
পাকিস্তানে যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় নিহত অন্তত ৪০
জুলাই ৪, ২০২৬
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২,৬৪৫, আহত ১২,৬৬৬
জুলাই ৪, ২০২৬বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে যান। প্রথমে যান মালয়েশিয়া, সেখান থেকে তিনি চীন সফর করেছেন।
এ সফরে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের গতিপথের ওপর নজর রেখেছে ভারত। চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডোর তৈরির বিষয়ে ওই সফরে যে কথাবার্তা হয়েছে, তার সম্ভাব্য প্রভাবের ওপরও ভারত নজর রেখেছে।
গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর যেকোনো ধরনের ঘটনাপ্রবাহ ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং ঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।’
গত মাসের শেষ দিকে চীনে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এ সফরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যোগাযোগ ও অর্থনীতির ব্যাপ্তি বাড়াতে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক করিডোর করার প্রস্তাব সামনে আনেন। পরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘চীনের প্রস্তাবিত করিডোর নিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে এখনো কোনো অবস্থান নিইনি।’
নয়াদিল্লিতে ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো চীনের কাছ থেকে বেশকিছু যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের মনোভাব কী? জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে যা কিছু আলোচনা হয়—সবই ভারত নিরীক্ষণ করে। যখন যেমন পদক্ষেপের প্রয়োজন হয়, তা নেয়া হয়।’ এ ধরনের উদ্যোগ ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ কিনা সে বিষয়ে মুখপাত্র অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দেশটি থেকে বাংলাদেশের জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আলোচনা হয় বলে ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীন কোনো দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও কোনো মন্তব্য করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে তারেক রহমানের চীন সফরে তিস্তা প্রকল্প ও মোংলা বন্দরের উন্নয়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার বিষয়টি। এ নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পের উন্নয়নে ভারতীয় সহায়তার বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি। সেই রোডম্যাপ নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়ে ভারতীয় মনোভাবের কথা আগেই বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে যা কিছু অগ্রগতি, তা সার্বিকভাবে বিবেচনা করা হবে।’


