মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী আজ
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
১ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী আজ
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
১ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬

খননের দেড় বছরেই ভরাট হয়ে গেছে বরিশাল নগরের সাত খাল

কাগজে-কলমে বরিশাল নগরে খালের সংখ্যা ২৪। তবে দখল-দূষণ আর অপরিকল্পিত নগরায়নে অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে বেশির ভাগের। এর মধ্যে অস্তিত্ব ধরে রেখেছে সাতটি খাল।

কাগজে-কলমে বরিশাল নগরে খালের সংখ্যা ২৪। তবে দখল-দূষণ আর অপরিকল্পিত নগরায়নে অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে বেশির ভাগের। এর মধ্যে অস্তিত্ব ধরে রেখেছে সাতটি খাল। জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল এসব খালেও পানিপ্রবাহ খুব একটা নেই। খালগুলোয় পানিপ্রবাহ ফেরাতে ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর খননকাজ শুরু হয়। ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুনে। অবশ্য দেড় বছর না যেতেই আবারো ভরাট হয়ে গেছে অস্তিত্ব সংকটে থাকা খালগুলো।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকলেও খাল খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সংস্থাটির তথ্য বলছে, নগরীর কোলঘেঁষে বয়ে যাওয়া আমানতগঞ্জ, জেল খাল, রূপাতলী, পলাশপুর, সাগরদী, চাঁদমারী ও ভাটার খাল খনন শুরু হয় ২০২৩ সালে। এতে ব্যয় ধরা হয় ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে পলাশপুর খাল খননে ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এছাড়া আমানতগঞ্জ খাল খননে ১ কোটি ৯ লাখ, সাগরদী খাল ২ কোটি ৬৭ লাখ, রূপাতলী খাল ২৮ লাখ, চাঁদমারী খালে ৩২ লাখ, ভাটার খাল ৪ লাখ ও জেল খাল খননে ব্যয় ধরা হয় ২৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

জেল খালটি বরিশাল নগরীর বেশ গুরুত্বপূর্ণ খাল। ওই প্রকল্পের আওতায় সে সময় এ খালও খনন করে পাউবো। তবে তলদেশে পলি জমে ভরাট হওয়ায় ভাটার সময় পণ্যবাহী নৌযানগুলো আসা-যাওয়া করতে পারে না। এতে ভোগান্তিতে পড়েন নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা হাটখোলা, কলাপট্টি, ফড়িয়ারপট্টি, পেঁয়াজপট্টিসহ গুরুত্বপূর্ণ ইলিশ মোকাম পোর্ট বাজারের ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, খালটি একসময় কীর্তনখোলা নদীর অংশ ছিল। পোর্ট রোড বাজারের বিপরীতে রসুলপুরে চর জেগে ওঠায় খালে রূপ নেয়। এটি পোর্ট রোড খাল হিসেবে পরিচিত ছিল। বরিশাল নৌ-বন্দরের পাশ দিয়ে পণ্যবাহী নৌযান প্রবেশ করে পোর্ট রোড মাছ বাজার, কলাপট্টি, ফরিয়াপট্টি ও পেঁয়াজপট্টির বিভিন্ন আড়তে খালাস করে। এছাড়া পণ্য নিয়ে বিভিন্ন নৌযান এ খাল দিয়ে বরিশালের বিভিন্ন উপজেলায় যায়। এ খাল দিয়ে প্রতিদিন কোটি টাকার পণ্য আনা-নেয়া করা হয়। ভাটার সময় খালে পানি থাকে না। বাধ্য হয়ে কীর্তনখোলা নদীর প্রবেশমুখে পণ্য খালাস করতে হয়। এ কারণে পণ্য পরিবহনে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক বছরের বেশি সময় আগে পাউবো জেল খাল খনন করেছে। এখন খালটি আবার ভরাট হয়ে গেছে। ভাটার সময় পানিশূন্য হয়ে পড়ে খালটি। এ সময় কীর্তনখোলা নদী থেকে পণ্য নিয়ে কোনো নৌযান হাটখোলা, কলাপট্টি, ফড়িয়ারপট্টি, পেঁয়াজপট্টিসহ গুরুত্বপূর্ণ ইলিশ মোকাম পোর্ট বাজারে আসতে পারে না।

খালগুলো খননের সময় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার অভিযোগও ওঠে। যদিও সেগুলো আমলে না নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে পাউবো। বরিশাল নগর কর্তৃপক্ষ বলছেন, খালগুলো সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকলেও খননের সময় সমন্বয় করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নতুন করে আমরা খাল খননের জন্য ৭৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। অনুমোদন ও অর্থ পেলেই খালগুলো পরিকল্পিতভাবে খনন করা হবে। বিগত সময়ে কীভাবে খাল খনন করেছে, তা আমাদের জানা নেই।’

শুধু জেল খাল নয়, একই অবস্থা আমানতগঞ্জ, রূপাতলী, পলাশপুর, সাগরদী, চাঁদমারী ও ভাটার খালেরও। এসব খালের তলদেশে পলি জমে ভরাট হতে শুরু করেছে। কমে গেছে পানিপ্রবাহ।

এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় নদী-খাল সুরক্ষা কমিটির সদস্য ও বাপার বিভাগীয় সমন্বয়ক রফিকুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শুধু পোর্ট রোড খাল নয়, সব খালই ভরাট হয়ে গেছে। খালগুলো পরিকল্পিতভাবে খনন করা দরকার। তা না হলে প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে না।’

খালগুলো খননে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন বরিশাল নগরবাসী। তবে অপরিকল্পিত খননের কারণে খালসংলগ্ন অধিকাংশ সড়কে ভাঙন দেখা দেয়। সড়ক রক্ষায় কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই খননের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

নগরবাসী বলছেন, সাগরদী খাল খননের কারণে ছয়টি স্থানে সড়ক ভেঙে খালের ভেতর পড়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছামতো খাল খনন করায় এ অবস্থা হয়েছে। তারা যদি সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করত, তহলে এ সমস্যা হতো না।

সার্বিক বিষয়ে বরিশাল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের মধ্যে আমাদের কোনো প্রকল্প নেই। তৎকালীন সময় তারা কীভাবে এখানে খাল খনন করেছে, তা আমার জানা নেই। খালগুলো দেখভালের কাজও আমাদের নয়। এটি সিটি করপোরেশনের খাল, তারাই এর রক্ষণাবেক্ষণ করবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *