শ্রমিক–কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা
জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
ট্রাম্পের অনুরোধে ইউক্রেনে হামলায় বিরতি দিল রাশিয়া
জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
শ্রমিক–কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা
জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
ট্রাম্পের অনুরোধে ইউক্রেনে হামলায় বিরতি দিল রাশিয়া
জানুয়ারি ৩১, ২০২৬

রুশ জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতকে ভেনেজুয়েলার দিকে টানছে ওয়াশিংটন

ওয়াশিংটন সম্প্রতি দিল্লিকে জানিয়েছে—রাশিয়া থেকে জ্বালানী তেল আমদানি কমালে শিগগিরই ভেনিজুয়েলার ক্রুড কেনা পুনরায় শুরু করা যেতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের চড়া শুল্কের জেরে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির পরিমাণ কমাচ্ছে ভারত। এরইমধ্যে ভারতকে ভেনিজুয়েলার তেল কেনার সুযোগ দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সম্প্রতি দিল্লিকে জানিয়েছে—রাশিয়া থেকে জ্বালানী তেল আমদানি কমালে শিগগিরই ভেনিজুয়েলার ক্রুড কেনা পুনরায় শুরু করা যেতে পারে।

এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল কেনার কারণে ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মাদুরোকে আটক করার পর কারাকাস সরকারের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে ভেনিজুয়েলার তেল খাত দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনাও করছে ওয়াশিংটন।

ভারতে ভেনিজুয়েলার ক্রুড অয়েল সরবরাহের এ উদ্যোগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বড় লক্ষ্য হলো—রাশিয়ার তেল রফতানি থেকে অর্জিত রাজস্ব কমানো, যা ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি।

তবে ভেনিজুয়েলার তেল কীভাবে ভারতে বাজারজাত করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি সূত্রগুলো। ভিটল বা ট্রাফিগুরার মতো আন্তর্জাতিক ট্রেডিং হাউজগুলোর মাধ্যমে নাকি সরাসরি ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ তেল বিক্রি করবে—সে বিষয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একইভাবে ভারতের জ্বালানীমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মন্তব্য চেয়ে পাঠানো ইমেইলের জবাব দেয়নি।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ অপরিশোধিত তেলের দাম কমে গেলে ভারত রাশিয়ার অন্যতম বড় ক্রেতায় পরিণত হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রুশ তেল আমদানি কমার প্রেক্ষাপটে ভারত বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহে জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানীমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী।

রয়টার্সের দুটি সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলের নিচে নামিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে। জানুয়ারিতে এ আমদানির পরিমাণ ছিল দৈনিক প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল। ফেব্রুয়ারিতে তা কমে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেলে এবং মার্চে আরও নেমে প্রায় ৮ লাখ ব্যারেলে দাঁড়াতে পারে বলে এক সূত্র জানিয়েছে।

আরেকটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি তেল আমদানি দৈনিক ৫ থেকে ৬ লাখ ব্যারেলে নেমে আসতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে ভারতের অবস্থান আরো শক্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *