
কাতারের রূপকথা ফিরিয়ে শেষ ষোলোয় মরক্কো
জুলাই ১, ২০২৬
সিয়াটলে মুখোমুখি বেলজিয়াম সেনেগাল কঙ্গোর ফাঁদে পড়বে না তো ইংল্যান্ড
জুলাই ১, ২০২৬বিশ্বকাপে এশিয়ার কোনো দলের কাছে প্রথম পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল ব্রাজিল।
সেই সঙ্গে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে আগেভাগে বিদায় নেয়ার ঝুঁকিও ছিল। তবে জাপানের কাছে শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে সমর্থ হয় ‘সেলেসাও’রা। মূলত ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাসই দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দেয়।
প্রথমার্ধে জাপানের কৌশলের কাছে মার খায় ব্রাজিল। ‘ব্লু সামুরাই’রা ৫-৪-১ ফর্মেশনে খেলে ব্রাজিলের মাঝমাঠের পথ বন্ধ করে দেয়। জাপানের পাঁচজনের এ রক্ষণ দেয়াল যেন কিছুকেই ভাঙতে পারছিল না আনচেলত্তির শিষ্যরা। এরই মধ্যে ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর গোলে আরো চাপ বাড়ে ব্রাজিলের ওপর। দানিলোর ভুল পাস ও কাসেমিরোর রক্ষণাত্মক পজিশনিংয়ে ভুলের সুযোগ নিয়ে কাইশু সানো দুর্দান্ত এক ফিনিশে এগিয়ে দেন জাপানকে।
আনচেলত্তি বলছিলেন, প্রথমার্ধে জাপানের সুসংগঠিত রক্ষণভাগের কারণে মাঝমাঠ দিয়ে আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি তার দল। উইং দিয়ে চেষ্টা করা হলেও জাপানের কড়া মার্কিংয়ের কারণে তাতেও সফলতা আসেনি। বাধ্য হয়েই বিরতির পর কৌশলে পরিবর্তন আনেন ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের অন্যতম সেরা ট্যাকটিশিয়ান আনচেলত্তি। লুকাস পাকেতা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে তার বদলে তরুণ এন্দ্রিককে নামিয়ে তাকে সেন্টার ফরওয়ার্ডের ভূমিকা দেয়া হয়, আর মাথেউস কুনিয়াকে তার পেছনে মিডফিল্ডে খেলানো হয়।
এ নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা মাঝমাঠে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি। পরে বুঝতে পারি, উইং দিয়ে আরো বেশি আক্রমণ এবং বক্সে বেশি ক্রস তুলতে হবে। দ্বিতীয়ার্ধে সেটিই করেছি, আর তাতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।’
তিনি জানান, বদলি হিসেবে এন্দ্রিককে নামিয়ে আক্রমণে গতি বাড়ানো হয়। পরে আর্সেনাল ফরওয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে মাঠে নামানো হলে তার গতি ও মুভমেন্ট জাপানের রক্ষণে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে, যা কাজে লাগান ভিনিসিয়ুস জুনিয়ররা। ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি নিজেই বলেন, এটি ছিল তাদের কৌশলগত পরিবর্তন, বিরতিতে খেলোয়াড়দের ধৈর্য ধরে নিজেদের কাঠামো ধরে রাখতে বলেছিলেন, বিশ্বাস ছিল শৃঙ্খলা বজায় রাখলে গোল আসবেই।
কোন কৌশলের কারণে নেইমারকে মাঠেই নামাননি আনচেলত্তি? জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিল ভক্ত-সমর্থকরা অপেক্ষা করছিলেন, কখন মাঠে নামবেন নেইমার। তবে এ ম্যাচে তাকে মাঠেই নামাননি কোচ। এ নিয়ে ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি জানান, ম্যাচ সমতায় না ফিরলে তিনি নেইমারকে মাঠে নামাতেন। ২৯ মিনিটে জাপান এগিয়ে যাওয়ার পর ৫৬ মিনিটে সমতা ফিরিয়েছিলেন কাসেমিরো।
তখন ১-১ সমতা চলে আসায় অতিরিক্ত সময়ের কথা ভেবে নেইমারকে বেঞ্চে রেখে দেয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে তা প্রয়োজন হয়নি। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি গোল করে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে জয় এনে দেন। ম্যাচ শেষে ‘কাজ’ টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘অতিরিক্ত সময়ে নেইমারকে নামানোর পরিকল্পনা ছিল। ওর সঙ্গে এ নিয়ে কথাও হয়েছিল। আমরা সমতায় ফিরতে না পারলে ৬০ বা ৬৫ মিনিটের দিকে ওকে মাঠে নামানো হতো। কিন্তু গোল শোধ করার পর দলের কৌশলে পরিবর্তন আনতে চাইনি। কারণ তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতেই ছিল।’


