম্য
আগস্ট ২৪, ২০২৫জাকির হোসেন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্বাচনি আমেজ ফিরে আসছে, যদিও নির্বাচনের প্রচারণা এখনো শুরু হয়নি। প্রচারণা শুরু হলে উৎসাহ-আনন্দের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাস মুখর হয়ে উঠবে, এটি নিশ্চিত। এ প্রচারণা যেন শান্তিপূর্ণ হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে সাধারণ ছাত্রছাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে। বুধবার ছিল এ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষদিন।
জানা যায়, ডাকসুর ২৮টি পদের বিপরীতে ৫০৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। ২৬ আগস্ট বিকালে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে ২৫ আগস্টের মধ্যে। ভোট ৯ সেপ্টেম্বর।
সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯ সালে, অর্থাৎ ৬ বছর আগে। ওই নির্বাচন হয়েছিল সুদীর্ঘ ২৮ বছর পর। ডাকসু নির্বাচন নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়ে থাকে, ডাকসু রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্রিডিং গ্রাউন্ড। এ দেশের অনেক রাজনৈতিক নেতারই রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ডাকসু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এসব নেতা প্রতিনিধিত্বশীল রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। এ কারণে এক সময় ডাকসুকে বলা হতো দেশের সেকেন্ড পার্লামেন্ট। ডাকসু অতীতে এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে এর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
কাজেই নির্বাচনের মাধ্যমে ডাকসু গঠন যে জরুরি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দ্বিতীয়ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যাতে সন্ত্রাসসহ সব ধরনের অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত থাকে, সেজন্যও একটি নির্বাচিত ফোরাম দরকার, যা ছাত্রসমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানসহ ক্যাম্পাসকে শান্তিপূর্ণ রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তৃতীয়ত, ডাকসু গঠিত হলে গোটা ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্বশীল একটি সংস্থা গড়ে উঠবে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাত্রসমাজের দাবি-দাওয়া আদায়ে ভূমিকা রাখবে।
শুধু ডাকসু নির্বাচন নয়, অন্য কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনেরও তোড়জোড় চলছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১১ সেপ্টেম্বর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর। আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হবে আগামী সপ্তাহে। উল্লেখ্য, সর্বশেষ জাকসু, রাকসু ও চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল যথাক্রমে ৩৩, ৩৬ ও ৩৫ বছর আগে। কাজেই ডাকসু ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি যে অনেক পুরোনো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অতীতে নানা কারণে এসব প্রতিষ্ঠানকে অচল করে রাখা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, এটি একটি শুভ লক্ষণ। আমরা আশা করব, নির্ধারিত তারিখেই সবকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে সুস্থ ধারার ছাত্ররাজনীতি গড়ে উঠবে, এটাই কাম্য।
জাকির হোসেন, সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম


