নগরকান্দায় বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৫
মে ২৪, ২০২৬
কুড়িগ্রামে ১৭৫০ মিটার সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে চীনা প্রতিনিধি দল
মে ২৪, ২০২৬
নগরকান্দায় বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৫
মে ২৪, ২০২৬
কুড়িগ্রামে ১৭৫০ মিটার সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে চীনা প্রতিনিধি দল
মে ২৪, ২০২৬

ডিজিটালাইজেশনে অগ্রগতি থাকলেও বড় বাধা বাস্তবায়ন দুর্বলতা ও দুর্নীতি

বাংলাদেশের সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ ও প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এক বিস্তারিত মূল্যায়নে মিশ্র চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিজিটালাইজেশন ও প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে দেশ দৃশ্যমান কিছু পদক্ষেপ নিলেও তদারকির অভাব, বাস্তবায়ন দুর্বলতা, দুর্নীতি ও প্রকল্প ব্যয় বাড়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় এখনো বড় দুর্বলতা হচ্ছে বকেয়া ব্যয় পর্যবেক্ষণের জন্য কেন্দ্রীয় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ সিস্টেমে কেবল অর্থ পরিশোধের তথ্য সংরক্ষিত হয়, কিন্তু কত বিল বা দায় বকেয়া রয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য থাকে না। ফলে সরকারের প্রকৃত আর্থিক দায় সম্পর্কে সমন্বিত চিত্র পাওয়া কঠিন। তবে প্রতিবেদনে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে আইবাস প্লাস প্লাস, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার এবং এ চালান চালুর ফলে হিসাব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও গতি বেড়েছে। সরকার আন্তর্জাতিক হিসাবমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার দিকেও এগিয়েছে। কিন্তু এখনো পুরনো ট্রেজারি বিধি, দক্ষ জনবলের অভাব এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কার্যকর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। আইন থাকলেও অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ে ইন্টারনাল অডিট ইউনিট নেই। বর্তমানে কেবল পাঁচটি উচ্চ ব্যয়সম্পন্ন বিভাগে সীমিত আকারে এ ইউনিট রয়েছে। সেখানে জনবল ও দক্ষতারও ঘাটতি আছে।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রতিবেদনে সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, অনেক প্রকল্প যথাযথ অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ছাড়াই অনুমোদন পায়। আবার প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় বাড়ার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। ২০১৩-২২ অর্থবছরের মধ্যে পরিবহন খাতের ৩২৯টি প্রকল্প বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক প্রকল্পেই সময় ও ব্যয়—দুটিই বেড়েছে। গড়ে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সময় বেড়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ।

সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এখন একীভূত সরকারি ক্রয় আইন ও ই-জিপি ব্যবস্থা চালু থাকলেও বাস্তবে প্রতিযোগিতা কমে যাওয়া, দরপত্রে যোগসাজশ ও অস্বচ্ছতা এখনো বড় সমস্যা। বিশেষ করে±১০ শতাংশ মূল্যসীমা নীতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত প্রতিযোগিতা কমেছে এবং একক দরপত্র বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ই-জিপি চালুর ফলে সরকারি ক্রয়ে গতি ও স্বচ্ছতা কিছুটা বেড়েছে। ২০১৯ অর্থবছরের মধ্যে দেশের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের সরকারি ক্রয়ের ৬২ শতাংশ ই-জিপির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এতে ক্রয় প্রক্রিয়ার সময় ৮৬ দশমিক ৭ দিন থেকে কমে ৬২ দশমিক ২ দিনে নেমে আসে।

বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ সরকারি চুক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয় না। অনেক প্রকল্প ছয় থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিলম্ব হয়। দুর্বল পরিকল্পনা, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, বাজেট পূর্বাভাসের দুর্বলতা ও চুক্তি ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে প্রতিবেদনের মূল্যায়ন হলো বাংলাদেশ সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল প্রশাসনে উল্লেখযোগ্য সংস্কার শুরু করলেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা, স্বচ্ছতা, দক্ষ জনবল ও জবাবদিহির ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং দুর্বল তদারকি দেশের উন্নয়ন ব্যয়কে কম কার্যকর করে তুলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *