দেশে হালাল পণ্য বাজার পাচ্ছে না
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
নির্বাচন উপলক্ষে ‘আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয়’ সেল গঠন
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
দেশে হালাল পণ্য বাজার পাচ্ছে না
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
নির্বাচন উপলক্ষে ‘আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয়’ সেল গঠন
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬

প্রথম নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমির নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চাই না

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এ দেশে আমরা আর ফ্যাসিবাদের ছায়াও দেখতে চাই না। ফ্যাসিবাদ এখন যদি নতুন আবরণে আমাদের সামনে আসে তাদের পরিণতি হবে ৫ আগস্টের মতো।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এ দেশে আমরা আর ফ্যাসিবাদের ছায়াও দেখতে চাই না। ফ্যাসিবাদ এখন যদি নতুন আবরণে আমাদের সামনে আসে তাদের পরিণতি হবে ৫ আগস্টের মতো। ভোট ডাকাতদের কারণে বিগত ১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আমরা নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চাই না।’

গতকাল বিকালে রাজধানীর মিরপুরের আদর্শ স্কুল মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপলক্ষে আয়োজিত প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান এ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী। এ জনসভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করল দলটি। জনসভায় জামায়াত আমির ছাড়াও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-১৪ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার আরমান, সদ্য জামায়াতে যোগ দেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানসহ ১০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা।

জামায়াত আমির বলেন, ‘দুঃশাসন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হয়নি। ন্যায়বিচার শেষ না হলে তরুণরা ঘরে ফিরে যাবেন না। অতএব ন্যায়বিচার যাদের দ্বারা নিশ্চিত হবে আমরা সবাই মিলে তাদের সঙ্গী হব। যারা নিজেদের দলের লোকদের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস থেকে বিরত রাখতে পারবে তারা আগামীর বাংলাদেশ জনগণকে উপহার দিতে পারবে বলে আশা রাখি। আর যারা এগুলো পারবে না তারা যতই রঙিন স্বপ্ন দেখাবেন সেসব মতলব জাতির বুঝতে অসুবিধা হবে না।’

প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ করে ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের যে কষ্ট আমরা ভোগ করেছি তা দয়া করে জনগণকে দেবেন না। কিন্তু এখনো তা দিচ্ছেন। এগুলো বন্ধ না হলে আগামী ১২ তারিখ জনগণ দুটি হ্যাঁ ভোট আর অনেকগুলো না ভোট দেবে। ঘুনে ধরা রাজনীতি পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় একটি হ্যাঁ ভোট। গণভোটে হ্যাঁ বলার জন্য জনগণ মুখিয়ে আছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার জন্য দ্বিতীয় হ্যাঁ ভোট। ১০ দলকে বিজয়ী করার অর্থ আধিপত্যবাদ, চাঁদাবাজের, দখলদারদের, ফ্যাসিবাদের ও ব্যাংক ডাকাতদের বিরুদ্ধে হ্যাঁ ভোট। সব মিলিয়ে হবে একটি হ্যাঁ ভোট।’

ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার। এমন বাংলাদেশ গড়তে ১০ দলের প্রতীকের পক্ষে সর্বশক্তি নিয়োগ করে গণভোটে হ্যাঁ এবং প্রতীকে হ্যাঁ দিতে হবে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দেশ চলে। ট্যাক্সের বাইরে কিন্তু একটা বেসরকারি ট্যাক্স আছে। প্রত্যেকটা মুদির দোকানে, রাস্তাঘাটে, হকারের কাছে, এমনকি রাস্তার পাশে বসে যে ভাই-বোনটি ভিক্ষা করে, তার কাছ থেকেও একটি ট্যাক্স নেয়া হয়। ওই ট্যাক্স বন্ধ করে দেয়া হবে। ওই ট্যাক্সের নামের চাঁদাবাজি আর চলবে না।’

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা ওই ধরনের কোনো কার্ডের ওয়াদা দিচ্ছি না। ২ হাজার টাকা দিয়ে একটা পরিবারের কোনো কিছু সমাধান হবে? আর আমার ভাই নাহিদ ইসলাম (এনসিপির আহ্বায়ক) বলেছে, তাতে আবার ভাগ বসিয়ে দেয়া হবে। খাজনা আগে, তার পরে অন্যটা? ২ হাজারের ১ হাজার আমার খাজনা, আমাকে আগে দাও। তার পরে তোমারটা তুমি বুঝে নাও।’ তিনি আরো বলেন, ‘কাল্পনিক কিছু মানুষের চরিত্র এঁকে তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে, বেকারের হাতে নয়। এ বৈষম্যগুলো কি আমরা দেখতে পাইনি? টাকা কোত্থেকে আসবে? টাকার সোর্স তো জনগণ। এটা তো আমাদের কারো টাকা নয়।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াত নারীদের সম্মানের জায়গায় রাখতে চায়। কর্মক্ষেত্রে তারা সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবে, তাদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। রাস্তাঘাটে তাদের চলাফেরায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করছে জামায়াত। তার জন্য যা দরকার, ক্ষমতায় যেতে পারলে সব করা হবে। যারা এর বাইরে আজেবাজে কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, মা-ভাইয়েরা তাদের জবাব দেয়ার জন্য যথেষ্ট।’

জনসভায় মঞ্চে থাকা জামায়াতের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন দলটির আমির। এ সময় তিনি ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম খান, ঢাকা-১৪ আসনের মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান), ঢাকা-১৬ আসনের আব্দুল বাতেন ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামানের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন এবং তাদের বিজয়ী করতে জনগণকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার অনুরোধ করেন।

একই সঙ্গে ঢাকা-১১ আসনে ১০-দলীয় সমঝোতা জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন। তখন তিনি এর নাম দেন ‘পাল্লাকলি’। জামায়াত আমির সমঝোতা জোটের প্রার্থী হিসেবে নাহিদ ইসলামকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে জনগণের প্রতি অনুরোধ জানান।

জনসভায় নাহিদ ইসলাম বিএনপির কার্ড প্রদানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেয়া হোক সেটি আমরা চাই। জনগণ সে সুবিধা পাক। কিন্তু এ কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌঁছবে তো। ২ হাজার টাকার কার্ড পেতে ১ হাজার টাকা ঘুস দেয়া লাগবে না তো। একদিকে কার্ড দেয়ার আশ্বার দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে ঋণখেলাপিদের সংসদে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। আদালতের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।’

সমাবেশে ১০ দলীয় জোটকে জয়ী করার আহ্বান জানান বক্তারা। তারা বলেন, ‘চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চলমান। ইনসাফের লড়াই এখনো সমাপ্ত হয়নি। নির্বাচনে জয়ী হয়ে এ সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *