
পুঁজিবাজারে লেনদেনের সময় কমল আধা ঘণ্টা
এপ্রিল ৪, ২০২৬
তারেক রহমান কি নিজের সিদ্ধান্তে দেশ পরিচালনা করছেন, নাকি নেপথ্যে অন্য কেউ ? হাসনাতের প্রশ্ন
এপ্রিল ৪, ২০২৬সিএনএন-এর প্রতিবেদন
হাজার হাজার বিমানের মধ্যে মাত্র দুটি ভূপাতিত হলেও, এ ঘটনা প্রমাণ করে যে ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ধ্বংসের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি অতিরঞ্জিত ছিল
ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য ও আকাশপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের যে বয়ান ট্রাম্প প্রশাসন গত এক মাস ধরে প্রচার করে আসছিল, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া এবং পরপর দুটি আকাশযান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা হোয়াইট হাউসের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বারবার দাবি করেছিলেন যে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা রাডার ব্যবস্থা বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই এবং মার্কিন বিমানগুলো তেহরানের আকাশে সম্পূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন অবস্থায় বিচরণ করছে। কিন্তু রণক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। যেখানে আমেরিকান জনগণ এ যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান খরচ এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সন্দিহান, সেখানে প্রশাসনের এমন অতিরঞ্জিত সামরিক সাফল্যের দাবি এখন বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিকভাবে এটি প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ তারা মার্কিন জনগণের কাছে এ যুদ্ধকে একটি ‘সহজ জয়’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইরানের এই প্রত্যাঘাত প্রমাণ করে যে, আসিম্যাট্রিক ওয়ারফেয়ার বা অসম যুদ্ধে আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা যতটা সহজ বলা হয়েছিল, বাস্তবে তা ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনিশ্চিত। খবর সিএনএন
সিএনএন বলছে, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় অনেক তথ্য এখনো অজানা। বিশেষ করে বিমানের দুই ক্রু সদস্যের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাদের একজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে অন্যজনের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এর পরপরই ইরান আরো একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানে হামলা চালিয়েছে বলে খবর আসে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ওই বিমানের পাইলট ইরানের আকাশসীমা থেকে বিমানটি বের করে আনতে সক্ষম হন এবং পরে ইজেক্ট করে নিরাপদে উদ্ধার হন।
এ ঘটনাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের সেই দাবিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, যেখানে তারা ইরানের আকাশসীমায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিল। গত এক মাস ধরে প্রশাসন এমন একটি অজেয়তার ভাবমূর্তি তৈরি করার চেষ্টা করেছে, সেটিও এখন চ্যালেঞ্জের মুখে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কার্যত বাধাহীনভাবে ইরানের আকাশে অভিযান চালাতে পারছে এবং তেহরানের প্রতিরোধের কোনো সক্ষমতা নেই।
৪ মার্চের এক ব্রিফিংয়ে হেগসেথ বলেন, ‘কয়েক দিনের মধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই বিমানবাহিনী ইরানের আকাশসীমার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেবে’। তার ভাষায়, ‘ইরান কিছুই করতে পারবে না।’
পরবর্তী সময়েও ট্রাম্প একই ধরনের দাবি পুনরাবৃত্তি করেন। ২৪ মার্চ তিনি বলেন, ‘মার্কিন বিমান তেহরানের ওপর দিয়ে উড়ছে এবং ইরান কিছুই করতে পারছে না।’ এমনকি তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রেও হামলা চালাতে পারে এবং তাতেও ইরান কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারবে না। তিনি আরো দাবি করেন, ইরানের কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো সেনাবাহিনী নেই, কোনো বিমানবাহিনী নেই এবং কোনো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও নেই। তার দাবি অনুযায়ী, ইরানের রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস” হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র অপ্রতিরোধ্য সামরিক শক্তি।
তবে বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। হাজার হাজার বিমানের মধ্যে মাত্র দুটি ভূপাতিত হলেও, এ ঘটনা প্রমাণ করে যে ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ধ্বংসের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি অতিরঞ্জিত ছিল। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এখনও তাদের প্রায় অর্ধেক সক্ষমতা ধরে রেখেছে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিকভাবে এ পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এই যুদ্ধে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল সামরিক সাফল্য।
কিন্তু মার্কিন জনগণের বড় একটি অংশ এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দিহান। যুদ্ধের লক্ষ্য বারবার পরিবর্তিত হয়েছে, স্পষ্ট ব্যাখ্যার অভাব রয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অর্থনৈতিক চাপ—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। ফলে অনেকের কাছেই এই যুদ্ধের খরচ গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ দাবি করেছেন, গণমাধ্যম সামরিক সাফল্য যথাযথভাবে তুলে ধরছে না। তার ভাষায়, ‘আমরা স্থলবাহিনী না পাঠিয়েই ইরানের আকাশসীমা ও জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি—কিন্তু সেটি গণমাধ্যম তুলে ধরছে না।’


