শক্তিশালী বাতাসে গ্রিনল্যান্ডে বিদ্যুৎ বিভ্রাট
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
শহীদ ইশমামের কবর জিয়ারত করে শুরু এনসিপির নির্বাচনী পদযাত্রা
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
শক্তিশালী বাতাসে গ্রিনল্যান্ডে বিদ্যুৎ বিভ্রাট
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
শহীদ ইশমামের কবর জিয়ারত করে শুরু এনসিপির নির্বাচনী পদযাত্রা
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬

চট্টগ্রামে বিএনপির জনসভায় তারেক রহমান নির্বাচিত হলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে

দুর্নীতি মোকাবেলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে কোনো পরিকল্পনা কাজে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দুর্নীতি মোকাবেলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে কোনো পরিকল্পনা কাজে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণ পাশে থাকলে কঠোরহস্তে দেশের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা হবে, যাতে দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। এছাড়া নির্বাচিত হলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে। এটিই বিএনপির কমিটমেন্ট।’

গতকাল দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত বিএনপির জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আজ সময় এসেছে পরিবর্তনের। এ পরিবর্তনকে যদি সত্যিকারভাবে মিনিংফুল (অর্থপূর্ণ) পরিবর্তন করতে হয়, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হয়; তাহলে আমাদের সবাইকে আজ ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অপরাধীর পরিচয় সে আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী এবং অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাজেই দুর্নীতি যে-ই করুক, দুর্নীতি যারাই করুক, তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইন একইভাবে প্রযোজ্য হবে। আজকে আমি এখানে লাখ লাখ মানুষের সামনে পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, আমরা যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি সেসব পরিকল্পনার মধ্যে কেউ যদি আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বা দুর্নীতির মাধ্যমে সেগুলোকে বাধাগ্রস্ত করে, তাদের কোনো ছাড় আমরা দেব না।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিগত সময়ে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন, আপনারা দেখেছেন যে-ই হোক না কেন এমনকি আমাদের দলের অনেক লোক—যারা কোনো অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়িত করেছে; আমরা তাদেরও ছাড় দিইনি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘এই সেই চট্টগ্রাম, এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখান থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হয়েছিলেন। এখান থেকে খালেদা জিয়াকে “‍দেশনেত্রী” উপাধি দেয়া হয়েছিল। এই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমির সঙ্গে আমি এবং আমার পরিবারের একটি আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।’

চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের মানুষের একটি বড় দাবি আছে, যে দাবিটির ব্যাপারে বিগত বিএনপি সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল; কিন্তু সম্পূর্ণ করে যেতে পারেনি। আমরা দেখেছি বিগত ১৫ বছরে এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ কেউ নেয়নি। এ উদ্যোগ যদি নেয়া হয়, তাহলে শুধু এই চট্টগ্রামের মানুষ নয়; সমগ্র চট্টগ্রামসহ সারা দেশের বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে, সারা দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য অনেক চাঙ্গা হবে, যাতে মানুষের কর্মসংস্থান হবে; মানুষ চাকরি-ব্যবসা-বাণিজ্য করে খেতে পারবে। কী সেটি? বাণিজ্যিক রাজধানী। আগামী ১২ তারিখে নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে খালেদা জিয়ার সেই উদ্যোগ যত দ্রুত সম্ভব, আগামী বিএনপি সরকার সেটিকে বাস্তবায়ন করবে—যাতে এ এলাকার মানুষ ব্যাংকিং সুবিধাসহ সবকিছু এখানে বসেই সেরে নিতে পারে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রামের একটি বড় সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা। চট্টগ্রাম শহর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা এমনকি বাংলাদেশের খাল-বিল নানা জায়গায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করতে চাই। আপনাদের সঙ্গে নিয়েই দুই হাতে কোদাল নিয়ে খাল খনন শুরু করব। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে যাতে এ দেশ থেকে জলাবদ্ধতা ও বন্যা সমস্যাসহ সব সমস্যার সমাধান করতে পারি।’

শিল্প ও কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের ইপিজেড ও কেইপিজেডসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সময়ে গড়ে উঠেছিল। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ইপিজেডের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং নতুন শিল্পাঞ্চল তৈরি করে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। শিক্ষিত তরুণদের কর্মমুখী করে তোলাই বিএনপির বড় পরিকল্পনা।’

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের কাছে “‍ফ্যামিলি কার্ড” পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’ এছাড়া সব কৃষকের কাছে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর হবে না; বরং কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হবে। সবার জন্য শিক্ষা—এ নীতিতে বিএনপি কাজ করবে। এছাড়া গ্রামের মানুষ, নারী ও শিশুদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ হেলথকেয়ার কর্মী নিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছি, যাতে মা-বোনেরা এবং শিশুরা ঘরে বসেই কম-বেশি চিকিৎসা সুবিধা পেতে পারে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর যেমন আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল, সেই রকম একটি ষড়যন্ত্র আবারো শুরু হয়েছে। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, এ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সবাই সজাগ থাকবেন, সতর্ক থাকবেন।’

ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপির ওপর আস্থা রাখতে জনগনের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলার দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ যদি গড়ে তুলতে হয়, আজকে এখানে যে লাখো মানুষ আছেন—আপনাদের মাধ্যমে আপনাদের এলাকার লক্ষ কোটি মানুষের কাছে আহ্বান রাখব—গণতন্ত্রে যারা বিশ্বাস করেন, মানুষের বাক্‌স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করেন, গণতন্ত্রের স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করেন; সবাইকে আহ্বান জানাব—ধানের শীষ তথা বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন।’

ধানের শীষ ও বিএনপি নির্বাচিত হলে বিএনপি তাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজে হাত দেবে অতীতের মতো। সেই আমি একটি কথা বলে থাকি, ‘‍করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।’

এবার তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোট দেয়ার প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘১২ তারিখ তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে উঠতে হবে। তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন এবং যার যার এলাকায় ভোট কেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। তারপরে লাইন ধরে ভোটের জন্য দাঁড়িয়ে যাবেন, যখন ভোটগ্রহণ শুরু হবে। পারবেন তো?’ এ সময়ে নেতাকর্মীরা বলতে থাকেন—পারব।

সকাল থেকে পলোগ্রাউন্ড মাঠে খণ্ড খণ্ড মিছিল আসতে শুরু করে। সকাল ১০টার মধ্যে পুরো মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়।

নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভা সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, নগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ প্রমুখ।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, আসলাম চৌধুরী, নুরুল আমিন, আবু সুফিয়ান, এনামুল হক, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, সরওয়ার জামাল নিজাম, মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী, নাজমুল মোস্তফা আমিন, জসিম উদ্দিন ও মোস্তফা কামাল পাশা। জনসভা শেষে ধানের শীষ হাতে দিয়ে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।

দুই দশক বাদে চট্টগ্রামে জনসভায় বক্তৃতা করলেন তারেক রহমান। এর আগে ২০০৫ সালের ৬ মে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে জনসভা করেছিলেন তিনি। সে সময় তিনি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

চট্টগ্রামে জনসভায় যোগ দেয়ার আগে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সকাল ১০টা থেকে নগরীর র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভা চলে ১ ঘণ্টা ধরে। এতে চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের অর্ধশত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সেখানেও তিনি আলাপচারিতায় দুর্নীতি নির্মূল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিষয়ে জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির সমস্যা বিভিন্নভাবে সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে আছে। আমরা যে রাতারাতি সবকিছু করে ফেলতে পারব, নট দ্যাট। আমি মনে করি একটা গভর্নমেন্টের মেসেজিং অনেক ক্ষেত্রে অনেক জিনিসকে সঠিক পথে নিয়ে আসতে পারে। গভার্নমেন্ট থেকে যদি বার্তা যায়, উই উইল নট টলারেট দিস। তার পরও গভর্নমেন্টের বিভিন্ন প্রিকশন বা স্টেপস থাকবে। কিন্তু যখন মেসেজ যাবে যে আমরা করাপশন টলারেট করব না, অটোমেটিক কমপক্ষে ২০-৩০ শতাংশ কমে যায় সমস্যাটা।’

চট্টগ্রামের জনসভার পর তারেক রহমান বিকালে ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে, সন্ধ্যায় একই জেলার সুয়াগাজী ডিগবাজির মাঠে ও দাউদকান্দি ঈদগাহ মাঠে এবং রাতে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *