
করপোরেট কর ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব জেবিসিসিআইয়ের
মে ১০, ২০২৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
মে ১০, ২০২৬আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অতীতের দুর্নীতি ও অপচয় রোধে সরকার উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিশেষ মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগের বাস্তব সুফল আছে কি না, সেটি কর্মসংস্থান তৈরি করছে কি না এবং পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী— এসব বিষয় যাচাই করা হবে। এসব শর্ত পূরণ না হলে সেই প্রকল্প নেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
দেশের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, জনগণের করের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিনিয়োগের সুফল, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশগত গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করেই প্রকল্প নেয়া হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির সুফল সব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন’ এর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ আয়োজিত ‘স্টেপিং ফরোয়ার্ড: দ্য ইনাগুরেশন অব রেইজ-২’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অতীতের দুর্নীতি ও অপচয় রোধে সরকার উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিশেষ মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগের বাস্তব সুফল আছে কি না, সেটি কর্মসংস্থান তৈরি করছে কি না এবং পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী— এসব বিষয় যাচাই করা হবে। এসব শর্ত পূরণ না হলে সেই প্রকল্প নেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জনগণের করের টাকার প্রতিটি ব্যবহার সম্পর্কে মানুষের জানার অধিকার রয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের পেছনের উদ্দেশ্য ও তার সুফল জনগণের কাছে স্পষ্ট হওয়া দরকার।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রকল্প জমা রয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রকল্পের আর্থিক উপযোগিতা নেই এবং কিছু প্রকল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে না। এ কারণে অনেক প্রকল্প ইতোমধ্যে বাদ দেয়া হচ্ছে। এখন থেকে শুধু নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করা প্রকল্পই অনুমোদন পাবে।
অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র থাকলেই হবে না, অর্থনীতিতেও মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন অর্থনীতির সুফল পায়, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। যারা দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে ছিল, তাদের মূলধারায় আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার বড় বড় প্রকল্পের পরিবর্তে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একইভাবে কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার কার্ড’ এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার জন্য মানুষের ব্যক্তিগত ব্যয় খুব বেশি। সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বজনীন করার উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী বাজেটেও এর প্রতিফলন থাকবে বলে জানান তিনি।
দেশের কামার, কুমার ও তাঁতিদের উন্নয়নে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ এবং ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’ ধারণা বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি। শীতলপাটির উদাহরণ দিয়ে বলেন, তৃণমূলের কারুশিল্পীদের অর্থায়ন, নকশা ও পরিচিতি বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের অর্থনীতিকে অংশগ্রহণমূলক করতে হবে। সবাই যেন অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে, সেটিই সরকারের লক্ষ্য।
পিকেএসএফের কার্যক্রমের প্রশংসা করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কাজ সরকারের অর্থনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ কার্যক্রমে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর গেইল মার্টিন, পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


