
রাঙ্গামাটিতে চাকরি মেলা
ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬
শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেলে সাইবার হামলার অভিযোগ জামায়াতের
ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬যে পাখিগুলোকে আকাশে উড়তে দেখা যায় না, যাদের ডাক হারিয়ে গেছে প্রকৃতির শব্দভাণ্ডার থেকে তাদেরই দেখা মিলছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বুদ্ধিজীবী চত্বরে আয়োজিত ব্যতিক্রমী পাখি মেলায়।
যে পাখিগুলোকে আকাশে উড়তে দেখা যায় না, যাদের ডাক হারিয়ে গেছে প্রকৃতির শব্দভাণ্ডার থেকে তাদেরই দেখা মিলছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বুদ্ধিজীবী চত্বরে আয়োজিত ব্যতিক্রমী পাখি মেলায়। তবে জীবন্ত নয়, মমি হয়ে। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষিত এসব পাখির মাধ্যমে বিলুপ্তি আর সংরক্ষণের মাঝের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে মেলায়। প্রাণহীন দেহে প্রাণের এ উপস্থিতিই মেলাটিকে করেছে আলাদা।
‘পাখি দেখি, পাখি ভালোবাসি, পাখি রক্ষা করি’ প্রতিপাদ্যে গতকাল সকাল ৯টায় দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনের পর পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বের করা হয় একটি শোভাযাত্রা। মেলা আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ড কনজারভেশন ক্লাব। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও বার্ডশাহী ও ভ্যালেন্টটেক লিমিটেড।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ড কনজারভেশন ক্লাবের আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এম সালেহ রেজা বলেন, ‘বাংলাদেশে এমন অনেক পাখি আছে যেগুলো সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। এসব পাখির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে, পাখির প্রতি তাদের মমত্ববোধ তৈরি এবং পাখি সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন করতেই আমরা এ মেলার আয়োজন করেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রতি বছর শীতের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর ও নারকেলবাড়িয়া ক্যাম্পাসে প্রচুর পরিযায়ী পাখির সমাগম ঘটে। তাদের সংরক্ষণে আমাদের সচেতন হতে হবে।’
সরেজমিন দেখা গেছে, সাদা-নীল কাপড়ে ঘেরা পরিপাটি একটি জায়গায় সাজানো হয়েছে কয়েকটি ছোট স্টল। সেখানে প্রদর্শিত ছবির মধ্যে আছে চোখাচোখি, পিজিওন, প্যারোট, নিশি বক, গুবড়ে শালিক, বামুন শালিকসহ নানা প্রজাতির পাখি।
পাশের আরেকটি স্টলে ছিল সংরক্ষিত পাখির প্রদর্শনী। মেলার সবচেয়ে প্রাণবন্ত অংশ ছিল স্কুল শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। ক্যাম্পাস-সংলগ্ন বিভিন্ন স্কুলের নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়।
স্টলে প্রদর্শিত ছবির মধ্যে রয়েছে কালোপিঠ গাংচিল, পালাসির গাংচিল, সাইবেরিয়ান শিলাফিদ্দা, নীল চটক, উইলসন্স স্টর্ম পেট্রল, লালঘাড় কাস্তেচোরা, ইউরেশিয়ান চামচঠুঁটি, বুটপা ঈগল, জলময়ূর, ডাহুক, বামুন শালিকসহ নানা প্রজাতির পাখি। নামগুলো শুনেই অনেক দর্শনার্থী অবাক হচ্ছিলেন, কেউ কেউ মোবাইলে ছবি তুলে রাখছিলেন স্মৃতি হিসেবে।
পাশের আরেকটি স্টলে সারিবদ্ধভাবে সাজানো পানকৌড়ি, জলকাক, টিয়া, লক্ষ্মী পেঁচা, হুতোম পেঁচা, গরিয়াল মাছরাঙা, নিশি বক, পাতি কাক, কোয়েল, বালিহাঁস, কাঠবিড়ালিসহ বিভিন্ন প্রাণী। কাছ থেকে দেখে অনেকেই বুঝতে পারছিলেন, প্রকৃতিতে এদের হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কতটা বাস্তব।
বাবার সঙ্গে মেলায় ঘুরতে ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা তাঈয়িবা আক্তার বলছিল, ‘এখানে এসে খুব ভালো লেগেছে। অনেক নতুন পাখি দেখেছি, যেগুলো আগে কখনো দেখিনি। এমন আয়োজন আরো বেশি হলে ভালো হয়।’
স্টলে দর্শনার্থীদের পাখি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিচ্ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহানা আশা। তিনি বলেন, ‘মেলায় এমন অনেক দুর্লভ পাখি রয়েছে, যেগুলো সচরাচর দেখা যায় না। সাদা বক, স্কেলেটন, দুর্লভ হাঁস, পিজিয়নসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এখানে প্রদর্শন করা হয়েছে। সকাল থেকেই স্টলে দর্শনার্থীদের ভিড় রয়েছে। কীভাবে এসব পাখি সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং এর পেছনের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া কী, সে বিষয়ে দর্শনার্থীদের ধারণা দেয়া হচ্ছে।’
মেলায় ট্যাক্সিডার্মি বিষয়ে জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও আর্মফোর্স মেডিকেল কলেজের গেজেটেড ট্যাক্সিডার্মিস্ট মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণী বিলুপ্ত হতে দেখে সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহ থেকেই ট্যাক্সিডার্মি নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশে মূলত দুটি জায়গায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের পাখি মেলা আয়োজন করা হয়। একটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এ মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পাখি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা, তাদের পাখি সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়া এবং কীভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পাখি সংরক্ষণ করা হয় তা তুলে ধরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে এ আয়োজন প্রতি বছর নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।


