
সিটিগ্রুপের পূর্বাভাস চলতি বছরের শেষে কমে আসতে পারে স্বর্ণের দাম
ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬
আইসিইর বন্দিদশা থেকে ঘরে ফিরল ৫ বছরের লিয়াম
ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬বাজারমূল্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম ৮০ হাজার ডলারের নিচে নামল।
বাজারমূল্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম ৮০ হাজার ডলারের নিচে নামল। গত শনিবার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৭৮ হাজার ৭১৯ ডলার ৬৩ সেন্টে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, আগের সেশনের পতনের ধারাবাহিকতায় দামের নিম্নগামিতা অব্যাহত রয়েছে। খবর রয়টার্স।
এর আগে শুক্রবার বিটকয়েনের দাম ৮১ হাজার ১০৪ ডলারে নেমে আসে, যা ছিল গত বছরের ২১ নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে ডলার শক্তিশালী হয়। কারণ সাবেক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) গভর্নর কেভিন ওয়ার্শকে পরবর্তী ফেড চেয়ার হিসেবে ঘোষণার পর মুদ্রাবাজারে এর প্রভাব পড়ে। ওই সময় বিনিয়োগকারী ও ট্রেডারদের একটি অংশ আশঙ্কা করেন, আর্থিক ব্যবস্থায় নগদপ্রবাহ কঠোর করতে পারেন নতুন ফেড চেয়ারম্যান।
গত বছর কেভিন ওয়ার্শ বলেছিলেন, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিতে বড় পরিবর্তন দরকার। তিনি চান ফেড ব্যালান্স শিট ছোট করুক। অর্থাৎ বাজারে অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ কমিয়ে দিক।
বিটকয়েনসহ ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতকে সাধারণত ফেডের বড় বালান্স শিটের উপকারভোগী হিসেবে দেখা হয়। ফেড যখন বাজারে নগদপ্রবাহ শিথিল করেছে, তখনই ক্রিপ্টোসহ ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে দাম বেড়েছে। কারণ বাজারে বেশি অর্থ থাকলে মানুষ এ ধরনের সম্পদে বেশি বিনিয়োগ করে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান অ্যানেক্স ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রায়ান জ্যাকবসেন বলেন, ‘ফেডের ফুলে ওঠা বালান্স শিট ও ব্যাংক নিয়ন্ত্রণের অতিরিক্ত কড়াকড়ি ওয়াল স্ট্রিটেই নগদপ্রবাহ আটকে রেখেছে, মেইন স্ট্রিটে (দৈনন্দিন লেনদেন ও জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত অর্থনীতি) তা প্রবাহিত হয়নি। এর ফলেই বন্ড, ক্রিপ্টো, ধাতু ও মিম স্টকের (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে খুচরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাওয়া স্টক) মতো সম্পদে বাবল তৈরি হয়েছে।’
এদিকে শনিবার বিকাল নাগাদ আরেক ক্রিপ্টোকয়েন ইথারের দাম ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৩৮৭ ডলার ৭৭ সেন্ট। গত বছর বড় ধসের পর থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। স্বর্ণ ও শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত থাকলেও সেখান থেকে পিছিয়ে পড়েছে ক্রিপ্টো।
ব্রায়ান জ্যাকবসেন আরো জানান, কখনো দামের পতন শুরু হলে সে প্রবণতার নিজে থেকেই আরো দ্রুত বাড়তে পারে। শুক্রবারের হঠাৎ পতনে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, সামনে ক্রিপ্টো খাতে আরো ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে আগামী কয়েক দিনে আরো বেশি বিনিয়োগকারা ক্রিপ্টোকারেন্সি বিক্রি করতে পারে।
ক্রিপ্টো খাত নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি অনুসারে ধারণা করা হয়েছিল, মূলধন প্রবাহ ও শিথিল নিয়ন্ত্রণের ‘স্বর্ণযুগ’ আসবে। তার একাধিক প্রতিশ্রুতির পর বিটকয়েনের দাম লাখ ডলারের ঘর পার হয়ে অল্প সময়ের একের পর এক রেকর্ড গড়ে। কিন্তু এখন ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো কঠিন সময় পার করছে। গত বছরের অক্টোবরে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর থেকে বিটকয়েনের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে।


