ঠাকুরগাঁওয়ে তিন পরিবহনের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪
আগস্ট ২৬, ২০২৬
কয়েকশ মানুষের সন্ধানে চলছে অভিযান ভূমিকম্প নয় হিমবাহ ধসেই নেপালে আকস্মিক বন্যা, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
আগস্ট ২৭, ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ে তিন পরিবহনের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪
আগস্ট ২৬, ২০২৬
কয়েকশ মানুষের সন্ধানে চলছে অভিযান ভূমিকম্প নয় হিমবাহ ধসেই নেপালে আকস্মিক বন্যা, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
আগস্ট ২৭, ২০২৬

এলসির বাইরে মূল্যসীমা ছাড়াই পণ্য আমদানির সুযোগ

ঋণপত্র বা এলসির পাশাপাশি এখন থেকে কোনো নির্দিষ্ট মূল্যসীমা ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে পারবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকেরা।
একই সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠার বিধান, প্রবাসী বাংলাদেশীদের শিল্পে বিনিয়োগে আমদানি সুবিধা এবং রফতানিমুখী শিল্পে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
এসব বিধান রেখে ২০২৬-২৯ মেয়াদের নতুন আমদানি নীতি আদেশ জারি করেছে সরকার। সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে।
আগের ২০২১-২৪ মেয়াদের আমদানি নীতিতেও এলসি ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ ছিল। তবে সেখানে নির্দিষ্ট মূল্যসীমা ও বিভিন্ন শর্ত ছিল। নতুন নীতিতে সে সীমা তুলে দিয়ে আমদানিকারক ও বিদেশী সরবরাহকারীর মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক চুক্তির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে।
আগের নীতিতে বাণিজ্যিক আমদানিকারকেরা এলসি ছাড়া বাংলাদেশ থেকে অর্থ পরিশোধ করে বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করতে পারতেন। নতুন নীতিতে এ ধরনের নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা না রেখে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
নতুন আমদানি নীতিতে ব্যবসা সহজীকরণ, রফতানি সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও শিল্পের কাঁচামালের সহজলভ্যতার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এলসির পাশাপাশি বিকল্প বাণিজ্যিক চুক্তির সুযোগ বাড়ানোর ফলে আমদানিকারকদের জন্য অর্থ পরিশোধের পদ্ধতিও আরো নমনীয় হবে।
নীতিতে ফ্রি ট্রেড জোন ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্য, লজিস্টিকস ও পুনঃরফতানি কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। রফতানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাও এর মাধ্যমে আরো কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।
এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের শিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে তাদের অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত অর্থ পরিশোধ পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টিও এতে রয়েছে।
রফতানিমুখী শিল্পে কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণ আমদানির সুবিধাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। রফতানি বহুমুখীকরণ ও উচ্চ মূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্যের রফতানি বাড়াতে বিভিন্ন শিল্পে বিনামূল্যে বা ‘ফ্রি অব কস্ট’ ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রফতানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এ সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন নীতিতে পণ্যের এইচএস কোড ও বর্ণনার মধ্যে অসামঞ্জস্যজনিত জটিলতা কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এতে আমদানি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ও হয়রানি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এদিকে নতুন আমদানি নীতির শুরুতেই এফটিএ, সেপা, ইপিএসহ বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব চুক্তির আওতায় আমদানি ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের সুযোগ রাখাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
সামগ্রিকভাবে নতুন নীতিতে আমদানি ব্যবস্থাকে এলসি-নির্ভর কাঠামো থেকে আরো নমনীয় ও চুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের জন্য আমদানি প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত হতে পারে। তবে এলসির বাইরে লেনদেন বাড়লে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, ওভার-ইনভয়েসিং, আন্ডার-ইনভয়েসিং ও অর্থ পাচার ঠেকাতে নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি জোরদারের প্রয়োজন হবে।
উল্লেখ্য, ২০২১-২৪ মেয়াদের আমদানি নীতির কার্যকাল ২০২৪ সালের ৩০ জুন শেষ হয়। নতুন আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত আগের নীতিই কার্যকর ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *