বেক্সিমকোর তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানি ১২ কার্যদিবসের মধ্যে পর্ষদ সভা সম্পন্ন করতে বিএসইসির আদেশ
জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
বিপিএল নোয়াখালীকে হারিয়ে শীর্ষে উঠল চট্টগ্রাম
জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
বেক্সিমকোর তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানি ১২ কার্যদিবসের মধ্যে পর্ষদ সভা সম্পন্ন করতে বিএসইসির আদেশ
জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
বিপিএল নোয়াখালীকে হারিয়ে শীর্ষে উঠল চট্টগ্রাম
জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

সম্পর্ক মেরামতের ইঙ্গিত দিয়ে পারস্পরিক শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিল চীন-কানাডা

আগামী ১ মার্চের মধ্যে কানাডীয় ক্যানোলা তেলের ওপর আরোপিত শুল্ক ৮৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনবে চীন। বিপরীতে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) ওপর ‘মোস্ট-ফেভার্ড-নেশন’ হারে ৬ দশমিক ১ শতাংশ শুল্ক আরোপে সম্মত হয়েছে কানাডা।

পারস্পরিক শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন ও কানাডা। বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এ ঘোষণা আসে। এ সিদ্ধান্তকে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর বিবিসি।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সাংবাদিকদের জানান, আগামী ১ মার্চের মধ্যে কানাডীয় ক্যানোলা তেলের ওপর আরোপিত শুল্ক ৮৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনবে চীন। বিপরীতে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) ওপর ‘মোস্ট-ফেভার্ড-নেশন’ হারে ৬ দশমিক ১ শতাংশ শুল্ক আরোপে সম্মত হয়েছে কানাডা।

এ সমঝোতাকে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের কারণে বেইজিং ও অটোয়ার সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। বৈঠক শেষে সম্পর্কের এ ‘টার্নঅ্যারাউন্ড’-এর প্রশংসা করেন শি জিনপিং। একই সঙ্গে এটি মার্ক কার্নির জন্যও কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ প্রায় এক দশকের মধ্যে তিনিই প্রথম কোনো কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি চীন সফর করলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে বিকল্প বাণিজ্য অংশীদার খুঁজতে আগ্রহী হয়েছে কানাডা। কার্নি নিজেও এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতিই কানাডাকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী করে তুলেছে। বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা ছিল ‘বাস্তবসম্মত ও সম্মানজনক’। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, সব বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান এক নয়। মানবাধিকার, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ ও কূটনৈতিক ‘রেড লাইন’ নিয়ে তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ সফর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য দেশগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, চীন নিজেকে একটি স্থিতিশীল বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। সেইসঙ্গে ‘উইন-উইন’ সহযোগিতার বার্তা দিচ্ছে বেইজিং। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ও আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বেইজিং সফর করেছেন। শিগগিরই যুক্তরাজ্য ও জার্মানির শীর্ষ নেতাদের চীন সফরের সম্ভাবনাও রয়েছে।

কার্নি বলেন, বিশ্ব আজ নাটকীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিবর্তিত বাস্তবতায় কানাডা কীভাবে নিজের অবস্থান নির্ধারণ করবে, সেটিই আগামী কয়েক দশকে দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণ করবে।

২০২৪ সালে কানাডা চীনা ইভির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। জবাবে চীন ক্যানোলা বীজ ও তেলসহ দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের কানাডীয় কৃষিপণ্যে শুল্ক বসায়। এর ফলে ২০২৫ সালে চীনে কানাডার রপ্তানি প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *