জিয়ার আদর্শে দীক্ষিত হয়ে দেশ গঠনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মে ৩১, ২০২৬
চাহিদা মেটাতে ইউরিয়া আমদানি
মে ৩১, ২০২৬
জিয়ার আদর্শে দীক্ষিত হয়ে দেশ গঠনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মে ৩১, ২০২৬
চাহিদা মেটাতে ইউরিয়া আমদানি
মে ৩১, ২০২৬

ক্রেতা না পেয়ে নদী-খালে ফেলে দেয়া হয় কোরবানির শত শত পশুর চামড়া

কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে নদী ও খালে ফেলে দিয়েছেন অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও ফেনীসহ বিভিন্ন জায়গায় গতকাল শত শত পচা চামড়া পানিতে ফেলে দেয়া হয়। এতে পরিবেশ, পানির গুণগত মান ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা এবং ফেনীর কয়েকটি এলাকায় গতকাল শত শত পচা চামড়া নদী ও খালে ফেলে দেয়া হয়। একই সময়ে চট্টগ্রাম নগরীতেও ঈদের পর দুইদিন ধরে বিক্রি না হওয়া হাজার হাজার চামড়া বিভিন্ন সড়ক ও আড়ত এলাকায় ফেলে রেখে যান মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। পরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দুইদিন ধরে এসব চামড়া অপসারণ করেন।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা এলাকায় গতকাল দুপুরে কয়েকজন ব্যবসায়ী স্থানীয় রাইখালে পচা চামড়া ফেলতে শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলেও তারা তা উপেক্ষা করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, চামড়াগুলো স্থানীয় মসজিদ, মাদরাসা বা এতিমখানায় দানের সুযোগ থাকলেও অধিক লাভের আশায় তা না করে শেষ পর্যন্ত খালেই ফেলে দেয়া হয়েছে।

বোয়ালখালীর বাসিন্দা মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, কোরবানির পর উপজেলার ফুলতলা, শাকপুরা, হাজিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ করে রাখা হয়েছিল। গতকাল দুপুরে শাকপুরা বাজারসংলগ্ন রাইখালে কয়েকজনকে পচা চামড়া ফেলতে দেখা যায়। অন্য খালগুলোয়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু এভাবে চামড়া ফেলা হলে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি নদীর পানি ও জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক মো. আশরাফ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নদী বা খালে পচা চামড়া ফেলে দেয়া পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।’ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার কাটাখালী নদীতে শতাধিক গরু ও খাসির চামড়া ফেলে দেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, শুক্রবার বিকালে দুই ব্যক্তি নদীতে বিপুল পরিমাণ চামড়া নিক্ষেপ করছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চামড়া ফেলে দেয়া দুই ব্যবসায়ী হলেন উপজেলার মামরিজপুর গ্রামের দিদারুল আলম ও খুরশিদ আলম। তারা ঈদের দিন বিভিন্ন স্থান থেকে চামড়া সংগ্রহ করলেও পরদিন দুপুর পর্যন্ত কোনো ক্রেতা পাননি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করতে না পারায় চামড়ায় পচন ধরতে শুরু করে। পরে দীর্ঘ সময় বিক্রির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে সেগুলো নদীতে ফেলে দেন।

ব্যবসায়ী খুরশিদ আলম বলেন, ‘লাভের আশায় চামড়া কিনেছিলাম। কিন্তু অনেক আড়তদার ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেও বিক্রি করতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত চামড়াগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নদীতে ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছি।’

কোরবানির পর ৭-৮ ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণ না করলে দ্রুত পচন শুরু হয়। কিন্তু বাজারে ক্রেতা সংকট ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানান অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী।

স্থানীয়রা জানান, ঈদের দিন চামড়া কিনে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বিক্রি করতে পারেননি ওই দুই ব্যবসায়ী। পরে এতে পচন ধরলে অনেকটা হতাশ হয়ে তারা সেগুলো নদীতে ফেলে দেন। বিপুল পরিমাণ পচনশীল চামড়া নদীতে ফেলে দেয়ায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চামড়া নদীতে ফেলে দেয়ার ভিডিও প্রশাসনের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পরিবেশ ও চামড়া খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, কোরবানির মৌসুমে চামড়া সংরক্ষণ, সংগ্রহ ও বিপণনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছরই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তারা মনে করেন, চামড়া শিল্পের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নেয়া হলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ বাড়বে, অন্যদিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ চামড়া শিল্পও আরো বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *