বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন
এপ্রিল ১৪, ২০২৬
আবারো ১০০ ডলার ছাড়াল জ্বালানি তেলের দাম
এপ্রিল ১৪, ২০২৬
বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন
এপ্রিল ১৪, ২০২৬
আবারো ১০০ ডলার ছাড়াল জ্বালানি তেলের দাম
এপ্রিল ১৪, ২০২৬

রমনার বটমূলে সুরে-সুরে ছায়ানটের বর্ষবরণ

এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে নেয়া ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। ভোরের কোমল আলোয় প্রায় ২০০ শিল্পীর অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী দর্শক-শ্রোতা

রাজধানীর রমনার বটমূল প্রাঙ্গণে সুর, কবিতা ও আবেগঘন পরিবেশনায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিল ছায়ানট। বরাবরের মতোই পহেলা বৈশাখের প্রভাতি আয়োজনে ছিল এ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যবাহী উপস্থাপনা, ১৯৬৭ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আয়োজন করে আসছে তারা।

এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে নেয়া ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। ভোরের কোমল আলোয় প্রায় ২০০ শিল্পীর অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী দর্শক-শ্রোতা।

সকাল সোয়া ৬টায় সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অজয় ভট্টাচার্যের কথায় এবং ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের সুরে রচিত এ গান দিয়ে শুরু হওয়া পরিবেশনা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে বাংলা সংগীতের নানা ধারায়।

অনুষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে পরিবেশিত হয় কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং লালন সাঁইয়ের গান। মোট ৮টি সম্মেলক গান, ১৪টি একক পরিবেশনা এবং ২টি আবৃত্তির মাধ্যমে সাজানো হয় পুরো আয়োজন।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত করা হয় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের গণসংগীতজ্ঞ সলিল চৌধুরী ও পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনের গীতিকার-সুরকার মতলুব আলীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।

রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন মাকছুরা আখতার অন্তরা, আজিজুর রহমান তুহিন, সেমন্তী মঞ্জরী, তানিয়া মান্নান ও লাইসা আহমদ লিসা। নজরুলসংগীতে অংশ নেন বিটু কুমার শীল, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, নাসিমা শাহীন ফ্যান্সি, খায়রুল আনাম শাকিল ও শারমিন সাথী ইসলাম ময়না। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গান পরিবেশন করেন শ্রাবন্তী ধর।

আবৃত্তি পরিবেশন করেন ভাস্বর বন্দোপাধ্যায় ও খায়রুল আলম সবুজ। সম্মেলক পরিবেশনায় উঠে আসে ‘ভয় হতে তব অভয় মাঝে’, ‘জগতে আজিকে যারা’, ‘পথে এবার নামো সাথী’, ‘এসো মুক্ত করো’ ও ‘সেদিন আর কত দূরে’সহ বিভিন্ন গান।

লালনের ‘বড় সংকটে পড়িয়া দয়াল’ গানটি পরিবেশন করেন চন্দনা মজুমদার। পাশাপাশি আবদুল লতিফ, মতলুব আলী ও সাধন চন্দ্র বর্মণের গান দলীয় কণ্ঠে উপস্থাপিত হয়।

সবশেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বাংলা নববর্ষের এই ঐতিহ্যবাহী ও আবেগঘন আয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *