
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত আলোচনার জন্যও
জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
ডিএসইএক্স সূচক সমন্বয় ইউনিলিভার কনজিউমার ও বেক্সিমকোসহ বাদ পড়েছে ১৬ কোম্পানি
জানুয়ারি ১৩, ২০২৬গতকাল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল দাবি করেন, আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, আসন্ন বিশ্বকাপে তিনটি কারণে ভারতের মাঠে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গতকাল দাবি করেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়ে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং তিনটি কারণে ভারতের মাঠে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আইসিসি জানিয়েছে। যদিও গতকাল রাতে ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র খবরে বলা হয়েছে, আসিফ নজরুলের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে আইসিসি।
গতকাল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল দাবি করেন, আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, আসন্ন বিশ্বকাপে তিনটি কারণে ভারতের মাঠে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আইসিসির চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনটি কারণে বাংলাদেশ টিমের নিরাপত্তা শঙ্কা বাড়বে। প্রথমত, বাংলাদেশ দলে যদি মুস্তাফিজুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সমর্থকরা যদি জাতীয় দলের জার্সি পরে ঘোরাফেরা করেন। তৃতীয়ত, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তত দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে।’
এর পরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ক্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি আইসিসির এমন পরামর্শকে ‘উদ্ভট’ ও ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আইসিসি যদি আশা করে আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠ বোলারকে (মুস্তাফিজ) বাদ দিয়ে দল গড়ব, সমর্থকরা জার্সি পরতে পারবে না আর খেলার জন্য নির্বাচন পিছিয়ে দেব, তবে এর চেয়ে অবাস্তব প্রত্যাশা আর হতে পারে না।’
ইএসপিএনক্রিকইনফোর গতকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির একটি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন বিসিবির নিরাপত্তা দলের কাছে তুলে ধরা হয় এবং আইসিসি এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো সামগ্রিক হুমকি নেই। তবে কিছু ভেন্যুতে ঝুঁকি কম থেকে মাঝারি ও কিছু ভেন্যুতে কম থেকে শূন্য—বিশ্বজুড়ে আইসিসির মূল্যায়ন মানদণ্ড অনুযায়ী যা ম্যাচ সরিয়ে নেয়ার জন্য যথেষ্ট কারণ হিসেবে গণ্য হয় না।
আইসিসি এ নিরাপত্তা মূল্যায়নের বিবরণ বিসিবির কাছে তুলে ধরে গত সপ্তাহে। বিষয়টি আসিফ নজরুলের সামনে আসে গতকাল। ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, আসিফ নজরুলের দাবিগুলোকে আইসিসি ‘পরিস্থিতির ভুল ব্যাখ্যা’ হিসেবে দেখছে। নিরাপত্তা মূল্যায়নে এমন কোনো বিষয় নেই যে আইসিসি কোনো ক্রিকেটারকে দলে নেয়ার ক্ষেত্রে শর্ত দিয়েছে, অথবা সমর্থকদের তাদের জার্সি পরে ঘোরাফেরা না করার নির্দেশ দিয়েছে, অথবা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন স্থগিত করা উচিত।
সম্প্রতি ভারতীয় বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে মুস্তাফিজকে বাদ দিয়েছে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এতে ক্ষুব্ধ হন বাংলাদেশের ক্রীড়ামোদীরা। ক্রীড়া উপদেষ্টার নির্দেশে বিসিবি দ্রুতই চিঠি লিখে আয়োজক সংস্থা আইসিসিকে জানিয়ে দেয়, নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ দল, তারা খেলতে চায় অন্য কোনো দেশে।
ক্রীড়া উপদেষ্টা একাধিকবার বলেছেন, কোনোভাবেই ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ দল। যদিও আইসিসি কোনো সুখবর দেয়নি বিসিবিকে। ভারতের কিছু গণমাধ্যম গতকাল দাবি করে, কলকাতা ও মুম্বাই থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ চেন্নাই ও কেরালায় সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা চলছে। এরপর আসিফ নজরুলের বিস্ফোরক মন্তব্য। সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সামাজিক মাধ্যমে পরিষ্কার করেন, ক্রীড়া উপদেষ্টার বলা ওই চিঠি একটি ‘অভ্যন্তরীণ নোট’।
রাতে বিসিবিও এক বার্তায় জানায়, ‘ক্রীড়া উপদেষ্টা আজ যে চিঠির কথা বলেছেন, পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ঝুঁকি সম্পর্কিত বিসিবি ও আইসিসির নিরাপত্তা দলের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের সূত্র ধরে বলা। এটি আইসিসির প্রতি ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ সরিয়ে নিতে বিসিবির অনুরোধের আনুষ্ঠানিক জবাব নয়। বিসিবি আবারো জানাচ্ছে যে দলের নিরাপত্তার স্বার্থে ভেন্যু নিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ জানিয়েছে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে। বোর্ড নিশ্চিত করছে যে এ ব্যাপারে এখনো তারা আইসিসির আনুষ্ঠানিক জবাবের জন্য অপেক্ষা করছে।’
তবে এ নিয়ে আইসিসির অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানায় ইএসপিএনক্রিকইনফো। অর্থাৎ আগের সূচি অনুযায়ীই দলগুলো খেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি খুঁজে দেখতে আইসিসি একটি স্বাধীন এজেন্সিকে দায়িত্ব দিয়েছিল এবং সেই এজেন্সি জানিয়েছে, বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই, পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।


