খরচ কমাতে ট্রাকে যাত্রা, কুমিল্লায় খাদে পড়ে নিহত ৭
এপ্রিল ১৫, ২০২৬
‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী কৃষক ভালো থাকলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকবে
এপ্রিল ১৫, ২০২৬
খরচ কমাতে ট্রাকে যাত্রা, কুমিল্লায় খাদে পড়ে নিহত ৭
এপ্রিল ১৫, ২০২৬
‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী কৃষক ভালো থাকলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকবে
এপ্রিল ১৫, ২০২৬

আন্দামান সাগরে ২৫০ রোহিঙ্গা-বাংলাদেশী নিখোঁজ

কক্সবাজারে অবস্থানরত এক রোহিঙ্গা শরণার্থী বলেছিলেন, মানুষ যুদ্ধেও মারা যাচ্ছে, ক্ষুধায়ও মারা যাচ্ছে। তাই অনেকে মনে করে, এখানে ধীরে ধীরে মরার চেয়ে সাগরে মরাই ভালো

আন্দামান সাগরে গত সপ্তাহে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় শিশুসহ প্রায় ২৫০ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী ও অভিবাসন সংস্থাগুলো। খবর বিবিসি।

সংস্থাগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় ট্রলার। পরে মাঝ সাগরে ‘প্রবল বাতাস, উত্তাল সমুদ্র ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাইয়ের কারণে’ ডুবে যায়।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এএফপিকে জানিয়েছে, তাদের একটি জাহাজ ৯ এপ্রিল ওই নৌকা থেকে ৯ জনকে উদ্ধার করে। তবে ঠিক কখন নৌকাটি ডুবেছে, তা স্পষ্ট নয়।

মিয়ানমারে নতুন করে শুরু হওয়া প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর ২০১৭ সাল থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশে দুর্বিষহ জীবনযাপনও অনেক রোহিঙ্গাকে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অনেকেই অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ছোট নৌকায় করে মালয়েশিয়ার দিকে পাড়ি জমান।

নৌকাডুবি থেকে বেঁচে ফেরেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়ার আগে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পানিতে ভেসে ছিলেন। নৌকা থেকে ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি তেলে তার শরীর পুড়েও হয়।

৪০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি জানান, মালয়েশিয়ায় কাজের প্রতিশ্রুতিই তাকে ওই নৌকায় উঠতে প্ররোচিত করেছিল।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, মর্মান্তিক ঘটনাটি দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধানের অভাবের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরে।

সংস্থাগুলো আরো জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা ‘নিকট ভবিষ্যতে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের আশা ম্লান করে দিয়েছে’। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং শরণার্থী শিবিরে কঠিন জীবনযাপন তাদের ‘নিরাপত্তা ও সুযোগের খোঁজে এমন ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় বাধ্য করছে’।

এসব নৌকা আকারে সাধারণত ছোট। গাদাগাদি করে অনেক যাত্রী বহন করে। যেখানে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের মতো মৌলিক সুবিধাও থাকে না। অনেক সময় এসব নৌকা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কেউ সমুদ্রে মারা যায়, আবার কেউ ধরা পড়ে আটক বা ফেরত পাঠানো হয়।

কিছু ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে পৌঁছানোর আগেই তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। কখনো কর্তৃপক্ষ বা কখনো স্থানীয় উপকূলবাসীর মাধ্যমে এমনটা ঘটে। গত বছরের জানুয়ারিতে মালয়েশিয়া প্রায় ৩০০ শরণার্থী বহনকারী দুটি নৌকাকে খাবার ও পানি দিয়ে ফিরিয়ে দেয়।

এর আগে কক্সবাজারে অবস্থানরত এক রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়টার্সকে বলেছিলেন, ‘মানুষ যুদ্ধেও মারা যাচ্ছে, ক্ষুধায়ও মারা যাচ্ছে। তাই অনেকে মনে করে, এখানে ধীরে ধীরে মরার চেয়ে সাগরে মরাই ভালো।’

গতকাল বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতাদের জন্য অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো।

তারা আরো বলেছে, বাংলাদেশ যখন নতুন বছর উদযাপন করছে, এই ট্র্যাজেডি মনে করিয়ে দেয়—মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো সমাধান এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি করা জরুরি, যাতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *