বছরের প্রথম তিন মাস ট্রাম্প মিডিয়ার লোকসান ৪০ কোটি ৬০ লাখ ডলার
মে ১১, ২০২৬
জনগণের নিরাপত্তা উপেক্ষা করে সরকারের কোনো কর্মসূচিই সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই: জামায়াত আমির
মে ১১, ২০২৬
বছরের প্রথম তিন মাস ট্রাম্প মিডিয়ার লোকসান ৪০ কোটি ৬০ লাখ ডলার
মে ১১, ২০২৬
জনগণের নিরাপত্তা উপেক্ষা করে সরকারের কোনো কর্মসূচিই সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই: জামায়াত আমির
মে ১১, ২০২৬

ইরানের দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত

মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি খাত।

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কারণে ইরানের জ্বালানি তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি ব্যাহত হচ্ছে। এতে দেশটির উৎপাদিত বাড়তি তেল জমা রাখার জায়গা খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন সামরিক বাহিনী এ অবরোধ শুরু করার পর এশিয়ার বাজারগুলোয় ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রবেশাধিকার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ইউরোপীয় সংস্থা কেপলারের তথ্যানুযায়ী, অবরোধের আগে ইরানের জ্বালানি তেল রফতানি ছিল দৈনিক গড়ে ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল। কিন্তু বর্তমানে তা কমে গড়ে মাত্র ১৩ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে নেমে এসেছে। যুদ্ধ সত্ত্বেও মার্চ থেকে ইরান গড়ে দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি করছে। তবে অবরোধের কারণে এ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে মাঝপথেই আটকে গেছে।

জাহাজ ট্র্যাকিং সাইট মেরিনট্র্যাফিকের তথ্যানুযায়ী, এ সংকট মোকাবেলায় ইরান তাদের পুরনো ও পরিত্যক্ত তেলের ট্যাংকারগুলোকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এসব ট্যাংকারে তেল জমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে দেশটি। বিশেষ করে খার্গ দ্বীপের কাছে ৩০ বছরের বেশি পুরনো বিশালাকার ট্যাংকারগুলোকে পুনরায় চালু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক তদারকি এড়াতে এসব জাহাজ থেকে ট্র্যাকিং সংকেত পাঠানোও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের কূপগুলো একবার বন্ধ করে দিলে পরে তা পুনরায় চালু করা বেশ কঠিন ও ব্যয়বহুল। ভূগর্ভস্থ চাপের পরিবর্তনের কারণে জ্বালানি তেলের খনি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে বিক্রি করতে না পারলেও ইরান উৎপাদন চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরান-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে ওমান পর্যন্ত একটি ‘অবরোধ রেখা’ তৈরি করেছে। ফলে গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ৪৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

জ্বালানি তেল থেকে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার প্রায় ৬০ শতাংশ আয় আসে, যার সিংহভাগই দেয় চীন। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মতে, তেল রফতানি পুরোপুরি বন্ধ থাকলে ইরানের প্রতিদিন প্রায় ১৭ কোটি ডলার লোকসান হতে পারে। আফগানিস্তানের মাধ্যমে রেলপথে জ্বালানি তেল পাঠানোর বিকল্প চেষ্টা চললেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য। ফলে এ দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ ইরানের অর্থনীতির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *