
চা শিল্পের উন্নয়নে সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
জুলাই ২৭, ২০২৬
স্যামসাং-এলজির ওপর অ্যাপলের চাপ, ডিসপ্লের দাম কমানোর প্রস্তাব
জুলাই ২৭, ২০২৬ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শুরুর পর প্রতিরক্ষা শিল্পের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর দ্রুত বাড়বে বলে ধারণা করেছিলেন অনেক বিনিয়োগকারী। কারণ যুদ্ধ মানেই অস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা।
কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টো। যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে। ফলে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে লাভের আশা করা অনেক বিনিয়োগকারী লোকসানের মুখে পড়েছেন। খবর ফরচুন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর ইরান যুদ্ধের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার। একই সময়ে ইতিহাসের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রস্তাব দিয়েছে পেন্টাগন। তবু এ খাতের শেয়ারবাজার প্রত্যাশা মতো সাড়া দেয়নি বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
ফরচুনের বিশ্লেষণ বলছে, যুদ্ধ শুরুর প্রথম কয়েক দিনে বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর শেয়ার কেনাবেচা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে লেনদেন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের গড়ের তুলনায় ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ছিল। কিন্তু সে গতি বেশিদিন টেকেনি।
সম্প্রতি নর্থরপ গ্রুম্যানের শেয়ারদর ৩০ শতাংশের বেশি কমেছে। এলথ্রিহ্যারিস টেকনোলজিসের শেয়ার ২০ শতাংশের বেশি নেমেছে। লকহিড মার্টিনের শেয়ার প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। রেথিয়ন টেকনোলজিস (আরটিএক্স) একসময় প্রায় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আর্থিক ফল প্রকাশের পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখন প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার আগের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ চলাকালে বিপুল পরিমাণ আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্যানুযায়ী, এক হাজারের বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও শত শত থাড, প্যাট্রিয়ট ও এসএম-৩ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে ইরান যুদ্ধে।
এসব অস্ত্রের মজুদ পুনরায় পূরণ করতে বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর নতুন অর্ডার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এটি আগের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি। তার পরও বিনিয়োগকারীরা খুব বেশি আশাবাদী নন বলে জানান।
বিনিয়োগ ব্যাংক সলোমন পার্টনারসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাই রোজেন্টসভেইগ বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াবে ও যুদ্ধের কারণে অস্ত্র কোম্পানিগুলো লাভবান হবে বলে আগেই ধরে নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। তাই সে প্রত্যাশা অনুযায়ী শেয়ারদর আগেভাগেই বেড়ে গিয়েছিল। পরে ঘটনা বাস্তবে ঘটলেও নতুন করে বড় উল্লম্ফন দেখা যায়নি।’
এখন বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছেন, বড় বাজেটের ঘোষণা বাস্তবে নতুন চুক্তি, দ্রুত উৎপাদন ও বেশি মুনাফায় রূপ নেয় কিনা।
জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটির বারোনি সেন্টার ফর গভর্নমেন্ট কন্ট্র্যাক্টিংয়ের নির্বাহী পরিচালক মাইক ডেরিওস বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি লাভের সুযোগ তৈরি হয় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই।’
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ২০২২ সালে কিছু প্রতিরক্ষা কোম্পানির শেয়ার প্রথম দিকে বাড়লেও পরে তা সামগ্রিক শেয়ারবাজারের গতির সঙ্গে মিলিয়ে যায়। ফিশার ইনভেস্টমেন্টসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, যুদ্ধের পর নয়, বরং তার আগেই বেশির ভাগ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা কোম্পানির শেয়ারের ওপর শুধু যুদ্ধের প্রভাব পড়ে না। অর্থনীতি ও রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদাহরণ হিসেবে বোয়িংয়ের কথা বলা যায়। প্রতিষ্ঠানটির বড় অংশের আয় আসে বাণিজ্যিক বিমান ব্যবসা থেকে। ফলে পেন্টাগনের ব্যয় বাড়লেও বেসামরিক উড়োজাহাজের বাজার দুর্বল হলে শেয়ারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ক্যাপিটাল আলফা পার্টনারসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বায়রন ক্যালান বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনমত আরো নেতিবাচক হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আগামী কয়েক বছর প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।’
তার মতে, জ্বালানির দাম ফের বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। তখন সুদহারও দীর্ঘ সময় উঁচু থাকতে পারে। এতে শেয়ারবাজারের ওপর নতুন চাপ তৈরি হবে।
শেয়ারদর কমলেও বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর অর্ডার এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
রেথিয়ন টেকনোলজিসের হাতে বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের অর্ডার রয়েছে। নর্থরপ গ্রুম্যানের ক্রয়াদেশের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে প্রতিরক্ষা খাতের সবচেয়ে বড় সুযোগ হয়তো ঐতিহ্যবাহী ঠিকাদারদের নয়, বরং নতুন প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোর সামনে তৈরি হবে।
গত কয়েক বছরে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতে কয়েকশ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এসব স্টার্টআপ কম খরচে, দ্রুত ও সফটওয়্যারনির্ভর অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
পিচবুকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতে ২৬২টি চুক্তির মাধ্যমে রেকর্ড ১ হাজার ৯৮০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ বিনিয়োগ ছিল ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।
বর্তমানে অ্যান্ডুরিল, শিল্ড এআই ও সারোনিকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সিলিকন ভ্যালির দ্রুতবর্ধনশীল প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানির তালিকায় রয়েছে।
এখনো এসব প্রতিষ্ঠানের হাতে পেন্টাগনের মোট চুক্তির খুব নগণ্য অংশই রয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে মূল্যবান ১৫টি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি স্টার্টআপের চুক্তির পরিমাণ গত কয়েক বছরে তিন গুণ হলেও তা এখনো প্রতিরক্ষা বিভাগের মোট চুক্তি মূল্যের ১ শতাংশেরও কম।


