
নতুন বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নই হোক অগ্রাধিকার
জুন ৫, ২০২৬
ভালো আচরণে পুলিশি সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ আইজিপির
জুন ৫, ২০২৬ঈদুল আজহায় গতবারের তুলনায় এবার ২ লাখ ৩০ হাজার পশু বেশি কোরবানি হয়েছে।
ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগে পশু কোরবানি বাড়লেও কমেছে চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে। এবার প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত চাহিদার চেয়ে ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৯১৬টি পশু কম কোরবানি হয়েছে।
গতকাল সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। দেশব্যাপী কোরবানি পশুর প্রাথমিক হিসাব এবং সরকারের গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে প্রেস ব্রিফিংটির আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বছর ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি পশু কোরবানি হয়েছে। পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। বিপরীতে দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। কোরবানি শেষে দেশে ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪২২টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এবার ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার ১৫৮টি গরু ও মহিষ কোরবানি হয়েছে। ছাগল ও ভেড়া ৪৫ লাখ ২ হাজার ২৩৩টি এবং অন্যান্য পশু ১ হাজার ২৭টি জবাই করা হয়েছে। গত বছর গরু ও মহিষ ৪৭ লাখ ৫ হাজার ১০৬টি, ছাগল ও ভেড়া ৪৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮টি এবং অন্যান্য ৯৬০টি পশু কোরবানি করা হয়। সেই হিসাবে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫২টি বেশি গরু বা মহিষ কোরবানি হয়েছে। আর ছাগল ভেড়া বেড়েছে ৭১ হাজার ৫৬৫টি।
গত বছর দেশের সবচেয়ে বেশি কোরবানি হয়েছিল রাজশাহী বিভাগে। বিভাগটিতে কোরবানি বাড়লেও চলতি বছর সবচেয়ে বেশি পশু জবাই হয় ঢাকা বিভাগে। সবচেয়ে কম পশু কোরবানি হয়েছে সিলেট বিভাগে। গতবার ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম কোরবানি হয়েছিল। চলতি বছর ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুরে বিভাগে কোরবানি বেড়েছে। তবে চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহে কমেছে।
প্রাণিসম্পদ অধিপ্তরের হিসাবে, ২০২৫ সালে রাজশাহী বিভাগে ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৯৭১টি গবাদি পশু কোরবানি করা হয়। চলতি বছর কোরবানি হয়েছে ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯টি। গতবার ঢাকা বিভাগে ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০টি কোরবানি করা হলেও এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে সর্বাধিক ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬টি। আগের বছর খুলনা বিভাগে কোরবানি হয় ৮ লাখ ৪ হাজার ২২৪টি গবাদিপশু। এবার সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫টিতে। ২০২৫ সালে রংপুর বিভাগে ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯৯টি গবাদিপশু জবাই করা হলেও এবার সেটি বেড়ে হয়েছে ১০ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৪টিতে।
এসব বিভাগে কোরবানি বাড়লেও চট্টগ্রাম বিভাগে কমেছে। গত বছর বিভাগটিতে ১৭ লাখ ৫৩ হাজার ৭৩২টি পশু কোরবানি করা হয়। এবার সেটি কমে হয়েছে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫টিতে। সিলেট বিভাগে গত বছর ৩ লাখ ১৯ হাজার ৮২৩টি কোরবানি করা হলেও এবার হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩২১টি। বরিশাল বিভাগে গতবার কোরবানি হয় ৪ লাখ ৭৮৩টি, এবার ৪ লাখ ১৬০টি। ময়মনসিংহ বিভাগে এবার ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৮টি পশু কোরবানি হয়েছে। গতবার এ সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৮৩ গাজার ১৬২টি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের সময়োপযোগী নীতিসহায়তা, খামারিদের কঠোর পরিশ্রম এবং উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের ফলে প্রাণিসম্পদ খাত আজ একটি শক্তিশালী ও আত্মনির্ভরশীল অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুর মাধ্যমেই এ বছরও কোরবানির শতভাগ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি আরো শক্তিশালী করা এবং প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার আধুনিক প্রযুক্তি ও খামারিবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।’
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


