
ডলারের বিপরীতে ৪০ বছরের সর্বনিম্নে জাপানি ইয়েন
জুলাই ১, ২০২৬
এআই, জ্বালানি তেল, স্বর্ণ ও ডলারের ওঠানামা এশিয়ার আর্থিক বাজারে উত্থান-পতনের ছয় মাস
জুলাই ১, ২০২৬মালয়েশিয়ায় এবার ডুরিয়ান ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে সরবরাহ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় এশিয়ার জনপ্রিয় ফলটির দাম অনেক কমে গেছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, বিক্রেতারা এখন অর্ধেক দামে ডুরিয়ান বিক্রি করছেন। কোনো কোনো দোকানে এটি বিনামূল্যেও দেয়া হচ্ছে। খবর বিবিসি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের ট্যাম্পিনস এলাকার একটি ফলের দোকানের সামনে গত কয়েক দিন ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে ওই দোকানদার প্রতিদিন বিনামূল্যে ডুরিয়ান দিচ্ছেন। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুটি করে ফল পাচ্ছেন। এর জন্য বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ কেজি ফল বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ায় সাধারণত প্রতি বছর সাড়ে পাঁচ লাখ টনের মতো ডুরিয়ান উৎপাদন হয়। তবে ২০২৬ সালে অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় উৎপাদন অনেক বেশি হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের বাসিন্দা চের্নগ জানান, দাম কম থাকায় তিনি ও তার পরিবার এখন প্রায় প্রতিদিনই ডুরিয়ান খাচ্ছেন। গত মৌসুমগুলোর তুলনায় এবার প্রায় অর্ধেক দামে ভালো মানের ফল পাওয়া যাচ্ছে।
তবে গ্রাহকরা খুশি হলেও মালয়েশিয়ার সাধারণ চাষীরা বিপাকে পড়েছেন। তারা জানান, গত এক দশকে চীনে ডুরিয়ানের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। বাড়তি চাহিদার সুবিধা নিতে মালয়েশিয়ার বহু কৃষক তাদের রাবার বাগান ও পাম গাছ কেটে ডুরিয়ান চাষ শুরু করেন। সেসব গাছ এখন একসঙ্গে ফল দিতে শুরু করায় বাজারে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মালয়েশিয়ার রাউব এলাকার বাগান মালিক লু ইয়ু থিং জানান, চীনে মূলত প্রিমিয়াম জাতের ‘মুসাং কিং’ ডুরিয়ানের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। জনপ্রিয়তার কারণে গত ১০ বছরে বহু কৃষক এ জাতের চাষে যুক্ত হন। নতুন সব বাগানের গাছ একসঙ্গে পরিপক্ব হওয়ায় বাজারে এখন অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হয়েছে।
লু জানান, গত ডিসেম্বরেও তিনি প্রতি কেজি মুসাং কিং ডুরিয়ান পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে সাড়ে ১৩ রিঙ্গিতে (৩ ডলার ৩০ সেন্ট) বিক্রি করেছিলেন। আরেক ব্যবসায়ী হান জানান, লোকসান কমাতে তিনি এখন ডুরিয়ানের পাশাপাশি কলাসহ অন্যান্য ফল বিক্রি শুরু করেছেন।
চাষীরা আরো জানান, বাজারে এখন কম মানের ডুরিয়ানও চলে এসেছে। জোহর রাজ্যের ডুরিয়ান চাষী হান সিং কেং জানান, বাজারে এখন সস্তায় যে ডুরিয়ান পাওয়া যাচ্ছে, তার অনেকগুলোই রফতানিযোগ্য নয়। নাম ‘মুসাং কিং’ হলেও এগুলো মানসম্মত নয়। তাই বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রিমিয়াম জাতের ব্ল্যাক থর্ন থেকে শুরু করে সাধারণ মানের কামপুং ডুরিয়ানসহ সবকিছুর দামই এখন কম। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এমনিতেই এবার উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে, তার ওপর বাজারের দরপতনে চাষীরা বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন।


