
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তিনজনের
জানুয়ারি ২২, ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা তথ্য চালের দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে ঈদুল আজহার টানা ১০ দিনের ছুটি
জানুয়ারি ২২, ২০২৬ছয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনীতে সংসদীয় আসন রয়েছে তিনটি। ফেনী-১ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
ছয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনীতে সংসদীয় আসন রয়েছে তিনটি। ফেনী-১ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার পৈতৃক বাড়িও এ জেলায়। সে হিসাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলটি। ৯২৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ জেলায় মোট ভোটার ১৩ লাখ ৩০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ৬ লাখ ৮৭ হাজার আর নারী ভোটার ৬ লাখ ৪৩ হাজার। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন আটজন। মোট ভোটারের প্রায় ৪৫ শতাংশই তরুণ। যারা এবারের নির্বাচনে সামগ্রিক ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
আসনভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভারত সীমান্তঘেঁষা ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসন। এ আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৮৫ হাজার। এর মধ্যে তরুণ ভোটার ১ লাখ ৬৩ হাজার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মুন্সি রফিকুল আলম। পাশাপাশি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকবেন জামায়াতের এসএম কামাল উদ্দিন। এছাড়া জাতীয় পার্টির মোতাহের হোসেন চৌধুরী (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কাজী গোলাম কিবরিয়া (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আনোয়ার উল্ল্যাহ ভূঞা (বটগাছ), বাংলাদেশ কংগ্রেসের ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী (ডাব), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাহবুব মোর্শেদ মজুমদারও (হারিকেন) ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, এ আসনে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে সাংবাদিক এবিএম মূসা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭৯ ও ৮৬-এর নির্বাচনে লে. কর্নেল জাফর ইমাম বীর বিক্রম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর টানা ১৯৮৬-২০০৮ সাল পর্যন্ত চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
ফেনী সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ফেনী-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৭ হাজার। এ আসনে সাতটি নির্বাচনে তিনবার জয়নাল হাজারীসহ মোট চারবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বাকি তিনবার বিএনপির প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ’৯৬ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াত প্রার্থী দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিল। এবার এ আসনে জামায়াত মনোনীত শক্তিশালী প্রার্থী থাকলেও জোটগত কারণে আসনটিতে প্রার্থী হয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তার প্রতীক ঈগল। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন দুইবারের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি। তারা ছাড়া নির্বাচনী মাঠে থাকবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঞা। তিনি হাতপাখা প্রতীকে লড়বেন। এছাড়া তারা প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সামসুদ্দিন মজুমদার, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) জসিম উদ্দিন (কাঁচি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হারুনুর রশিদ ভূঞা (রিকশা), ইনসানিয়াত বিপ্লবের তাহিরুল ইসলাম (আপেল), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ আবুল হোসেন (বটগাছ), গণঅধিকার পরিষদের মো. তারেকুল ইসলাম ভূঞা (ট্রাক), আমজনতা দলের সাইফুল করিম মজুমদার (প্রজাপতি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল (ঘোড়া)।
দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-৩ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৮ হাজার। এর মধ্যে ২ লাখ রয়েছেন তরুণ ভোটার। এ আসনে চারবার বিএনপি, দুবার আওয়ামী লীগ ও একবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী দিলেও তার অবস্থান ছিল তৃতীয়। তবে প্রতিবারই এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সোনাগাজী উপজেলা থেকে। এবারই প্রথম দাগনভূঞা অঞ্চল থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জামায়াত প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডাক্তার ফখরুদ্দিন মানিক। এছাড়া বটগাছ প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকবেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী। জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান লড়বেন লাঙ্গল প্রতীকে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সাইফ উদ্দিন হাতপাখা ও ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আবু নাছের লড়বেন চেয়ার প্রতীক নিয়ে। তাদের সঙ্গে মই প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আবদুল মালেক এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী হাসান আহমেদ (আপেল)।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার মোট ভোটারের ৪৫ শতাংশই তরুণ। যাদের বয়স ১৮-৩৭ বছরের মধ্যে। তারা নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ভোটার হয়েছেন। পরের নির্বাচনগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক না হওয়ায় নতুন ভোটাররা ফলাফলে প্রভাব রাখতে পারেননি। এসব ভোটারের বেশির ভাগই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট লালন করেন। এবারের নির্বাচনে এসব নতুন ভোটারই ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।
এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ফেনীর সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ফেনীর তিনটি আসনে এবার প্রায় অর্ধেক ভোটারকেই আমরা নতুন ভোটার মনে করছি। কারণ ২০১৪, ’১৮ ও ’২৪ সালের নির্বাচন প্রতিদ্বদ্বিতাপূর্ণ না হওয়ায় কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার আগ্রহ ছিল না ভোটারদের। অর্থাৎ ২০০৮ সালের পর যারা ভোটার হয়েছেন তাদের অনেকেই এবার প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যা জেলার মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক। এসব নতুন ভোটার নির্বাচনের ফলাফল বদলে দিতে পারেন বলে আমরা মনে করি।’


