
থামছে না ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন, নদীতে বিলীন ময়মনসিংহ ও জামালপুরের শত শত একর জমি
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
রোহিঙ্গা-সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ৫ প্রস্তাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ চায় রোহিঙ্গারা মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে নিজ ঘরে ফিরে যাক
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬নতুন ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি গতকাল রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে সই হওয়ার কথা।
যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশের আরো ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি উপলক্ষে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। গতকাল সন্ধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে করা পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক লাইনআপ থেকে আরো ১১টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের চুক্তির জন্য বোয়িং এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে অভিনন্দন। এটি সত্যিই একটি লাভজনক বিষয় (উভয় পক্ষের জন্যই জয়)।’
নতুন ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি গতকাল রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে সই হওয়ার কথা। এর ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যোগ হচ্ছে আরো ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ। এ নিয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের নতুন উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা দাঁড়াবে ২৫টি। ১৪টির ক্রয়চুক্তি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে নতুন উড়োজাহাজগুলোর মডেল, ক্রয়মূল্য, অর্থায়নের ধরন ও সরবরাহের সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরো ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি উপলক্ষে আগাম অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনও। গতকাল ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বিশ্বসেরা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ আরো ১১টি কেনার চুক্তিতে পৌঁছানোয় বোয়িং ও বিমানকে অভিনন্দন। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য এটি আরেকটি দারুণ অর্জন, যেখানে লাভবান হবে দুই দেশই।’
বিমানের পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান রুমী আক্তার হোসাইনের চুক্তিতে সই করার কথা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। ওই চুক্তিতে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। এসব উড়োজাহাজের তালিকামূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। এপ্রিলের চুক্তির উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা ২০৩১ সালের নভেম্বরে। পুরো ১৪টি উড়োজাহাজ ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে পাওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে উড়োজাহাজ রয়েছে ১৯টি। এর মধ্যে বোয়িংয়ের বিভিন্ন মডেলের উড়োজাহাজই সংখ্যাগরিষ্ঠ। নতুন ১১টি যোগ হলে ভবিষ্যতে বোয়িংয়ের ওপর বিমানের বহর আরো বেশি নির্ভরশীল হবে। এদিকে বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসের কাছ থেকেও উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা চলছে। এয়ারবাসের প্রস্তাবিত প্যাকেজে রয়েছে চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও। তবে এয়ারবাসের সঙ্গে এখনো চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি হয়নি।
বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বহর সম্প্রসারণের অন্যতম কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক রুট বাড়ানো এবং বিদ্যমান রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কার্গো সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে বিমানের উপস্থিতি বাড়ানো এবং নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যও রয়েছে সংস্থাটির।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮, চারটি ৭৭৭-৩০০ ইআর, চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও পাঁচটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ। এসব উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭৮৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে সংস্থাটি। মুনাফা করলেও জ্বালানি তেলের মূল্য বাবদ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে এবং অ্যারোনটিক্যাল চার্জ বাবদ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে মোটা অংকের দায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাটির দেনার পরিমাণ ১৩ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা।


