
ট্রাম্প ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নাকচের পর বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
বিশ্বজুড়ে আগস্টে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন কমেছে
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬সয়াবিন তেলের ফিউচার বা আগাম সরবরাহ মূল্য গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে একই জায়গায় স্থির হয়ে আছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। কিন্তু সয়াবিন তেলের ফিউচার বা আগাম সরবরাহ মূল্য গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে একই জায়গায় স্থির হয়ে আছে। খবর ওয়ার্ল্ড-গ্রেইন ডটকম।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে শিকাগো মার্চেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (সিএমই) সয়াবিনের দাম বেড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। একই সময়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি বা ওপরে অবস্থান করছিল। সাধারণত কাঁচা সয়াবিন ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী থেকে। তবে তা না হয়ে সয়াবিন তেলের ফিউচার চুক্তি প্রতি পাউন্ড ৬০-৭০ সেন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বায়োফুয়েল বা জৈব জ্বালানি তৈরির কাঁচামাল এবং বায়োডিজেলের প্রচুর আমদানি বেড়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় সয়াবিন তেল উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে বাজারে বাড়তি সরবরাহ তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত সরবরাহের কারণেই সাধারণ বাজারনীতির বাইরে গিয়ে সয়াবিন তেলের দর স্থির হয়ে রয়েছে।
এর মূলে রয়েছে মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) নেয়া সাম্প্রতিক একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত। রিনিউয়েবল ফুয়েল স্ট্যান্ডার্ডের (আরএফএস) অধীনে এ সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে। সংস্থাটি ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য জৈব জ্বালানি কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা রেকর্ড পর্যায়ে নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি ২০২৮ সাল পর্যন্ত আমদানীকৃত কাঁচামালেও পূর্ণ সুবিধা বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
ইপিএর এমন ঘোষণার পর জ্বালানি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কাঁচামাল আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দেয়। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে বায়োডিজেল আমদানি যেখানে ছিল ৩৯ হাজার ১৬৪ টন, নীতি ঘোষণার পর এপ্রিল-জুনে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৭৯ হাজার ৭৬৪ টনে দাঁড়ায়।
বিপুল পরিমাণ আমদানি এবং আমেরিকার নিজস্ব কারখানায় রেকর্ড উৎপাদনে বাজারে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে উঠেছে। ফলে স্থানীয় সয়াবিন মাড়াই কারখানার সাময়িক কাজ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তেলের দামে কোনো বড় প্রভাব পড়েনি। তবে একই সময়ে স্থানীয় সরবরাহ সংকটে সয়াবিনের খৈলের দাম বেশ বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের চাহিদা ও বিক্রির ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট সীমা তৈরি হয়েছে। দাম প্রতি পাউন্ডে ৭১-৭২ সেন্টে উঠলেই কেনাবেচা কমে যায়। আবার দাম ৬৫-৬৭ সেন্টে নামলে ক্রেতারা কেনাকাটা বাড়িয়ে দেন। এছাড়া ছোট কিছু তেল শোধনাগারকে নীতিগত ছাড় দেয়ায় নিকট ভবিষ্যতে চাহিদা কতটুকু থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে সয়াবিন তেলের দর নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যেই ঘুরেফিরে অবস্থান করছে।


