ব্লক মার্কেটে লেনদেনের শীর্ষে ব্র্যাক ব্যাংক, সায়হাম টেক্সটাইল ও স্কয়ার ফার্মা
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
সরকারি চাকরির বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জুলাই থেকে কার্যকর নতুন পে-স্কেলের বকেয়া মিলবে চলতি মাসের বেতনের সঙ্গে
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ব্লক মার্কেটে লেনদেনের শীর্ষে ব্র্যাক ব্যাংক, সায়হাম টেক্সটাইল ও স্কয়ার ফার্মা
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
সরকারি চাকরির বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জুলাই থেকে কার্যকর নতুন পে-স্কেলের বকেয়া মিলবে চলতি মাসের বেতনের সঙ্গে
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

এআই ও ইভিতে চাহিদা বাড়ায় তামার দাম ঊর্ধ্বমুখী

একই সময় নতুন তামার খনি থেকে উৎপাদন বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ায় ভবিষ্যতে সরবরাহ নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায় বিশ্ববাজারে তামার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এর প্রভাবে তামার দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। একই সময় নতুন তামার খনি থেকে উৎপাদন বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ায় ভবিষ্যতে সরবরাহ নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। খবর নিক্কেই এশিয়া।

লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) তিন মাস মেয়াদি তামার সরবরাহ চুক্তি মূল্য ১০ সেপ্টেম্বর টনপ্রতি রেকর্ড ১৪ হাজার ৮৭৫ ডলারে ওঠে। এক দশকে ধাতুটির দাম হয়েছে প্রায় তিন গুণ। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বিভিন্ন নতুন শিল্পে তামার ব্যবহার বৃদ্ধি।

বিশ্বব্যাপী পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের উদ্যোগ তামার চাহিদা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ইভিতে প্রচলিত গাড়ির তুলনায় বেশি তামা ব্যবহার করা হয়। সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পেও বাড়ছে তামার ব্যবহার।

এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে এআই। এআই-ভিত্তিক সেবা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার কারণে বিভিন্ন দেশে দ্রুত ডেটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে। এসব ডেটা সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিপুল পরিমাণ তার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম প্রয়োজন। তামা বিদ্যুৎ পরিবহনে কার্যকর হওয়ায় বৈদ্যুতিক কাজে এর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।

তবে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ একই গতিতে বাড়ছে না। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বে তামা উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ টন। এক দশকে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

তামা উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় সমস্যা খনিজের মান কমে যাওয়া। তামার আকরিকের মান বছর বছর কমছে। একই সঙ্গে সহজে উত্তোলনযোগ্য খনিগুলোর মজুদও ফুরিয়ে আসছে। ফলে নতুন খনি তৈরি করতে বেশি সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন হচ্ছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির পূর্বাভাস অনুযায়ী, নতুন খনি তৈরি বা বিদ্যমান খনির সম্প্রসারণ না হলে ২০৩০ সালে বিশ্বে খনি থেকে তামা উত্তোলন সর্বোচ্চ ২ কোটি ৭০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।

এরপর তা কমে ২০৪০ সালে ২ কোটি ২০ লাখ টনে নেমে যেতে পারে।

তামার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ উদ্যোগ নিচ্ছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র তামাকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ খনিজের তালিকায় যুক্ত করেছে। দেশটি অ্যারিজোনার রেজল্যুশন কপার খনির উন্নয়নও দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। খনিটি চালু হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় তামার খনি হতে পারে।

তামার চাহিদা ও সরবরাহের এ ব্যবধানই বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। সুমিতোমো করপোরেশন গ্লোবাল রিসার্চের তাকায়ুকি হোমা বলেন, ‘এআইসহ নতুন শিল্পের বিস্তারের কারণে তামার গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে।’

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তোরু ওকাবে বলেন, ‘তামার উৎস নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। দামের দিক থেকেও তামা এখন গুরুত্বপূর্ণ ধাতু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *