বাড্ডায় ফার্নিচার গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস
সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
জ্বালানি সংকটের প্রভাব আগস্টে পুঁজিবাজারের সূচক কমেছে ৫ শতাংশ
সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
বাড্ডায় ফার্নিচার গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস
সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
জ্বালানি সংকটের প্রভাব আগস্টে পুঁজিবাজারের সূচক কমেছে ৫ শতাংশ
সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬

ইরানের জলসীমার কাছে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর জাহাজে হামলা

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা তিনটি ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর একটি ইরানের জ্বালানি তেল রফতানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের উপকূলের কাছে ছিল। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।
ইরানের আশপাশের জলসীমায় গতকাল মার্কিন ও ইরানি বাহিনী কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিনটি ইরানি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন পথে চলাচলের অভিযোগে তিনটি ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানিয়েছে তেহরান। খবর রয়টার্স।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা তিনটি ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর একটি ইরানের জ্বালানি তেল রফতানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের উপকূলের কাছে ছিল। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ‘আইআরজিসির জন্য বার্তাটি পরিষ্কার— আপনারা যদি আমাদের দুটি জাহাজে হামলা করেন, তাহলে আমরা আরো বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি করব। আপনাদের তিনটি জাহাজ ধ্বংস করে।’
এর জবাবে আইআরজিসি ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে আরো তীব্র হামলার হুমকি দিয়েছে। পরে তারা জানায়, তিনটি ট্যাংকারের পাশাপাশি অন্যান্য এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজও তারা লক্ষ্যবস্তু করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী বলেছে, ‘সন্ত্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রতারণায় বিভ্রান্ত হবেন না এবং অনুমোদনহীন জলপথ দিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা থেকে বিরত থাকুন। অন্যথায় আপনাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’
আধা-সরকারি ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপের নোঙর করার এলাকায় একটি ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে তাসনিম জানিয়েছে, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং জাহাজটির ক্রুদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছিল।
সেন্টকম জানিয়েছে, এই হামলায় কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি।
গত এক সপ্তাহ ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যেই পাল্টাপাল্টি এসব হামলা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত আরো ভয়াবহ রূপ নেয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে এই সংঘাত চলছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেস নির্বাচনের আগে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের বিরোধিতার মুখেও পড়েছে এই যুদ্ধ।
খার্গ দ্বীপ নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরো বাড়িয়ে অর্থনৈতিক চাপ জোরদারের দিকে এগোলেও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা খোলা রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
গত ৩১ আগস্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক লাইনের একটি পোস্ট দেন। এর সঙ্গে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও, যাতে খার্গ দ্বীপকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়ার’ দৃশ্য দেখানো হয়। ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপে হামলা হলে তারা কঠোর জবাব দেবে।
ইরান পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম উৎপাদক। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ খার্গ দ্বীপ দিয়ে রফতানি হতো। এপ্রিলের মাঝামাঝি ইরানের তেল রফতানিতে মার্কিন নৌ অবরোধ শুরু করার পর থেকে সেই সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এর আগেও খার্গ দ্বীপে হামলার কথা বলেছেন ট্রাম্প। ১১ জুন তিনি দ্বীপটি দখলে নেয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তবে এর কয়েক দিন পর বলেন, সেখানে মার্কিন সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই। এর পর ১৭ জুন তেহরান ও ওয়াশিংটন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তিতে পৌঁছায়।
খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হলে ইরানের তেলশিল্প ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর আরো চাপ তৈরি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে এমনিতেই দেশটির অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মধ্যে রয়েছে।
ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার পর দেশটির বন্দরগুলোয় অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। এর প্রভাবে শুক্রবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ফিউচার চুক্তির দাম ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে প্রতি ব্যারেল ৯৬ ডলার ২৮ সেন্টে লেনদেন শেষ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *