
প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে নিকার কমিটি গঠন দক্ষ জনশক্তি গড়তে ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার নির্দেশ
মার্চ ৬, ২০২৬
গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে কয়লার দাম দুই বছরের সর্বোচ্চে
মার্চ ৬, ২০২৬পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত তীব্র রূপ নেয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ডিজেল ও পেট্রলের রফতানি বন্ধ রাখতে দেশের শীর্ষ তেল শোধনাগারগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে চীন সরকার।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণেই এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
চীন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের নিট আমদানিকারক দেশ। এশিয়ার আরো কয়েকটি বড় অর্থনীতির দেশের মতো তারাও জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে ওই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। বাণিজ্যের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সমুদ্রপথে চীনের সরাসরি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ৫৭ শতাংশ এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের পর ডিজেল ও পেট্রলের একাংশ রফতানি করে চীন। বাংলাদেশেও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বড় উৎস দেশটি।
বেইজিংয়ের শীর্ষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সংস্থা ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশনের (এনডিআরসি) কর্মকর্তারা সম্প্রতি জ্বালানি তেল শোধনাগারগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। বৈঠকে ওই কর্মকর্তারা পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য রফতানি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। আর এ নির্দেশনা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।
পেট্রোচায়না কোং, সিনোপেক, সিএনওওসি লিমিটেড, সিনোকেম গ্রুপ ও বেসরকারি শোধনাগার ঝেজিয়াং পেট্রোকেমিক্যাল কোং নিয়মিতভাবে সরকারের কাছ থেকে জ্বালানি রফতানির কোটা বা অনুমোদন পেয়ে থাকে। শোধনাগারগুলোকে নতুন চুক্তিতে সই করা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব চালানের বিষয়ে এরই মধ্যে চুক্তি হয়েছে, সেগুলোও আলোচনার মাধ্যমে বাতিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে চীন সরকারের পক্ষ থেকে। তবে বন্ডেড গুদামে থাকা উড়োজাহাজের জ্বালানি (জেট ফুয়েল) ও জাহাজের জ্বালানি (বাংকার ফুয়েল) এ আওতার বাইরে থাকবে। হংকং ও ম্যাকাওতে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও এ নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় কোনো তেল বা জ্বালানিই বের হতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে জাপান থেকে শুরু করে ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের শোধনাগারগুলোও এরই মধ্যে তাদের উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে এবং জ্বালানি রফতানি স্থগিত রাখছে।


