
জ্বালানি তেলের দাম ৮০ ডলারের নিচে
জুন ১৯, ২০২৬
দালাল নিয়ন্ত্রণে ভূমি অফিসে সিসি ক্যামেরা নজরদারি চালু হয়েছে: সংসদে ভূমিমন্ত্রী
জুন ১৯, ২০২৬কার্লো আনচেলত্তি নিশ্চয়ই চাইবেন ‘রিসেট’ বাটনে চাপ দিতে; যাতে মরক্কোর বিপক্ষে হতাশাজনক ১-১ ড্র, মাঝমাঠের ছন্দহীনতা মুহূর্তেই মুছে যায়।
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ম্যাচটিই হয়ে উঠতে পারে ব্রাজিলের সেই কাঙ্ক্ষিত রিসেটের মঞ্চ। অবশ্য মরক্কো ধাক্কা পেছনে ফেলে জয় ছাড়া কোনো বিকল্পও ভাবতে পারছেন না ভিনিসিয়ুসরা। ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য শুধু ৩ পয়েন্ট পাওয়ার লড়াই নয়; বরং টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার অগ্নিপরীক্ষাও।
অন্যদিকে হাইতি নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ০-১ ব্যবধানে হারলেও সুশৃঙ্খল রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে নজর কেড়েছে। ‘আন্ডারডগ’ হওয়ায় তাদের হারানোর কিছু নেই। এ কারণে ফিলাডেলফিয়ায় চাপের ভার থাকবে পুরোপুরি ব্রাজিলের কাঁধে। সেই চাপ সামলেই নতুন শুরুর খোঁজে নামবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। প্রথম ম্যাচে ক্যাসেমিরো বা ইগর থিয়াগোদের মতো তারকাদের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের কারণে আনচেলত্তি শুরুর একাদশে বড় ধরনের রদবদল আনতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলছে। মূল একাদশে জায়গা হতে পারে দানিলো, ফাবিনিও বা ম্যাথিউস কুনিয়াদের।
মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের পর ব্রাজিল এখন গ্রুপ ‘সি’র তৃতীয় স্থানে। এক ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে তারা সমান অবস্থানে আছে মরক্কোর সঙ্গে। তবে স্কটল্যান্ড এগিয়ে গেছে শীর্ষে। কাগজে-কলমে পরিস্থিতি খুব একটা ভয়াবহ না হলেও হোঁচট খেলে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে বেশি সময় লাগবে না। এ কারণে বেশি চাপ থাকবে ব্রাজিলের ওপরই। কাফের চোটের কারণে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মাঠের বাইরে থাকা নেইমার সীমিত পরিসরে অনুশীলনে ফিরেছেন। তবে হাইতির বিপক্ষে তিনি খেলতে পারবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়।
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের পর আনচেলত্তির সিদ্ধান্তগুলোও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বিশেষ করে ইগর থিয়াগোকে স্ট্রাইকার হিসেবে এবং রজার ইবানেজকে রাইট-ব্যাকে খেলানোয় সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। ক্যাসেমিরো ও লুকাস পাকেতাও প্রথমার্ধে ছাপ রাখতে ব্যর্থ হন। বিরতির পর দানিলো, ফাবিনিও ও ম্যাথিউস কুনিয়াকে নামানোর পর ব্রাজিলের খেলায় কিছুটা ভারসাম্য ও গতি ফিরে আসে। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আনচেলত্তি মরক্কো ম্যাচের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন। তাই হাইতির বিপক্ষে রক্ষণে দানিলো ও আলেক্স সান্দ্রোকে দেখা যেতে পারে। মাঝমাঠে ক্যাসেমিরোর জায়গায় ফাবিনিও সুযোগ পেতে পারেন। আক্রমণভাগে লুইজ হেনরিক ও ম্যাথিউস কুনিয়াও শুরুর একাদশে ঢুকে যেতে পারেন। সম্ভাব্য একাদশে গোলবারের নিচে থাকবেন আলিসন। রক্ষণে থাকতে পারেন দানিলো, মারকিনিওস, গ্যাব্রিয়েল ও আলেক্স সান্দ্রো। মাঝমাঠে ফাবিনিও ও ব্রুনো গিমারাইসের সঙ্গে সামনে থাকতে পারেন লুইজ হেনরিক, রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা যেতে পারে ম্যাথিউস কুনিয়াকে।
তবে সমস্যার সমাধান কেবল খেলোয়াড় বদলে নয়। আনচেলত্তি বিশ্বকাপের মাত্র এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। ফলে দলকে দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে তোলার সুযোগ তিনি পাননি। প্রতিভার ঘাটতি নেই, অভিজ্ঞতারও অভাব নেই, কিন্তু দল হিসেবে তারা কতটা প্রস্তুত, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি।
অন্যদিকে হাইতির অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ০-১ গোলে হারলেও সেবাস্তিয়ান মিগনের শিষ্যরা মাঠে জমাট রক্ষণ দেখিয়েছে। প্রথমার্ধে জন ম্যাকগিনের গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ক্যারিবীয় দলটি যেভাবে ভেঙে না পড়ে ম্যাচজুড়ে লড়াই করেছে, তা ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। হাইতি এর আগে কেবল ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল, যেখানে তারা তাদের তিনটি ম্যাচেই পরাজিত হয়েছিল। ফলে এ শক্তিশালী গ্রুপ থেকে যদি তারা একটি মাত্র পয়েন্টও অর্জন করতে পারে, তবে সেটিই হবে তাদের দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মাইলফলক। কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে ভালো করেই জানেন যে তারা আন্ডারডগ, কিন্তু ব্রাজিলের বর্তমান নড়বড়ে অবস্থার সুযোগ নিয়ে তারা একটি অঘটন ঘটাতে মুখিয়ে থাকবেন নিশ্চয়ই।
ইতিহাসও ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। দুই দলের মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ হয়েছে এবং তিনটিতেই জিতেছে ব্রাজিল। সেই তিন ম্যাচে সেলেসাওরা ১৭ গোল করেছে, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র একটি। দুই দলের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৭৪ সালের এপ্রিলে, যেখানে ব্রাজিল জিতেছিল ৪-০ ব্যবধানে। এরপর ২০০৪ সালে প্রীতি ম্যাচে ৬-০ গোলের জয়। সর্বশেষ এবং একমাত্র প্রতিযোগিতামূলক লড়াই হয়েছিল ২০১৬ কোপা আমেরিকায়। সেবার ব্রাজিল ৭-১ গোলের বিশাল জয় পেয়েছিল। তবে অতীতের পরিসংখ্যান বর্তমান বাস্তবতাকে সহজ করে দিচ্ছে না। মরক্কোর বিপক্ষে পয়েন্ট হারানোর পর ব্রাজিলের জন্য এ ম্যাচের গুরুত্ব আরো বেড়ে গেছে। বিপরীতে হারানোর কিছু না থাকায় হাইতি আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই ম্যাচটি শুধু ফেভারিট ও আন্ডারডগের লড়াই নয়; ব্রাজিলের নতুন শুরুর খোঁজে নামার গল্পও।


