
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহ্দী আমিন
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬পর্যটন শিল্প একটি দেশের সভ্যতা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামগ্রিক পরিবেশের পরিচায়ক। একই সঙ্গে এটি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বের বহু দেশে জিডিপির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। কিন্তু সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে বিকশিত হয়নি।
দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তাহীনতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, পর্যাপ্ত প্রচারের অভাব, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, মানসম্মত হোটেল ও রিসোর্টের স্বল্পতা, তথ্যকেন্দ্র, স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যটন-নিরাপত্তার ঘাটতি—এসব কারণে পর্যটন শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান ও আয়স্বল্পতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। মানুষের আয় বাড়লে ব্যক্তিগত ভোগ ও সঞ্চয়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রের কর আহরণের সুযোগও বাড়ে। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের আয় বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন খাতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পর্যটন এমনই একটি সম্ভাবনাময় খাত।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের জিডিপিতে পর্যটনের অবদানও তুলনামূলকভাবে কম। অথচ বাংলাদেশের রয়েছে সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বন, নদী, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যসহ বিপুল পর্যটনসম্পদ। সঠিক পরিকল্পনা, বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব সম্পদকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিণত করা সম্ভব।
পর্যটন শিল্পের বিকাশ হলে শুধু হোটেল, রিসোর্ট বা পরিবহন খাতেই নয়; খাবার, স্থানীয় পণ্য, হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য, গাইডিং, অনুবাদ, বিনোদন, তথ্যসেবা ও ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
পর্যটন ও দেশের ব্র্যান্ডিং
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি দেশের পরিচিতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি দেশের পর্যটনকেন্দ্র যত বেশি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হয়, সেই দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কেও বহির্বিশ্বে ধারণা তৈরি হয়।
বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অনেক সময় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, বৃষ্টি, খরা, বস্তি, বর্জ্য ও অন্যান্য দুর্যোগের সঙ্গে বেশি করে উপস্থাপন করা হয়। ফলে বাংলাদেশের ইতিবাচক দিকগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। তাই দেশের পরিচ্ছন্নতা, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পর্যটনসেবা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে।
ভ্রমণ ও মানবিক বিকাশ
ভ্রমণ শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের মানসিক, সামাজিক ও বৌদ্ধিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন পরিবেশ, মানুষ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মাধ্যমে মানুষের চিন্তাধারা প্রসারিত হয়। ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রকৃতি ও নতুন অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ তৈরি হয়।
প্রতিদিনের একঘেয়েমি, কাজের চাপ ও মানসিক চাপ থেকে সাময়িক মুক্তি পেতেও ভ্রমণ সহায়ক। নতুন পরিবেশ মানুষের মধ্যে নতুন চিন্তা ও সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
নিজ দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম বাংলাদেশের অনেক নাগরিক ভারত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন। দেশের পর্যটন অবকাঠামো, নিরাপত্তা, সেবা ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে অভ্যন্তরীণ পর্যটনও আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পর্যটনের সম্ভাবনা
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল আন্তর্জাতিক পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এ অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, ঐতিহাসিক সম্পদ, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, নেপাল, মালদ্বীপ, চীন, ভিয়েতনাম ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ পর্যটন শিল্পকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে গড়ে তুলেছে।
বাংলাদেশও এ অঞ্চলের একটি সম্ভাবনাময় দেশ। দেশের পর্যটনসম্পদকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে উন্নত অবকাঠামো, নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা
বাংলাদেশে পর্যটনের জন্য রয়েছে অসংখ্য প্রাকৃতিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান। ঢাকা শহরের চারপাশের নদী, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সোনারগাঁ, সিলেটের জাফলং ও মাধবকুণ্ড, বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ, শেরপুরের গজনীসহ বিভিন্ন স্থানকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর করা যেতে পারে।
এ ছাড়া সুন্দরবন, মহাস্থানগড়, লালমাই পাহাড়, সাদাপাথর, বিছানাকান্দি এবং দেশের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনাকে একটি সমন্বিত পর্যটন নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যেতে পারে।
বিশ্ব ইজতেমা ও পর্যটন
বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের একটি বড় আন্তর্জাতিক সমাবেশ। দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন। এই সুযোগকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী বিদেশি অতিথিদের জন্য বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক স্থান ভ্রমণের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। এ জন্য উন্নত আবাসন, নিরাপদ যোগাযোগ, পর্যটন গাইড, অনুবাদসেবা এবং তথ্যকেন্দ্রের ব্যবস্থা প্রয়োজন।
ইজতেমাকে কেন্দ্র করে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে অস্থায়ী দোকান, খাবারের হোটেল ও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা গড়ে ওঠে। টুপি, জায়নামাজ, শীতের পোশাক, আতর, তসবিহসহ বিভিন্ন পণ্যের বিক্রি বাড়ে। একই সঙ্গে রেল, বাস ও নৌপরিবহন খাতেও যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ফলে স্থানীয় ব্যবসা, পরিবহন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয় বাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
পরিকল্পিতভাবে ইজতেমাকে বাংলাদেশের পর্যটন ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প বিকশিত না হওয়ার কারণ
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা
দুর্বল পর্যটন অবকাঠামো
নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থার ঘাটতি
মানসম্মত হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের স্বল্পতা
পর্যাপ্ত তথ্যকেন্দ্রের অভাব
পর্যটনকেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যাপ্ত প্রচারের অভাব
প্রশিক্ষিত পর্যটন গাইডের স্বল্পতা
ইংরেজি ও অন্যান্য বিদেশি ভাষায় দক্ষ কর্মীর অভাব
পর্যটকদের সঙ্গে আচরণগত সমস্যার অভিযোগ
পর্যটনকেন্দ্রের পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা
পর্যটন ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব
বিদেশি পর্যটকদের জন্য সঠিক তথ্য, নিরাপত্তা ও সহযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে পর্যটন অর্থনীতির অংশীদার করা প্রয়োজন।
পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে করণীয়
পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রথমেই বিভাগীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ যোগাযোগ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যকেন্দ্র ও মানসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থানগুলো চিহ্নিত করে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে সেগুলোর পরিকল্পিত প্রচার করতে হবে। ডিজিটাল মার্কেটিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আন্তর্জাতিক পর্যটন প্ল্যাটফর্ম এবং বহুভাষিক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটনসম্পদ তুলে ধরা যেতে পারে।
বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভিসা ও ভ্রমণ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও সহজ ও ডিজিটাল করতে হবে। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্থানীয় খাবার, সংগীত, হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যভিত্তিক আয়োজন যুক্ত করা যেতে পারে।
পর্যটন প্যাকেজের মূল্যও পর্যটকদের নাগালের মধ্যে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সুলভ মূল্যে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও স্থানীয় পরিবহনসেবা নিশ্চিত করা গেলে অভ্যন্তরীণ পর্যটন বাড়বে।
স্থানীয় জনগণ ও কর্মসংস্থান
পর্যটন শিল্পের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাগুলোর একটি হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। স্থানীয় মানুষকে পর্যটন ব্যবসার অংশীদার করা গেলে তারা নিজেদের সংস্কৃতি, খাবার, সংগীত, হস্তশিল্প ও স্থানীয় পণ্য পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে পারবেন।
তরুণ প্রজন্মকে ইংরেজি ও অন্যান্য বিদেশি ভাষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি পর্যটন ব্যবস্থাপনা, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ট্যুর গাইড, ট্রাভেল এজেন্সি, ডিজিটাল মার্কেটিং, কনটেন্ট তৈরি, অনুবাদ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে।
পর্যটনকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ ও বাজারসুবিধা নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। এতে নারীদের ও তরুণদের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
উপসংহার
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা ব্যাপক। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী, সমুদ্র, পাহাড়, বন, ইতিহাস, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ধর্মীয় স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হওয়ার সুযোগ রাখে।
তবে শুধু পর্যটনকেন্দ্র থাকা যথেষ্ট নয়। নিরাপত্তা, যোগাযোগ, পরিচ্ছন্নতা, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষ জনবল, আন্তর্জাতিক প্রচার এবং পর্যটকবান্ধব আচরণ—সবকিছুর সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন।
পরিকল্পিতভাবে পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে পারলে দেশের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শক্তিশালী হবে, স্থানীয় অর্থনীতি সক্রিয় হবে, মানুষের আয় বাড়বে এবং বিপুলসংখ্যক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তাই পর্যটনকে শুধু বিনোদনের খাত হিসেবে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
জাকির হোসেন,
সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম


