
‘বাংলাদেশের পাশে আছি’, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬
বিএনপি আজ নির্বাচনী ইশতাহার ঘোষণা করবে
ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে গতকাল রাজাধানীর গুলিস্তানে জাতীয় স্টেডিয়ামে স্থাপিত সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে গতকাল রাজাধানীর গুলিস্তানে জাতীয় স্টেডিয়ামে স্থাপিত সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এ সময় তিনি অসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এ সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়। সেনাপ্রধান সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। জাতীয় স্টেডিয়ামের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সেনাবাহিনী প্রধান জাতীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা ও ধৈর্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সেনাসদস্যদের জনগণের প্রতি নাগরিকবান্ধব আচরণ বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেন। এছাড়া তিনি ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরজমিনে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সেনাপ্রধান গতকাল জাতীয় স্টেডিয়ামে অবস্থিত সেনা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন। মূলত ভীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করাই সেনাবাহিনীর এ তৎপরতার মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি, ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভার এরিয়া কমান্ডারসহ সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অসামরিক প্রশাসনের পক্ষে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের প্রধানরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং সব সংস্থার মধ্যে কাজের সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হয়। নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী প্রধান গত ২২ জানুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল সফর করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি এরই মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, বগুড়া, বরিশাল, যশোর, কক্সবাজার, সিলেট, ঘাটাইল ও সাভার এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সম্পন্ন করেছেন। সব বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়ার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি এলাকা পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধান স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় কৌশলগত নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
এর আগে সকালে রাজধানীর গুলিস্তানে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারে’র আওতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কিত বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সেনাসদরের সামরিক অপারেশনস পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন।
নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোর অবস্থা বিবেচনায় যদি অতিরিক্ত বল প্রয়োগের প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর রুলস অব এনগেজমেন্টটা কী হবে?—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, ‘সেনাবাহিনীর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে এনগেজমেন্ট বলে দেয়া আছে। আমরা আইনের আওতায় থেকে সে রুলস অব এনগেজমেন্ট অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করে থাকি। যদি সত্যি সত্যি কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের প্রয়োজন হয়, তাহলে রুলস অব এনগেজমেন্টে যে ক্রমান্বয়ে বল প্রয়োগের মাত্রা বৃদ্ধির একটা প্রক্রিয়া আছে, সেটা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ভোটের দিন, আগে কিংবা পরে মব হলে সেনাবাহিনীর কী ভূমিকা থাকবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এর আগে দেখেছি যে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে, মবের ইনসিডেন্ট আমরা দেখেছি। বাংলাদেশ সরকার, নির্বাচন কমিশন, অসামরিক প্রশাসন এবং সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী একটি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা করণীয় তা করতে বদ্ধপরিকর। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন তা নেয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।’
সাংবাদিকরা বলেন, ইলেকশনের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি আছে, এখনো মানুষের মাঝে একটা সংশয় রয়ে গেছে যে আসলে ইলেকশনটা কীভাবে হবে, ভোটের জন্য কতটুকু অনুকূল পরিবেশ রয়েছে বা ভোট হবে কিনা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, ‘এ সংশয় দূর করার জন্যই কিন্তু সেনাবাহিনী প্রধান সব বিভাগে ব্যক্তিগতভাবে গিয়েছেন এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অসামরিক প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যারা এ নির্বাচনের সঙ্গে নিয়োজিত থাকবেন তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। তিনি দুটো উদ্দেশ্য নিয়ে গেছেন। একটা হচ্ছে আস্থা দেয়া যে তাদের যেকোনো সহায়তা প্রদানের জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত আছে, দ্বিতীয়টি হচ্ছে জনগণকে আস্থা দেয়া এবং সুস্পষ্টভাবে এ বার্তাটা দেয়া যে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য প্রস্তুত।’
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম সবসময় একটি সেনসেটিভ (সংবেদনশীল) জায়গা। আপনারা জানেন যে শুধু বর্তমানে নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়, নির্বাচনের পূর্বাপর সময়ও ওখানে সার্বক্ষণিকভাবে আমাদের সেনা মোতায়েন থাকে। যেই আশঙ্কার কথা আপনারা বলেছেন আমরা সেগুলো আমাদের অ্যাসেসমেন্টের মধ্যে নিয়েছি।’
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভোট কেন্দ্রে সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে পারেন সে ব্যাপারে আমাদের নিয়মিত টহল জারি থাকবে। আমরা এবার উপজেলাভিত্তিক এবং ক্ষেত্রবিশেষে কেন্দ্রভিত্তিক ক্যাম্প স্থাপন করেছি যেন বিপুলসংখ্যক প্যাট্রোল একসঙ্গে বাইরে থাকতে পারে, যাতে সাধারণ মানুষের মনে আস্থার জায়গাটা তৈরি হয়। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা বন্ধেও আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে।’
নির্বাচনকালে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকা অবস্থায় যদি ভোট নিয়ে আস্থা ক্ষুণ্ন হয় এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ফলাফল নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে সে বিষয়ে তারা কী ভাবছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী এবং দেশমাতৃকার সেবায় নিয়োজিত। সেনাপ্রধান পরিষ্কারভাবে একটি কথা বলে দিয়েছেন যে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব। দেশের সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন এবং তার ভোটটা যেন তিনি দিতে পারেন এটা নিশ্চিত করা হবে আমাদের অন্যতম দায়িত্ব।’
সেনাবাহিনীর আইটি সেকশনের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা যাতে এ আক্রমণের শিকার না হই সে প্রস্তুতি নিয়েছি। এর বাইরে প্রত্যেককে যার যার জায়গা থেকে এ প্রস্তুতি নিতে হবে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি যে সেনাবাহিনীর যেসব আইটি সাইট আছে, সেগুলো যাতে হ্যাক না হয় সে ব্যাপারে যতটুকু প্রস্তুতি নেয়ার প্রয়োজন সেই প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি এবং নিচ্ছি।’
নির্বাচনের আগে এবং পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর নিজস্ব কোনো থ্রেট অ্যানালাইসিস রয়েছে কিনা জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, ‘অবশ্যই একটি সেনাবাহিনী তার কর্মপন্থায় প্রথম যে কাজটা করে তা হচ্ছে থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট। আমরা অবশ্যই থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট করেছি এবং সে অনুযায়ী আমাদের এ মোতায়েন পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমরা নন-লিথাল ওয়েপন এবং রায়ট কন্ট্রোল ইকুইপমেন্ট দিয়ে আমাদের বাহিনীকে ইকুইপ করেছি। নির্বাচনকে সামনে রেখে আরো বেশকিছু রায়ট কন্ট্রোল ইকুইপমেন্ট আমরা আমাদের সেনাসদস্যদের জন্য নিয়ে এসেছি।’


