
জ্বালানি সংকটের মধ্যেই দীর্ঘ ছুটির কবলে দেশ, মূল্যস্ফীতি আরো উসকে ওঠার শঙ্কা
মার্চ ১৫, ২০২৬
সাগর থেকে ভেসে এল বিরল প্রজাতির গাঙচিল
মার্চ ১৫, ২০২৬ফাল্গুনের শেষ দিকে উত্তরের কয়েকটি জেলায় ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। এতে ফসলের মাঠে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা।
বিশেষ করে আলু উত্তোলনের শেষ সময়ে খেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঝড়-বৃষ্টিতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে গম মাটিতে নুয়ে পড়েছে। সরকারি হিসাবে, প্রায় ২০ একর গমের খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাস্তবে তা আরো বেশি বলে জানিয়েছেন কৃষক। এছাড়া দিনাজপুরের হাকিমপুরে দুদিনের বৃষ্টিপাতে তলিয়ে গেছে বেশকিছু আলুখেত। এ অবস্থায় উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষক।
কৃষকরা বলছেন, চলতি মৗসুমে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। নভেম্বরে জমিতে গমের বীজ বপন করেন চাষীরা। তবে ১২ মার্চ রাতে কয়েক ঘণ্টার ঝড়-বৃষ্টিতে কয়েকশ একর জমির গম মাটিতে নুয়ে পড়েছে। ১৫ দিন পরই গম কাটা শুরু করার কথা ছিল। প্রতিটি গমের খেত ছিল শীষ দিয়ে ভরা। তারা স্বপ্ন দেখছিলেন গম বিক্রি করে পরিবারের চাহিদা ও ধারদেনা পরিশোধ করবেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সে স্বপ্ন মাটিতে মিশে গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১২ মার্চ রাতে ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সেই সঙ্গে ২৫-৩০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো বাতাস বয়ে যায়।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে সদর উপজেলার অমরখানা, সাতমেরা, পঞ্চগড় সদর, কামাত কাজলদিঘী ও হাফিজাবাদ ইউনিয়নে গম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের জোঁতসওদা গ্রামের গমখেত। ওই গ্রামের গমচাষী কসিম উদ্দিন জানান, এক একর জমিতে গম আবাদ করেছেন তিনি। ঝড়-বৃষ্টিতে অর্ধেক জমির গম নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ শতাংশ ফলন কমে যাবে।
একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, তিন বিঘা জমিতে গম আবাদ করেছেন তিনি। ঝড়ে তার এক বিঘা জমির গম নষ্ট হয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুন্নবী জানান, সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে গম ও ভুট্টার খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পাঁচটি ইউনিয়নে গমের খেত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার কোনো উপায় নেই। তবে পাট মৌসুমে প্রণোদনা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
চলতি মৌসুমে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় ১ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। অধিকাংশ জমির আলু এরই মধ্যে উত্তোলন শুরু হয়েছে। তবে দুদিনের বৃষ্টিতে উপজেলার ইসমাইলপুর ও মোল্লাবাজার আদর্শ গ্রামের কয়েকশ বিঘা জমির আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেউ কেউ জমি থেকে পানি সেচ দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে আলু না তুলে জমিতেই ফেলে রেখেছেন।
উপজেলার বৈগ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমন ও বোরো আবাদের মধ্যবর্তী সময়ে জমি ফেলে না রেখে বাড়তি লাভের আশায় এবার তিন বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছি। বীজ, সার, কীটনাশকসহ খরচ কিছুটা বাড়তি হয়েছে। তার পরও ভালো ফলনের পাশাপাশি লাভের আশা করেছিলাম। আলু পরিপক্ব হলেও প্রত্যাশিত দাম না থাকায় খেত থেকে তোলা হয়নি। হঠাৎ বৃষ্টিতে আলুর খেত তলিয়ে গেছে। প্রথম দিন বৃষ্টির পর জমি থেকে পানি সেচ দিয়ে কিছুটা শুকিয়েছিলাম। কিন্তু পরদিন রাতে আবারো বৃষ্টিপাত হওয়ায় জমিতে পানি জমে গেছে। যেসব আলু মাটির নিচে আছে এগুলোর বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে যাবে।’
মোল্লাবাজার এলাকার কৃষক কামরুজ্জামান বলেন, ‘আলুবীজ হিসেবে হিমাগারে রাখা যেত। এ কারণে খেত থেকে তোলা হয়নি। একটু শুকিয়ে রাখলে বীজের জন্য ভালো হয়। এজন্য আলু তুলে জমিতেই রাখা হয়েছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। পরপর দুদিন বৃষ্টিপাতে আমার ৭০ বিঘা জমির আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, ‘এতদিন তো জমিতে আলু থাকারই কথা নয়। কৃষক দাম পাচ্ছে না বিধায় ফেলে রাখছে। আমরা তো আগাম পরামর্শ দিয়েই যাচ্ছি যে আলু পরিপক্ব হলেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা তুলে নিতে। কিন্তু প্রধান কারণটা হচ্ছে, যেহেতু আলুর দাম কম এজন্য কৃষক হয়তো জমিতে ফেলে রেখেছিলেন। হঠাৎ করে এভাবে যে বৃষ্টি হবে সেটা তো আর কৃষক জানত না। তবে চলতি সপ্তাহে বৃষ্টি হতে পারে, এমন কথা আমরা বলেছিলাম। আমাদের পক্ষ থেকে পরামর্শের ঘাটতি নেই।’


