
রাকসু ভবনে হামলা ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রাবির ২ শিক্ষার্থী গ্রেফতার
জুলাই ২৮, ২০২৬
বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদে ইরান-ইউক্রেন উত্তেজনা, এর তাৎপর্য কী
জুলাই ২৮, ২০২৬সিজেপি জানিয়েছে, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভে অংশ নেয়া শত শত শিক্ষার্থীকে আটক রাখা হয়েছে বা পুলিশ হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এসব রাজ্যে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে
ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আবারো বিক্ষোভে ফেরার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দলটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, আটক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে সরকার। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
সিজেপি জানিয়েছে, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভে অংশ নেয়া শত শত শিক্ষার্থীকে আটক রাখা হয়েছে বা পুলিশ হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এসব রাজ্যে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে।
গত শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না—এমন আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলন স্থগিত করে সিজেপি। তবে সোমবার সংগঠনটি অভিযোগ করে, সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।
সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার যদি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে আন্দোলন পুনরায় শুরু করতে তারা বাধ্য হবেন।
সংগঠনটির দাবি, সারা দেশে অন্তত ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এদিকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আন্দোলনের অন্যতম মুখ নেহা বোরা গতকাল বিহার সফর করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গত সপ্তাহের বিক্ষোভে অংশ নেয়া আন্দোলনকারীদের মুসলিম বলে ইঙ্গিত করেন। পরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্যের নতুন কঠোর আইনে একাধিক মামলা করা হয়।
আন্দোলনের আরেক মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, পুলিশের করা ফৌজদারি মামলায় জড়ানো আন্দোলনকারীদের আইনি ব্যয় বহনে একটি তহবিল গঠন করেছে সিজেপি।
গত মে মাসে অভিজিৎ দীপকের উদ্যোগে গঠিত সিজেপি অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে গত সপ্তাহে দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে লাখো শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন।
২০ জুলাই দিল্লির যন্তর-মন্তর এলাকা থেকে সংসদ অভিমুখে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করলে বহু শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
এ ঘটনার পর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হলে প্রধান বিচারপতি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার ভারতের সংবিধান দ্বারা নিশ্চিত।
এদিকে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আরো কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।


