ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ আছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা
আগস্ট ৩, ২০২৬
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র টিকবে -মির্জা ফখরুল
আগস্ট ৩, ২০২৬
ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ আছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা
আগস্ট ৩, ২০২৬
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র টিকবে -মির্জা ফখরুল
আগস্ট ৩, ২০২৬

ঘোড়াঘাটে করতোয়ায় ভাঙন নদীতে বিলীনের মুখে ৭ কিলোমিটার এলাকা, হুমকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প

 

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে পৌরসভার সাত কিলোমিটার এলাকা।

এরই মধ্যে নদীতে চলে গেছে বহু বাড়িঘর, বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মন্দির, খেলার মাঠ ও ফসলি জমি। বিলীনের পথে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনেক ঘর। কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পৌর এলাকাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল নদীতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত শহর রক্ষাবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঘোড়াঘাট শহরের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে করতোয়া নদী। এ নদীর তীব্র স্রোতে পৌরসভার সাত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চরম ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েক বছরে ভাঙন আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ বসতভিটা ও জমিজমা হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরজমিনে দেখা যায়, করতোয়া নদীর ভাঙনে কুলানন্দপুর ও শালিকাদহসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হাহাকার বিরাজ করছে। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বসতঘর নদীভাঙনের মুখে রয়েছে। চম্পাতলী থেকে লালমাটি পর্যন্ত পৌরসভার সাত কিলোমিটার এলাকায় এরই মধ্যে ভাঙন শুরু হয়েছে। স্থানীয় অনেকের বসতভিটা, ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কিছু জায়গায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে সড়ক ও খেলার মাঠ। এছাড়া হঠাৎপাড়ার তিন ফুট নিচু বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে থানা সদরসহ পৌর এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

কুলানন্দপুর গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা পূর্ণিমা রানী বলেন, ‘নদী ভেঙে যাওয়ায় আমরা খুব কষ্টে আছি। আমার বাড়ির পাশেই নদী চলে এসেছে। আর একটা বাড়ি ভাঙলেই আমার ঘর ভেঙে যাবে। এ ঘর সরকার দিয়েছে। এটি ভাঙলে ছেলেমেয়েকে নিয়ে কোথায় যাব? জমি কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই। দিনে আনি দিনে খাই।’ তিনি আরো জানান, ৫০-৬০ বছর পর গ্রামে চাঁদা তুলে তারা একটি মন্দির করেছেন। কিন্তু নদীভাঙনে এখন সেটিও বিলীন হওয়ার মুখে পড়েছে। একই গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘খেয়াঘাট ছিল অনেক দূরে। ভাঙতে ভাঙতে তা বাড়ির কাছে চলে এসেছে। এরই মধ্যে অনেক বাড়ি নদীগর্ভে গেছে। নদীতে পানি বেড়ে এক নদী এখন দুই নদী হয়ে গেছে। তীব্র স্রোতের জন্য নৌকা চালানো যাচ্ছে না। সরকারের লোক এসে দেখে যায়। কিন্তু কোনো বাঁধ তৈরি করে না।’

স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মিমি বলে, ‘আমাদের ঘর ভেঙে গেছে। পানিতে রাস্তা ডুবে গেছে। তাই স্কুলে যেতে পারছি না। স্কুলও ভাঙার উপক্রম হয়েছে। নদীর পানিতে খেলার মাঠ ডুবে গেছে। আমাদের খেলাধুলা একদম বন্ধ।’

ঘোড়াঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলন বলেন, ‘দিনাজপুরের সবচেয়ে বেশি ভাঙনকবলিত এলাকা ঘোড়াঘাট পৌরসভা। চম্পাতলী থেকে লালমাটি পর্যন্ত সাত কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের মুখে। পৌরসভার হঠাৎপাড়ায় আর মাত্র তিন ফুট জায়গা বাকি আছে। এই তিন ফুট ভাঙলে পুরো পৌরসভা ও থানা সদরে নদীর পানি ঢুকে পড়বে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী সুমন চন্দ্র বলেন, ‘নৌকায় করে আমরা পুরো ঘোড়াঘাট পৌরসভা এলাকা ভিজিট করেছি। যেসব জায়গা বেশি ভালনারেবল, সেগুলোর তালিকা করেছি। তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা দিয়েছে। আমরা ব্যবস্থাও নিয়েছি। তবে কুলানন্দপুরের অবস্থা একটু বেশি খারাপ। এজন্য সেখানে বস্তা ডাম্পিং করা হবে। এটির কাজ চলছে। আর বাকি পয়েন্টগুলোরও কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে।’

ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিন বলেন, ‘করতোয়া নদীর তীরবর্তী কুলানন্দপুর, শালিকাদহ অংশে ভাঙন বেশি হচ্ছে। সেখানে কিছু সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর আছে, প্রায় ৪০টি পরিবার বসবাস করে। আমরা সরজমিনে দেখে আসছি। কিছু ঘর এরই মধ্যে ভেঙে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা প্রজেক্ট নিয়েছে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যৌথভাবে জিও ব্যাগ দিয়ে আপাতত তীর রক্ষা করার দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *