মেসিকে ঘিরে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আবেগঘন লড়াই
জুলাই ১৫, ২০২৬
মেসির মার্কারের মেসি-মুগ্ধতা
জুলাই ১৫, ২০২৬
মেসিকে ঘিরে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আবেগঘন লড়াই
জুলাই ১৫, ২০২৬
মেসির মার্কারের মেসি-মুগ্ধতা
জুলাই ১৫, ২০২৬

বিদায় ফ্রান্স, ফাইনালে স্পেন

২৩তম ফিফা বিশ্বকাপে গতকাল ডালাসে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল হট ফেভারিট ফ্রান্স ও অন্যতম ফেভারিট স্পেন। র‍্যাংকিংয়ের এক ও তিনের এ লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেল ‘লা রোজা’রা।

দিদিয়ের দেশমের দলের সামনে সুযোগ ছিল ব্রাজিলের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা তিনবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার। তবে তাদের সেই রেকর্ড থেকে বঞ্চিত রেখে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠে গেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ২০১০ সালে প্রথমবার ফাইনালে উঠে শিরোপা জিতে নিয়েছিলেন জাভি, ইনিয়েস্তারা। এবার দ্বিতীয় শিরোপার হাতছানি। রোববার রাতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের সামনে পড়বে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ম্যাচের বিজয়ী।

ডালাসে কাল ছিল দুই সুপারস্টার লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পের লড়াই। এ লড়াইয়ে ১৯ বছর বয়সী ইয়ামালের কাছে হার মানলেন ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে। স্পেনের জয়ে মূল্যবান অবদান রেখে ১৯তম জন্মদিনের দামি উপহারই পেলেন ইয়ামাল।

ইউরোপের দুই হেভিওয়েট দল এ নিয়ে ৩৯ ম্যাচে মুখোমুখি হয়, যার মধ্যে ১৯ জয় নিয়ে এগিয়ে থাকল স্পেন, ফ্রান্স জিতেছে ১৩টি। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হলো, এ নিয়ে টানা তিনটি বড় আসরে ফ্রান্সকে হারানোর কৃতিত্ব দেখাল স্পেন। ২০২৪ সালে ইউরো জয়ের পথে সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারান ইয়ামালরা। ২০২৫ সালের উয়েফা নেশন্স লিগ সেমিফাইনালে দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়। ওই ম্যাচে ৯ গোলের থ্রিলারে ৫-৪ গোলের জয় তুলে নেয় স্পেন। এবার বিশ্বকাপেও জিতল ‘লা রোজা’রা। তিনটি জয়েই বড় অবদান রাখেন ইয়ামাল।

ফ্রান্সের বিপক্ষে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে আক্রমণের চাপ তৈরি করেছিল স্পেন। সেই চাপের ফলও পেয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। লামিনে ইয়ামালকে নিজেদের বক্সে ফাউল করে বসেন লুকাস দিনিয়ে। তিনি ইয়ামালের পায়ে সরাসরি আঘাত করায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি ইভার বার্টন। ২২ মিনিটে স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ওয়ারজাবাল। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্পেন।

দ্বিতীয়ার্ধেও ফ্রান্সের ওপর চাপ ধরে রেখে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পেন। ৫৮তম মিনিটে ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ‘লা রোজা’রা। গোলের পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন স্প্যানিশ খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা। সেখানেই ফরাসিদের সব সম্ভাবনা যেন শেষ হয়ে যায়।

৬২তম মিনিটেই ব্যবধান ৩-০ করে ফেলেছিল স্পেন—এমনটাই মনে হয়েছিল। বাম প্রান্তে লুকাস দিনিয়েকে ধোঁকা দিয়ে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে যান ইয়ামাল। এরপর বাঁকানো শটে মাইক মাইনানকে পরাস্তও করেন স্প্যানিশ তরুণ। তবে উদযাপন স্থায়ী হয়নি ইয়ামাল ও তার সতীর্থদের। খুব অল্প ব্যবধানে অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল করেন রেফারি। তার শরীরের অর্ধেকটা স্পেনের খেলোয়াড়র চেয়ে এগিয়ে থাকায় অফসাইড দেয়া হয়।

এ গোলটি না পেলেও জিততে সমস্যা হয়নি স্পেনের। শেষ মুহূর্তে ফরাসিদের চাপ সামলে নিতে সমর্থ হয় স্পেনের রক্ষণভাগ।

ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের পায়ে ছিল বলের দখল। রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইসের নিয়ন্ত্রণে মাঝমাঠে ছন্দ তৈরি করে দুই প্রান্তে লামিনে ইয়ামাল ও অ্যালেক্স বায়েনাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছিল তারা। বিপরীতে ফ্রান্স অপেক্ষা করছিল দ্রুত পাল্টা আক্রমণে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমান দেম্বেলেকে বল পৌঁছে দেয়ার সুযোগের জন্য। তবে প্রথম ১৫ মিনিটে নিজেদের স্বাভাবিক গতিতে খেলতে পারেনি দিদিয়ের দেশমের দল।

১১তম মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ফ্রি কিক পেয়েছিল স্পেন। ভালো জায়গা থেকে নেয়া বায়েনার শট অবশ্য ফ্রান্সের রক্ষণ দেয়ালেই আটকে যায়। এর কিছুক্ষণ পর আক্রমণে উঠে সতীর্থের উদ্দেশে উঁচু পাস দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু ফরাসি অধিনায়কের পাসটি ঠিকানা খুঁজে না পেয়ে সরাসরি গোললাইনের বাইরে চলে যায়।

১৮তম মিনিটে রদ্রির গোঁড়ালিতে স্টাড দিয়ে আঘাত করেন মাইকেল ওলিসে। বল দখলের লড়াইয়ে দেরিতে পৌঁছানো ফরাসি ফরওয়ার্ডের চ্যালেঞ্জটি বেশ বিপজ্জনক হলেও তাকে কার্ড দেখাননি রেফারি। তবে এর এক মিনিট পরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া মুহূর্তটি তৈরি করেন ইয়ামাল। স্পেনের আক্রমণ থেকে উড়ে আসা একটি উঁচু বল বিপদমুক্ত করতে গিয়েছিলেন দিনিয়ে। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি আঘাত করে বসেন স্প্যানিশ উইঙ্গারকে। সঙ্গে সঙ্গে মাঠে পড়ে যান ইয়ামাল এবং পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

প্রবল চাপের মধ্যেও কোনো ভুল করেননি ওয়ারজাবাল। স্নায়ু স্থির রেখে নেয়া শটে ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনানকে পরাস্ত করেন। তার বাম পায়ের শটে মাইনান বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও বলের নাগাল পাননি। ফলে ২২তম মিনিটে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ওয়ারজাবাল। এরপর দ্বিতীয় গোলে ফরাসিদের কফিনে যেন শেষ পেরেক ঠুকে দেন পোরো।

রোববারের ফাইনালে ইংল্যান্ড উঠলে দারুণ এক দৃশ্যের অবতারণা হবে। পুরুষ ও নারী মিলিয়ে বিশ্বকাপ কিংবা ইউরোতে টানা চারটি ফাইনালে খেলবে স্পেন ও ইংল্যান্ড।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *