মডেল নির্বাচনের প্রত্যাশা: অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট চায় যুক্তরাষ্ট্র, আশ্বাস বাংলাদেশের
জানুয়ারি ২১, ২০২৬
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা
জানুয়ারি ২১, ২০২৬
মডেল নির্বাচনের প্রত্যাশা: অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট চায় যুক্তরাষ্ট্র, আশ্বাস বাংলাদেশের
জানুয়ারি ২১, ২০২৬
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা
জানুয়ারি ২১, ২০২৬

জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অপারেটররা রমজানের আগেই এলপিজি সংকট কাটার প্রত্যাশা

দেশে চলমান তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট আসন্ন রমজান ও নির্বাচনের আগে সমাধান হয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এলপিজি অপারেটররা।

দেশে চলমান তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট আসন্ন রমজান ও নির্বাচনের আগে সমাধান হয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এলপিজি অপারেটররা। তারা বলছেন, সংকট কাটাতে চলতি জানুয়ারি ও আগামী ফেব্রুয়ারিতে এলপিজি আমদানির যে প্রাক্কলন করা হয়েছে, তা দেশে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

গতকাল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে এলপিজি অপারেটরদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে এলপিজির বর্তমান বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণে আলোচনা হয়। সেখানেই এলপিজি নিয়ে সংকট কেটে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ব্যবসায়ীরা।

বৈঠকে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে এবং রমজানে যেন এলপিজির কোনো ঘাটতি না থাকে সে লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে অপারেটররা এলপিজি আমদানির যে কমিটমেন্ট করেছেন তা যেন বাস্তবে প্রতিফলিত হয়। সে লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে সরকারের পক্ষ থেকেও সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’

সভায় উপস্থিত এলপিজি অপারেটররা জানান, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিরূপ পরিস্থিতির কারণে এলপিজি আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে অপারেটরদের মধ্যে কেউ কেউ মূল্য বৃদ্ধি করছেন— এমন অভিযোগ তারা অস্বীকার করেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, দেশে সংকট কাটাতে চলতি মাসে ১২টি কোম্পানি ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ টন এলপিজি আমদানির প্রাক্কলন করা হয়েছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১০০ টন আমদানি করা হবে। আমদানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে এ সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে ব্যবসায়ীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জ্বালানি বিভাগের ওই বৈঠকে এলপিজি খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরীসহ দেশের এলপিজি ব্যবসায়ী ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে আজম জে চৌধুরী বলেন, ‘দেশে এলপিজি সংকট কাটাতে মূলত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জ্বালানি উপদেষ্টাসহ এ খাতের স্টেকহোল্ডাররা বসেছিলেন। কীভাবে দ্রুত এ সংকট কাটানো যায় সেই বিষয় ছিল আলোচনার মূল লক্ষ্য। অপারেটররা এলপিজি আমদানির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন, তা যদি যথাসময়ে আমদানি করা যায়, তাহলে আসন্ন রমজানের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। মূলত জনসাধারণ ও গ্রাহকের স্বার্থ বিবেচনায় ব্যবসায়ীরা এলপিজি সংকট কাটাতে বদ্ধপরিকর।’

সভায় জ্বালানি বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যরা ও জ্বালানি বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা অংশ নেন।

দেশে প্রতি মাসে গড়ে ১ লাখ ২০ হাজার টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বাজারে আকস্মিকভাবে এ জ্বালানির সংকট চলছে। ১ হাজার ৩০০ টাকার এলপিজি সিলিন্ডার বাজারে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি টাকা দিয়েও এলপিজি না পাওয়ার কথা জানান ভোক্তারা। এ পরিস্থিতির মধ্যে এলপিজি খাত নিয়ে নানা ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *