এআই ও ইভিতে চাহিদা বাড়ায় তামার দাম ঊর্ধ্বমুখী
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত, দাবি পুলিশের
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
এআই ও ইভিতে চাহিদা বাড়ায় তামার দাম ঊর্ধ্বমুখী
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত, দাবি পুলিশের
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

সরকারি চাকরির বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জুলাই থেকে কার্যকর নতুন পে-স্কেলের বকেয়া মিলবে চলতি মাসের বেতনের সঙ্গে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেয়া হয়। তাতে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে।
সর্বনিম্ন গ্রেডে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বাড়িয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত এ প্রজ্ঞাপন গত বৃহস্পতিবার জারি হলেও গতকাল ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। এতে বলা হয়েছে, নতুন পে-স্কেল গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুসারে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে। এর মধ্যে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোর বাড়তি বেতনের ৪০ শতাংশ পাবেন এবং ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাবেন ৫০ শতাংশ হারে। এছাড়া আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির শতভাগ কার্যকর হবে। আর মূল বেতনের সঙ্গে যেসব ভাতা পেয়ে থাকেন সরকারি চাকরিজীবীরা, সেসব পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। গত ৩০ জুন তারা যে বেতন পেয়েছিলেন, সেটিকে ভিত্তি ধরে বাড়তি প্রাপ্য হিসাব করা হবে।
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তার বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং জ্যেষ্ঠ সচিব ও সমমর্যাদার বেতন হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এর আগে সর্বশেষ জাতীয় পে-স্কেল চালু হয়েছিল ২০১৫ সালে। তখন সেটাই ছিল সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধির ঘটনা। ওই পে-স্কেলে সর্বোচ্চ গ্রেডে মূল বেতন ৯৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন গ্রেডে ১০১ শতাংশ বেড়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেয়া হয়। তাতে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। আর নবম গ্রেডের মূল বেতন ২২ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৪ হাজার টাকা। বিসিএস দিয়ে যারা প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা পদে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন তারা এ গ্রেডে বেতন পান। অন্যদিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অর্থাৎ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার (নির্ধারিত) থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা এ গ্রেডে বেতন পান। সেই সঙ্গে বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা ও আর্থিক সুবিধাও বাড়ছে।
সরকারি চাকরিজীবীরা কোথায় কত বাড়ি ভাড়া পাবেন?
নতুন বেতন কাঠামোয় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি এলাকা ও গ্রেডভেদে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়ার হারও নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় চাকরি করা গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া পাবেন। গ্রেড-১৫-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১০-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা পাবেন ৫০ শতাংশ। গ্রেড-৯-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-৫-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া কর্মকর্তারা ৪৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া পাবেন। আর গ্রেড-৪-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়ি ভাড়া পাবেন মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে। এছাড়া খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকার জন্য বাড়ি ভাড়ার হার কিছুটা কম।
বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত হলে ৬৫ শতাংশ হারে (ন্যূনতম ৫ হাজার ৬০০ টাকা) বাড়ি ভাড়া পান চাকরিজীবীরা। ৯ হাজার ৭০১ টাকা থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল বেতন হলে ৬০ শতাংশ হারে (ন্যূনতম ৬ হাজার ৪০০ টাকা) বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। মূল বেতন ১৬ হাজার ১ টাকা থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হলে বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায় ৫৫ শতাংশ হারে (ন্যূনতম ৯ হাজার ৬০০ টাকা)। আর মূল বেতন ৩৫ হাজার ৫০১ টাকার বেশি হলে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫০ শতাংশ হারে (ন্যূনতম ১৯ হাজার ৫০০ টাকা) বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। অন্যান্য এলাকার ক্ষেত্রে বর্তমানে বাড়ি ভাড়ার হার ও ন্যূনতম অংকে ভিন্নতা রয়েছে।
মাসিক পেনশন সর্বনিম্ন ১৮ হাজার টাকা
অবসরে যাওয়া পেনশনভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন বাড়ছে পাঁচ ধাপে। ফলে যেসব পেনশনভোগী দীর্ঘদিন আগে অবসরে গেছেন ও তুলনামূলক কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির পরিমাণ বেশি হবে বলে বেতন কাঠামোতে বলা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাসে ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট গ্রহণকারীদের পেনশন ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার পর্যন্ত গ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশ আর ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন বাড়বে ৫৫ শতাংশ।
কমল বৈশাখী ভাতা
নবম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বৈশাখী ভাতা ৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। বর্তমানে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পেয়ে থাকেন তারা। নতুন বেতন কাঠামোয় এ হার কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বৈশাখী ভাতা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, সব কর্মচারী আহরিত মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। মাসিক নিট পেনশন গ্রহণকারী অবসরভোগী ও আজীবন পেনশন গ্রহণকারী অবসরভোগী (মূল পেনশনভোগীর প্রাপ্ত নিট পেনশনকে ভিত্তি ধরে) এ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *