
ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত আমরা নিয়ে নেব, ধ্বংস করব: ট্রাম্প
মে ২২, ২০২৬
গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশীদের ফিরতে হবে নিজ দেশে
মে ২৩, ২০২৬যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৯ বিলিয়ন (২ হাজার ৯০০ কোটি) ডলার। পেন্টাগনের অর্থ বিষয়ক প্রধান জুলস হার্স্ট গত ১২ মে এক শুনানিতে বলেন, ‘সামরিক সরঞ্জামের মেরামত ও প্রতিস্থাপন খরচের সংশোধিত হিসাবের কারণেই এই ব্যয়ের পরিমাণ এত দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।’
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ফাইটার জেট, ড্রোন, ফুয়েল ট্যাঙ্কার ও নজরদারি বিমানসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪২টি অত্যাধুনিক সামরিক বিমান ধ্বংস অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের জন্য প্রস্তুত করা এক গোপন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর গালফ নিউজ।
কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস কর্তৃক প্রণীত এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সামরিক তথ্যের গোপনীয়তা, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট না হওয়ায় এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
সিআরএস এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া বিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে: চারটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমান, একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু গ্রাউন্ড-অ্যাটাক বিমান, সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাংকার (আকাশে জ্বালানি সরবরাহের বিমান), একটি ই-৩ সেন্ট্রি আগাম সতর্কবার্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসংবলিত বিমান, দুটি এমসি-১৩০-জে কমান্ডো টু স্পেশাল অপারেশন বিমান, একটি এইচএইচ-৬০ ডব্লিউ জলি গ্রিন টু কমব্যাট সার্চ-অ্যান্ড-রেসকিউ হেলিকপ্টার, ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার (মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘক্ষণ উড়তে সক্ষম ড্রোন) এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন (অধিক উচ্চতায় দীর্ঘক্ষণ উড়তে সক্ষম ড্রোন)।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। হামলার ৪০ দিনের মাথায় গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ খতিয়ান প্রকাশ করেনি। তবে কংগ্রেসের গবেষকরা পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ বিবৃতি, সেন্টকমের ব্রিফিং ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্র ধরে এ পরিসংখ্যান তৈরি করেছেন। বিশেষ করে একটি এফ-৩৫এ স্টিলথ ফাইটারের পতন মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবিতে বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৯ বিলিয়ন (২ হাজার ৯০০ কোটি) ডলার। পেন্টাগনের অর্থ বিষয়ক প্রধান জুলস হার্স্ট গত ১২ মে এক শুনানিতে বলেন, ‘সামরিক সরঞ্জামের মেরামত ও প্রতিস্থাপন খরচের সংশোধিত হিসাবের কারণেই এই ব্যয়ের পরিমাণ এত দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের এ ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন সামনে আসার পর তেহরান দ্রুত এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রতিবেদনটি শেয়ার করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি লিখেছেন, ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার কয়েক মাস পর মার্কিন কংগ্রেস বিলিয়ন ডলার মূল্যের ডজন ডজন বিমান হারানোর কথা স্বীকার করল। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীই বিশ্বের প্রথম শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রশংসিত এফ-৩৫ ফাইটার জেট ভূপাতিত করার গৌরব অর্জন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে তিনি লিখেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেন, তবে তেহরান ওয়াশিংটনকে এর চেয়েও বড় ‘সারপ্রাইজ’ দেবে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ যুদ্ধ আধুনিক যুদ্ধকৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রযুক্তিগতভাবে সর্বাধুনিক সামরিক বাহিনীও যদি শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মুখোমুখি হয়, তবে তাদের আকাশসীমাও আর নিরাপদ থাকে না। বিশেষ করে একটি দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধে ফুয়েল ট্যাঙ্কার বা নজরদারি বিমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদগুলো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তা এ সংঘাত প্রমাণ করেছে।


