
ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তির নতুন রেকর্ড, মৃত্যু ৪
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬
হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর প্রাণহানি, মোট মৃত্যু হাজার ছুঁইছুঁই
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরো সুশৃঙ্খল করার ওপর জোর দিচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকারও বেশি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অর্থমন্ত্রী জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা।
সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরো সুশৃঙ্খল করার ওপর জোর দিচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
ঢাকা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, গ্রাহকের ধর্মীয় ও আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত ও শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেয়ার সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থ ব্যবস্থার সঙ্গে দেশের আর্থিক খাতকে আরো সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোকে মোট ১ হাজার ৬৯৯টি শাখার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ১ হাজার ৭৪টি এবং গ্রামাঞ্চলে ৬২৫টি শাখা রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ৩৫টি প্রচলিত (কনভেনশনাল) ব্যাংকে মোট ৭৫টি ইসলামী ব্যাংকিং শাখা এবং ১ হাজার ১০২টি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি আরো দুটি কনভেনশনাল ব্যাংককে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
কর নির্ধারণ নিয়ে করদাতাদের মধ্যে বিদ্যমান ভয় দূর করতে দেশের কর ব্যবস্থা সহজ ও অধিকতর স্বচ্ছ করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
বাগেরহাট-৪ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. আব্দুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মধ্যে কর নীতি প্রণয়ন এবং কর প্রশাসন ও বাস্তবায়নকে পৃথক করার দিকে সরকার এগোচ্ছে। এর মাধ্যমে কর প্রশাসনে দুর্নীতি ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ অনেকাংশে কমে আসবে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের (নোয়াখালী-৬) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে এবং তাদের কোনো ধরনের দায়মুক্তি দেয়া হবে না। তবে কোনো কোম্পানির শুধু মালিক বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেই ওই কোম্পানি বন্ধ করে দেয়া হবে না। কারণ একটি কোম্পানি একটি স্বতন্ত্র আইনগত সত্তা।’
বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এসব প্রকল্প পৃথকভাবে পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে। অনেক প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে, আবার অনেকগুলো মধ্যবর্তী পর্যায়ে রয়েছে।
সরকারি দলের সদস্য রেহানা আক্তার রানুর (সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, এসব প্রকল্প নিয়ে কয়েকটি মামলা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কৃষকদের ঋণ দেয়া এবং তাদের কৃষিকাজ সহজ করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
পাবনা-৩ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের ঋণসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিয়ে তাদের কৃষিকাজ অব্যাহত রাখার সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
এর আগে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমানের (মাদারীপুর-৩) তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের কৃষকদের মধ্যে সুদমুক্ত ঋণ বিতরণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে কৃষকদের মধ্যে কৃষি ও পল্লী ঋণ সহজ শর্তে এবং কম সুদে বিতরণ করা হচ্ছে।’


