টেকনাফে নৌকাডুবিতে ১৩ রোহিঙ্গা নিখোঁজ
আগস্ট ১, ২০২৬
গ্রেফতার
আগস্ট ১, ২০২৬
ফেনী ও রাজবাড়ী জেলার ছয় খাল পুনঃখনন শেষে সরকারি বরাদ্দের অবশিষ্ট টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কর্মকর্তারা।
এর মধ্যে ফেনীতে চার খাল পুনঃখনন শেষে বরাদ্দের অবশিষ্ট ২ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ৭১৭ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেন দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে দুই খাল পুনঃখনন কাজ শেষ করে উদ্বৃত্ত ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। নির্ধারিত কাজের মান বজায় রেখে সরকারি বরাদ্দের অবশিষ্ট টাকা ফেরত দেয়ার ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। প্রতিনিধিদের খবর—
ফেনী: বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সুরক্ষার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার দেশব্যাপী ব্যাপক খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও কৃষি বিভাগ ফেনী জেলায় ৩৩ খাল সংস্কার ও পুনঃখননের জন্য সরকারের কাছে তালিকা পাঠায়। এসব তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিক পর্যায়ে অগ্রাধিকার ও জনগুরুত্ব বিবেচনায় ফেনীতে চারটি খাল পুনঃখননে সরকার ৫ কোটি ৭ লাখ ৪১ হাজার ৬৯৫ টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে খালগুলো সরকারের দেয়া মান বজায় রেখে পুনঃখননে ব্যয় হয় ২ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ৯৭৮ টাকা। অবশিষ্ট ২ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ৭১৭ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়।
ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, ‘এটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ফেনী শহরের পানি নিষ্কাশন ও বিস্তীর্ণ এলাকার চাষাবাদ। প্রকল্পটি অত্যন্ত সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রচেষ্টা ছিল। রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় আমরা কাজটি সম্পন্ন করে বাকি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছি।’
এদিকে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দুটি খাল সংস্কারে সরকার ১ কোটি ৩ লাখ ৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রাজাপুর ইউনিয়নের বিরলী খালের জন্য বরাদ্দের ৫১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা থেকে ব্যয় হয় ১৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। বাকি ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকা অবশিষ্ট থেকে যায়। একইভাবে জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনিয়া খালের দুই কিলোমিটার খননে সরকার ৫১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে সরকারি নির্দেশনা ও শর্ত অনুযায়ী খালটি খননে ব্যয় হয় ২৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা। এ প্রকল্পেও ২৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা অবশিষ্ট থেকে যায়।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘দুই খালের পুনঃখননে সরকার ১ কোটি ৩ লাখ ৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজটি করতে ব্যয় হয় ৪১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। অবশিষ্ট ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার আলোকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।’
রাজবাড়ী: বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের সাধুখালী মই বিলে কানাই মণ্ডলের পুকুর চালা থেকে সাধুখালী সরিষার বিল ভায়া সাধুখালী মাধুরীর বাড়িসংলগ্ন ব্রিজ থেকে বহলাকুণ্ডু রতনের পুকুর চালা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন এবং জামালপুর ইউনিয়নের মাগুরা রফিকের বাড়ি থেকে হাতিমোহন হয়ে মাশালিয়া পর্যন্ত তিন কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের আওতায় মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৮ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। গত ১৪ মে থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ ২২ জুন শেষ হয়। দুই খালের মোট দৈর্ঘ্য ছয় কিলোমিটার।
দুই প্রকল্পে মোট বরাদ্দের অবশিষ্ট ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত যায়। দুটি প্রকল্পে ২৯৭ জন উপকারভোগী ছিলেন। প্রকল্পের অংশ হিসেবে খাল দুটির পাড়ে ৩ হাজার ৪০০টি বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্পের কাজের মান বজায় রেখে সরকারি অর্থের সাশ্রয় নিশ্চিত করা হয়েছে। অব্যয়িত ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ টাকা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদে খাল খনন ও পুনঃখনন করায় সুফল পাবেন।’


